আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পূর্ণিমা উৎসবে

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

বৌদ্ধপূর্ণিমা বৌদ্ধধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সব বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মানুষ, এই দিনে উৎসবটি একযোগে পালন করে। মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সব ধর্মের মানুষের বসবাস এই দেশে। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে আছে সম্প্রীতিরবন্ধন, একে অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হয় অন্য ধর্মে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উৎসবে মেতে উঠে। জাত-ভেদ ধর্ম ভুলে আন্তরিক পরিবেশ গডে উঠে। মুসলিমরা যেমন অন্য ধর্মে বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী সহকর্মীদের নিমন্ত্রণ করে মিলাদ ও ঈদে, তেমনি হিন্দু-বৌদ্ধরাও নিমন্ত্রণ করে। মুসলিম ও খ্রীস্টানরা রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দিনটি পালন করে। সরকারী ছুটি থাকে। গণভবন ও বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পায় ও আতিথেয়তা গ্রহণ করে। টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন হয়। বৌদ্ধরা উৎসবের দিনে নতুন জামা-কাপড় পরিধান করে পেগোডায় যায়। ওখানে একযোগে সবাই প্রার্থনায় যোগ দেয়। ওখানে ব্যক্তি বিশেষে পঞ্চশিল ও অষ্টশিল গ্রহণ করেন। অষ্টশিল গ্রহণকারী ওইদিন মধ্যহ্ন ভোজের উপবাস শুরু করে থাকেন এবং পরদিন তাহা ভঙ্গ করেন। এছাড়া অষ্টশিল গ্রহণকারীরা প্রার্থনা ও ম্যাডিটেশন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

সন্ধ্যায় একযোগে প্রদীপ প্রজ্বলন করে সবাই প্রার্থনায় মিলিত হয়। এই ধর্ম প্রচারকরা ব্যস্ত থাকেন দিকনির্দেশনায় গৌতমবুদ্ধের জীবনে তিনটি মূল্যবান ঘটনা এই পূর্ণিমা তিথিতে সংগঠিত হয় বিধায় এই দিনের নাম বৌদ্ধপূর্ণিমা।

সেগুলো হচ্ছে জন্ম খ্রীস্টপূর্ব ৬৩৪ অব্দ লুম্বিনীকানন, নেপাল, বৌদ্ধ জন্মলাভ খ্রি:পূর্ব ৫৮৯ অব্দ উরবেলা, বুদ্ধগয়া, বিহার, ভারত এবং মহাপ্রয়ান খ্রী:পূর্ব ৫৪৪ অব্দ কুশীনগর উত্তর প্রদেশ, ভারত, বোধি জ্ঞান লাভের পর গৌতম সিদ্ধার্থ বুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি পান। এই ধর্মের মূল আবেদন হয মৈত্রী, ভালবাসা ও সম্প্রীতি। জীবহত্যা মহাপাপ। অহিংসা পরম ধর্ম। নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের আশ্রয়।

ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধর পূর্ব থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করে নতুন জামা-কাপড় জুতা। আত্মীয় বন্ধুবন্ধব সহকর্মীদের জন্য কেনা হয়ে থাকে উপহার হিসাবে এই জামা-কাপড় গহনা বইপত্র ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি গৌতম বুদ্ধের ছবি সংবলিত লকেট নানারকম সুদৃশ্য মূর্তি। উৎসবের দিন সকাল থেকে নতুল জামা-কাপড় পরে সবার সঙ্গে বিনিময় করে। শুভেচ্ছা কার্ড, ফেসবুকে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়ে থাকে। ঘরে ঘরে রান্না হয় উৎসবকালীন সুস্বাদু খাবার। নিমন্ত্রণ করা হয় আত্মীয় পরিজনকে। সকালে চলে যায় পেগোডায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে প্রার্থনা, খাবার দাবার ও বাতি প্রজ্বলন। এরপর পেগোডা ত্যাগ করে প্রত্যেকে ঘরে উৎসবের আমেজ ছড়াতে থাকে রাতভর।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ব্যবসায়ীগণ যুগোপযোগী ফ্যাশনের শিশু-পোশাক শাড়ি থ্রি-পিস, শার্টপ্যান্ট, পাজামা পাঞ্জাবি, গহনা, জুতা ইত্যাদি বাজারে ছেড়েছে। গৌতমবুদ্ধের ছবিসহ লকেট-গহনা ব্যবসায়ীরা বাজারে ছেড়েছে।

বসুন্ধরার দুলহান উৎসবের জমকালো শাড়ি লেহাঙ্গা ইত্যাদির আয়োজন করেছে। বেলি রোডের রঙ, সুতি, সাদা-কালো অঞ্জস্ নাভানা টাওয়ারের সুতি সাদা-কালো উৎসবকালীন পোশাক পাবেন এছাড়া শান্তিনগরে ইস্টার্ন প্লাসে ইমন জুয়েলার্স, বায়তুল মোকাররমের আপন জুয়েলার্স, রিনা জুয়েলার্সে পাবেন উৎসবকালীন গহনা। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে মেঘ, কাপড়ী বাংলা, তারা ও বাঙ্গালে পাবেন হালফ্যাশনের সব বয়সের উৎসবকালীন পোশাক-জুতা কিনতে চলে যান। এলিফেন রোডের লীবার্টি, ক্যাটস আই, ফেলকন ও কাঠিয়ায় চলে যান। এছাড়া বুসুন্ধরা ইস্টার্ন প্লাস রাজলক্ষ্মী যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক, আয়শা শপিংমল আরকেড প্লাজা, এসব মার্কেটে কেনাকাটা করার জন্য উপযোগী।

কাজী মেহের নিগার

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

২৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: