মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অসহ শক্তির বিরুদ্ধে ভাষ্য

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫
  • সিরাজুল এহসান

মুনতাসীর মামুনের আলোচ্য বইয়ের নাম ‘লড়াই চলছে, লড়াই চলবে’। নাম দেখে যে কারোরই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক এ লড়াইটা কার বিরুদ্ধে, লড়ইটা করছেইবা কে? কে কার প্রতিপক্ষ? এর সামগ্রিক উত্তর না মিললেও অন্তত কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাবে গ্রন্থভুক্ত একটি ভাষ্যে। একটু উদ্ধৃত করা যাক ভাষ্যের কিছু অংশ ‘... আমাদের জেনারেশনের অধিকাংশ ধর্মের অপব্যবহারের বিরোধী। পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি ভাষার অপমান। আর আমাদের দমানোর জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা ও ব্যবহার। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া, ভুট্টো, গোলাম আযম, নিজামী ও অন্যকথায় পাকিস্তানি সেনা, পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ বা জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ ৯ মাসে যত মুসলমান হত্যা করেছে, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে আজ পর্যন্ত তা করা হয়নি। অথচ আমরা বলি ইসলাম শান্তির ধর্ম।

বাংলাদেশে উগ্র ইসলাম অনেকবারই চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে, সম্ভব হয়নি। তবে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আদিকালের মতো এখানেও চলেছে।’... এ ভাষ্যটির শিরোনাম ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আমরা মানতে পারি না।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও রাজনীতিতে ধর্মের যে অপব্যবহার ঘটেছে এবং ঘটছে তার বিরুদ্ধে যে ক’জন প্রগতিভাবনার মানুষ সরব হয়ে কলমসহ সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, মুনতাসীর মামুন এর মধ্যে অন্যতম প্রধান। এ বইয়ে রয়েছে এই ধর্মব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কর্মকা-ের বিবরণ ও বিশ্লেষণ। রয়েছে উত্তরণের বাতলে দেয়া পথ। ভুল পথে পরিচালিত রাজনীতিবিদদের কর্ম ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্তদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে এ বইয়ের একাধিক নিবন্ধে। সংসদ, সংসদীয় গণতন্ত্র, অসুস্থ রাজনীতি, সমাজ-সংস্কৃতির নানাদিকে তিনি আলোকপাত করেছেন গ্রন্থভুক্ত বিভিন্ন ভাষ্যে। ইতিহাসের উপাদানও এনেছেন দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে। তেমনি একটি ভাষ্য ‘বঙ্গবন্ধুর আগারতলা যাত্রা’। এ নিবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি অনালোচিত অধ্যায় ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট সৃষ্টির কিছু নেপথ্য কথা, যা বর্তমান প্রজন্ম কেন অনেক পরিণতজনই বোধ করি জানার বাইরে আছেন। বঙ্গবন্ধুর আগরতলা সংযোগের ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্তসমৃদ্ধ চমৎকার উপস্থাপন এ লেখাটি।

২০১১ থেকে ’১৪ পর্যন্ত দেশে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা ঘটনা ঘটেছে, যার ঐতিহাসিক মূল্য হয়ত এখন অনুধাবন সম্ভব নয়। কিন্তু কালের প্রবাহে এক সময় হয়ে উঠবে মূল্যবান ও অতিপ্রয়োজনীয়। এই গ্রন্থাধীন যেসব নিবন্ধ ও ভাষ্য রয়েছে তার সিংহভাগই সময়ের ঘটে যাওয়া ঘটনার বিশ্লেষণ, যা আগামী দিনের গবেষক ও ইতহাসবিদদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। বিশেষত রাজনৈতিক ভাষ্য হয়ে থাকবে দিকনির্দেশনা হিসেবে।

যেসব অপশক্তি, ধর্মান্ধতা, কূপম-ূকতা দীর্ঘদিন সমাজদেহ আঁকড়ে আছে তা আবার রাজনীতিতে যোগ হওয়ায় রাষ্ট্রের কাঠামো-অবকাঠামোয় পড়েছে ও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এর বিরুদ্ধে যদিও লড়াই চলছে দৃশ্যত বা কার্যত খুব জোরালো নয়। এমন কথাটিই বলতে চেয়েছেন মুনতাসীর মামুন। উচ্চস্বরেই তাই তিনি বলেন, ‘লড়াই চলছে, লড়াই চলবে’।

আলোচ্য গ্রন্থের ভাষ্যগুলোর শিরোনাম দেখলেই অনুধাবন করা যাবে লেখক কী বলতে চেয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে নানা সময়ে প্রকাশিত নিবন্ধ ভাষ্যগুলো সঙ্কলিত হয়েছে এ গ্রন্থে। ৫৪টি লেখার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু শিরোনাম এমনÑ আমরা যা বুঝি তা কেন রাজনীতিবিদরা বোঝেন না, হুঁশিয়ার ॥ খান সেনারা এখন রাস্তায়, বিএনপির ‘ভাড়াটে’ তত্ত্ব, বর্জনের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের দুরাশা, দুর্বৃত্তহীন ছাত্রলীগ সবার কাম্য, ধর্মবিরোধী এসব কর্মকা-ের শেষ কোথায়? ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আমরা মানতে পারি না, ভ-দের রাজনীতি আর কতদিন সহ্য করতে হবে, জবানে লেবাসে বাঙালি, দিল হ্যায় পাকিস্তানি, বাস পোড়ালে, মানুষ পোড়ালেই কি ইলিয়াস অন্তর্ধানের রহস্য উন্মোচিত হবে? বঙ্গবন্ধুর আগরতলা যাত্রা, খালেদার চিঠি : ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে নিজ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে কে? আমরা না বিদেশীরা? একজন উস্কানি বেগমের হতাশা, ক্ষোভ, যন্ত্রণা ও ক্রোধ, পাকিস্তানিদের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে আর কত কাজ করতে হবে? আদালতের কাঠগড়ায় রবীন্দ্রনাথ, জামায়াতী এ্যাকশন, বিএনপির উজ্জীবন এবং আওয়ামী লীগের আত্মসন্তুষ্টি, মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ না করলে খালেদা জিয়া কিছুই পাবেন না ইত্যাদি।

চলতি বছর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। ৪১৬ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৬০০ টাকা। বইটি দ্রুত পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৫

১৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: