কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ব্রাজিলে জনরোষের মুখে ডিলমা সরকার

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

সম্প্রতি ব্রাজিলের বৃহত্তম নগরী সাও পাত্তলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসন অবসানের পর থেকে এতবড় বিক্ষোভ আর হয়নি। আয়োজকদের হিসেবে, বিক্ষোভ সমাবেশে ১০ লাখ লোকের উপস্থিতি ছিল; আর রক্ষণশীল হিসেবে এই সংখ্যা ২ লাখের বেশি নয়। একই দিনে দেশের ২৭টি প্রদেশের কয়েক ডজন শহরে মোট ২২ লাখ লোক প্রেসিডেন্ট ডিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বলে পুলিশের হিসাব।

কেন এই বিক্ষোভ? কী চায় বিক্ষোভকারীরা? তারা প্রেসিডেন্ট ডিলমা রুসেফ সরকারের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি চায়। আর্থিক দিক দিয়ে প্রবল চাপের মধ্যে আছে ব্রাজিলের মানুষ। আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি পেট্রোবাসে কয়েক শ’ কোটি ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারির জন্য প্রেসিডেন্ট রুসেফের অভিশংসন পর্যন্ত দাবি করেছে। সরকার অবশ্য দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলছে যে, গত অক্টোবরের নির্বাচনে পরাজিত শক্তিগুলো এ বিক্ষোভ উস্কে দিয়েছে।

ডিলমা রুসেফ ও তাঁর বামপন্থী ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি) গত নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিপুল ভোটে জয়ী হয়। তবে সরকার গঠনের পর এই প্রশাসন দেশের অর্থনীতিকে সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতি ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে গণঅসন্তোষ। রুসেফ প্রথম মেয়াদে যেসব অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়েছিলেন দ্বিতীয় মেয়াদে এসে সেগুলো সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তার জন্য বাজেটের ঘাটতি যা কিনা জিডিপির পৌনে ৭ শতাংশ কাটছাঁট করা দরকার হয়ে পড়ে। এর জন্য কৃচ্ছ্রতার আশ্রয় নিতে হয়। ব্রাজিলের ক্রেডিট রেটিংয়ে অধোমুখী যাত্রা ঠেকাতেও এটার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। এমনকি রুসেফের সমর্থক শ্রমিক শ্রেণীও এতে ক্ষেপে উঠে। রুসেফপন্থীরা এই ব্যয়সঙ্কোচ নীতি এবং তাদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা কাটছাঁট করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং রুসেফের অর্থমন্ত্রী জোয়াকিমকে সমস্ত অনর্থের জন্য দায়ী করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জ্বালানি ও অন্যান্য জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাক-ড্রাইভাররা সড়ক অবরোধ করেন। সরকার তাদের অনেক দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ব্রাজিলের কংগ্রেসের দুটি পক্ষই সরকারপন্থী দলগুলোর প্রাধান্য। তবে রুসেফের মিত্র দলগুলোর অনেকেই সুবিধাবাদী। পেট্রোব্রাস কেলেঙ্কারি এবং প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় ধস নামার কারণে মিত্রদের পক্ষ ত্যাগের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। কংগ্রেসের যে ৩৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে তার মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই শাসক কোয়ালিশনের। এদের মধ্যে কংগ্রেসের দুই স্পীকারও আছেন। এরা নিজেদের বাঁচানের জন্য প্রেসিডেন্ট রুসেফের বিরুদ্ধে যেতে কুণ্ঠিত হবেন না।

এমনই এক বৈরী পটভূমিতে প্রেসিডেন্ট ডিলমা রুসেফ নমনীয় নীতি গ্রহণ ও বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংলাপে বসার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিন মাস আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়েছে। আরও একবার হবে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এসবের কোনটাই জনগণের ক্ষোভের আগুন নিভাতে পারবে বলে মনে হয় না। আগামীতে এই ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটবে আরও অনেক বিক্ষোভে। চলতি এপ্রিলেই নাকি আয়োজকরা আরও বড় বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল ২০১৫

২৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: