কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রত্যাশার সীমানাকেও ছাড়িয়ে

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

জনকণ্ঠ ॥ ষোল বছর পর পাকিস্তানকে কোন ম্যাচে হারানোর পাশাপাশি ওয়ানডে সিরিজে একবারে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল বাংলাদেশ। টাইগারদের এই সাফল্যে আপনার অনুভূতি জানতে চাই প্রথমে...

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ॥ এই সিরিজ জয়টি আমাদের ক্রিকেটকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেল। কেননা এই পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে কিংবা টি২০ কোন সংস্করণেই এর আগে আমরা এমন অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাতে পারিনি। সেই ‘৯৯ বিশ্বকাপে একবার মাত্র হারিয়ে ছিলাম ওদের। এরপর দীর্ঘ খরা। সেখানে সাবকন্টিনেন্টেই পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করা অনন্য এক অর্জন। বিশ্বকাপে যে ভাল পারফরম্যান্স আমরা দেখিয়েছি সেটি ধরে রাখা নিয়ে যে ক্ষুদ্র সংশয়টুকু ছিল, তা এই অর্জনের মাধ্যমে পুরোপুরি দূর হয়ে গেল।

জনকণ্ঠ ॥ সিরিজ শুরুর আগে হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন দেখেছিলেন?

লিপু ॥ সত্যি বললে ‘না’। এই অর্জন আসলে আমার প্রত্যাশার মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২-১এ টাইগাররা সিরিজ জিততে পারে এমনটা হয়ত ভেবেছিলাম। কারণ পাকিস্তানের এই দলটা অনেকটাই নতুন। বিশ্বকাপেও খুব একটা ভাল করেনি তারা। ২-১ নিঃসন্দেহে ভাল ফলই হতো। টি২০তে তারা নেহায়েত মন্দ দল না। সেখানে এই পারফরম্যান্স অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেই দেখতে পাচ্ছি যারাই দলে সুযোগ পাচ্ছে তারাই সেটি কাজে লাগাচ্ছে। এটা দলের উন্নতির বড় লক্ষণ। আমাদের ফিটনেস লেভেলেও অনেক উন্নতি হয়েছে। কারণ বেশ কিছু প্লেয়ার নিয়মিত খেলে গেলেও ইনজুরি কোন বাধা হতে পারেনি। একাদশ নির্বাচনে ক্যাপ্টেন কিংবা ম্যানেজম্যান্টকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। এজন্য অবশ্যই আমাদের ট্রেইনারদের সাধুবাদ জানানো উচিত।

জনকণ্ঠ ॥ টাইগারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পিছনে কোন জিনিসটি কাজ করছে বলে আপনার মনে হয়?

লিপু ॥ বড় কারণ, দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি পরিণত। বিশ্বকাপে যেমন মাহমুদ উল্লাহর উপর নির্ভর করে আমরা ভাল করলাম, এই সিরিজে আবার তামিম ফর্মে ফিরল। সঙ্গে মুশফিক, সৌম্য সরকারের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। সবাই ভাল ফর্মে থাকলে বড় দলকে হারানো বা অনেক বড় কিছু অর্জন করা যে কতটা সহজ হয় এই সিরিজে সেটিই প্রমাণিত হলো। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলেছি। সেক্ষেত্রে গেম প্ল্যানিংটা কঠিন ছিল। কারণ প্রতি ম্যাচই হয়েছে ভিন্ন্ ভিন্ন মাঠে এবং একারণে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা সাজাতে হতো। সেখানে এই সিরিজ হোমে হওয়ায় গেম প্ল্যানিং করাটা অনেক সহজ ছিল। আগে গেম প্ল্যানিং নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে না পারায় আমরা অনেক ম্যাচই হেরেছি। এবার সেই যায়গাটায় আমরা শতভাগ সফল।

জনকণ্ঠ ॥ বাংলাদেশ বড় দল গুলোকে হারাতে শিখেছে অনেক দিন। কিন্তু ধারাবাহিকতা বড় অভাব ছিল। ইদানিং সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নিয়মিত বড় দলগুলোকে হারাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কি করা প্রয়োজন?

লিপু ॥ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য প্রথমত খেলোয়াড়দের অনেক যতœশীল হতে হবে। কারণ তারা দীর্ষ দিন ম্যাচের মধ্যে আছে। তাই ফিটনেস লেভেলের দিকে বেশি মনযোগী হতে হবে। কারণ সামনে অনেকগুলো খেলা বা সিরিজ অপেক্ষা করছে। আমাদের ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার আরেকটি কারণ যেটি, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, যারাই এখন দলে আসছে তারা সবাই একাডেমী বা ‘এ’ দলের হয়ে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। এই জিনিসটা অব্যাহত রাখতে হবে। এত করে দেখা যাবে এখনকার মতো যে যখনই সুযোগ পাচ্ছে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বা সফল হচ্ছে। আর কোচ, নির্বাচক এবং ম্যানেজমেন্টের সবাইকেই এই সফলতার ভাগ দিতে হবে। কারণ ভাল কিছু অর্জনের পিছনে এই বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ইউনিটিটা যেন বজায় থাকে সেই দিকেও নজর রাখতে হবে।

জনকণ্ঠ ॥ যেহেতু আগামী বিশ্বকাপে দশ দলে নেমে আসছে সেক্ষেত্রে এখন নিশ্চয়ই র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি চাইবেন...

লিপু ॥ বাংলাদেশ কিন্তু এখন ভাল ক্রিকেট খেলছে। ধারাবাহিকভাবে সব সময়ই এমনটা করে যাওয়া অনেক কঠিন একটি কাজ। সামনের খেলাগুলো নিয়েই যদি বলি, বর্ষার সময় প্রায় চলে আসছে। তখন উইকেট ব্যাটের পক্ষে কথা বলবে বলে মনে হয় না। আমাদের চেষ্টা থকবে উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। হোমে যেহেতু খেলা তাই সুযোগটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। আর দশ দলের বিশ্বকাপের ব্যাপারে বলব আমাদের প্রতিবাদ যেন অব্যাহত থাকে। কারণ গ্লোবালাইজেশনের পক্ষে আমাদের মতামত তুলে ধরা জরুরী। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে টেস্ট খেলুড়ে দশটি দলই যেন বিশ্বকাপে খেলে সে ব্যাপারে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

জনকণ্ঠ ॥ টেস্ট সিরিজ শুরু হয়ে গেছে। এই সিরিজে কি আশা করছেন?

লিপু ॥ বর্তমান ফর্ম খেলোয়াড়দের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসি রাখবে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে আমরা দেখেছিলাম ব্যাটসম্যানরা বিশেষ করে তামিম বল ছেড়ে খেলার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষতা দেখিয়েছিল। ইমপ্রোভাইজিং সটস খেলা সবাই বাদ দিয়েছিল। তবে ওয়ানডের থেকে টেস্টে পাকিস্তানের বোলিংটা আমি এগিয়ে রাখব। এই সফরে দলের মান অনুযায়ী এখনও পাকিস্তান তেমন কিছু করতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবে টেস্টে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে। খুলনার যে উইকেট তাতে এখানে দুশ্চিন্তা করার তেমন কিছু নেই। আমরা যদি প্রোপার ক্রিকেট খেলি যেমনটা ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলেছি, তবে আমার মনে হয় ভাল কিছুই সম্ভব। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে টেস্ট ড্র করা। পরে পরিস্থিতি পক্ষে কথা বললে আক্রমণাত্মক খেলে জয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে।

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: