হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যমুনা রিসোর্টের শুনানি ১৭ মে পর্যন্ত মুলতবি

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩০ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের (জেআরএল) সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিল নোটিশের ওপর শুনানি ১৭ মে পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে নোটিশের স্থগিতাদেশের ওপর চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থিতাবস্থাও ১৭ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

আদালতে যমুনা রিসোর্টের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার প্রায় এক হাজার ২০০ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিক মানের অবকাশ যাপন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ১৯৯৯ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছর মেয়াদী জমি ও স্থাপনার লিজ নেয় যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী সেতু কর্তৃপক্ষকে ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে যে পরিমাণ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তা পরিশোধ না করায় বকেয়া পড়ে। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সার্টিফিকেট অব সেটিসফেকশনে (সিএস) স্বাক্ষর না করায় জেআরএল ও সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতানৈক্য চরম আকার ধারণ করে। সর্বশেষ সেতু কর্তৃপক্ষের ১০৪তম বোর্ড সভায় জেআরএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয় জেআরএল কর্তৃপক্ষকে।

এ চিঠি পাওয়ার পর চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা জজ আদালতে দায়ের করা আরবিট্রেশন মিস কেস করে যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড। আদালত ওই সিদ্ধান্তের ওপর স্থিতাবস্থা প্রদান করেন। কিন্তু পরে গত ২ এপ্রিল বিচারিক আদালত এ আবেদনটি খারিজ করে দেন।

মিস কেসটি খারিজাদেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুরোধে টাঙ্গাইল কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমি মো. সায়েফ জেআরএল’র লিজকৃত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সিলগালা ও সিজার লিস্ট করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপেক্ষর গঠিত কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেন।

এরপর যমুনা কর্তৃপক্ষ বিচারিক আদালতের আদেশের পর হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে।

এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে গড়ে তোলা অবকাশ যাপন কেন্দ্রের বিষয়ে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল সংক্রান্ত নোটিশের কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে যমুনা রিসোর্টের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া চুক্তি বাতিল সংক্রান্ত খারিজাদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে তা জানতে চেয়ে ‍রুল জারি করেন আদালত।

এরপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। রোববার (২৬ এপ্রিল) শুনানি শেষে বিষয়টিতে স্থিতাবস্থা জারি করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিল পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানির পর ১৭ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৩০ পি. এম.

৩০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: