আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডলারের স্থান দখল করবে ইউয়ান ও ইউরো!

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫
  • এস এম শাহীনুজ্জামান

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ধারণা সূচকে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি হবে বহুমুখী। মনে করা হচ্ছে, নতুন বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থাপনায় মার্কিন ডলার তার জায়গা হারাবে চীনের ইউয়ান এবং ইউরোর কাছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রাসী বিনিয়োগ নীতি এবং ধারাবাহিক পুনর্বিনিয়োগ আগামী দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করবে এবং এটা সম্ভবপর হবে চীনের অর্থনীতির স্ফীতির জন্যে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মানসুর উইলামির মতে, ‘বস্তুত ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতিসমূহের উত্তরণ ঘটবে খুব দ্রুত। বিশ্বব্যাংকের মতে, আগামী ১৫ বছর বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, যার আবার ৪০ শতাংশ অবদান থাকবে উন্নয়নশীল দেশসমূহের এবং আগামী দশকজুড়ে যেহেতু চীনের বিনিয়োগ প্রবাহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোরালো হবে, ফলে এই চীনের প্রভাব এবং বিনিয়োগ প্রবাহ একটি সুনির্র্দিষ্ট অবস্থা তৈরি করবে, যা হবে বহুমুখী মুদ্রা বিনিময় কাঠামো। এটা অবশ্যই ইউয়ানের শক্তিশালী অবস্থানের নির্দেশেই করবে। আগামী দিনের ছয় প্রভাবশালী অর্থনীতি ব্রাজিল, ভারত, চীনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া এই কাঠামোগত সংস্কারকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে।

বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জান্টিন ইফিউলিন মনে করেন, ‘বিশ্বঅর্থনীতির খুঁটিগুলোর ধারাবহিক স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থ প্রবাহের নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্নয়নশীল অনেক দেশই তাদের রিজার্ভ মুদ্রায় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এসব দেশ ঝুঁকবে ইউয়ান বা এই ছয় অর্থনীতির যে কোনটির প্রতি।’ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটা শুধু মাত্র দুটো মুদ্রার (ইউয়ান বা ডলার) বিকল্প প্রতিস্থাপন হবে না বরং অনেক অন্য মুদ্রারও শক্তিশালী আবির্ভাব ঘটাবে, যার মধ্যে একটি হতে পারে রুবল।

জার্মানির ডয়েটসে ব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ইউরোশ্লাব লিসভেলিস্ক অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেন। তার মতে, মার্কিন ডলারের একচেটিয়া প্রভাব আরও অনেক দিন দীর্ঘায়িত হবে। যেহেতু পুরো কাঠামোই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে ডলার, ইউরো এবং ইউয়ানের ওপর। কিন্তু আগামী দশকে ধেয়ে চলা এই ছয় বাড়ন্ত অর্থনীতির ব্রিকস ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক একচেটিয়া এই কাঠামোতে ভাগ বসাবে এবং ইউরো, ডলার, ইয়ানের পাশাপাশি ইউয়ান, রুবল হয়ে উঠবে বিকল্প রির্জাভ মুদ্রা। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের চালকের আসনে বসা অর্থনীতিগুলোকে তাদের স্বার্থেই জায়গার ভাগ দিতে হবে এই ছয় অর্থনীতির সুসংহত অবস্থানের কারণে।

আগামী দশকে যে এই অবস্থার সূচনা হবে, তা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই আগাম সতর্কতা হিসেবে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনায় মুদ্রা রিজার্ভ বহুমুখী বা ছড়িয়ে দেয়ার নীতি গ্রহণ করছে। আবার কোন কোন দেশ অতি সতর্কতা হিসেবে স্বর্ণের মজুদ গড়ে তুলছে মুদ্রা রিজার্ভের পরিবর্তে। এই বলে এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে, এই মুদ্রাগুলো (ইউয়ান, রুবল) বর্তমানে সুসংগত মুদ্রা ডলার বা ইয়ানকে প্রতিস্থাপন করবে এবং ইউয়ান ও রুবল হয়ে উঠবে ডলার বা ইউরোর বিকল্প। বরং এই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করবে যে ডলার ইউরো, ইয়ান, ইউয়ান, রুবল, এমনকি কানাডা আস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইন্ডিয়ার মুদ্রাগুলো ওয়ার্ল্ড মানিটারি সিস্টেমে শক্তিশালী ভাগিদার হয়ে উঠতে পারে। মূলত বহুমুখী অর্থ ব্যবস্থাপনায় একচেটিয়া আধিপত্য বাদের অবসান ঘটবে। এ তো গেল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কথা। কিন্তু এই অবস্থার উন্মেষ ঘটবে তখনই, যখন বিশ্বের শক্তিবর্গের সামরিকীকরণের মাত্রা সীমিত হবে এবং অর্থনীতি সামরিক শক্তির দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হবে। ভবিষ্যত অর্থনীতির প্রশ্ন এখানেই। আর আমরা বাংলাদেশ এই সূত্রের বাইরে নই।

লেখক : একজন তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা

প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৫

১০/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: