কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত ॥ ভোটারদের স্বস্তি ও শঙ্কা

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

মোয়াজ্জেমুল হক/মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আজ সোমবার রাত পোহানোর পর কাল বহুল প্রতীক্ষার সিটি নির্বাচন। ৫০ লক্ষাধিক জনঅধ্যুষিত এ নগরীর ১৮ লক্ষাধিক ভোটার আগামী পাঁচ বছরের জন্য ১ জন মেয়র, ৪১ সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত করার জন্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। রবিবার মধ্যরাতে শেষ হয়ে গেছে সব ধরনের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ জন ও সাধারণ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৯ জন। রবিবার নির্বাচনী প্রচারে জন্য নির্ধারিত শেষদিনে শেষবারের মতো মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা একযোগে পৃথক পৃথকভাবে তাদের প্রচারে শেষ কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

আজ সোমবার থেকে প্রচারে কোন সুযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোট ভিক্ষার তৎপরতা বাড়িয়ে দেবেন নিঃসন্দেহে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের ১২ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত এম মনজুর আলমের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটার মহল থেকে। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সকল প্রস্তুতি প্রায় সমাপ্তির পথে। আজ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হল থেকে ব্যালট পেপারসহ ১২ ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বুঝে নেবেন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার থাকবে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে রাজনৈতিক দলগুলো দুই প্রার্থীর পক্ষে বিভক্ত হয়ে প্রচারে নামলেও গণসংযোগ, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও প্রার্থীদের নিজেদের বক্তব্য ও প্রার্থীর পক্ষে সমর্থকদের বক্তব্য ছাড়া তাদের নিজস্ব অন্য কোন কৌশল আছে কিনা তা অজ্ঞাত।

তবে দুই প্রধান প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছেন। আ জ ম নাছির উদ্দিন অভিযোগ করে চলেছেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনজুর আলম ভোট কেনার জন্য অর্থ ছড়াচ্ছেন। পক্ষান্তরে মনজুর আলম আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকদের প্রতি ভয়ভীতি প্রদর্শনের। সর্বশেষ রবিবার দুপুরে মনজুর আলমের নির্বাচনী গণসংযোগ বহরে বিচ্ছিন্ন একটি হামলার ঘটনা ছাড়া তেমন অনাকাক্সিক্ষত বড় কিছু এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘটেনি। এতে সাধারণ মানুষ ও ভোটার মহল আশ্বস্ত থেকেছে এ পর্যন্ত। তবে কাল নির্বাচনের দিন কিনা কি হয় তা নিয়েও শঙ্কার কমতি নেই ভোটার মহলে।

শুধু অতীতে সাধারণ নির্বাচনে যেভাবে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, দাঙ্গা হাঙ্গামার যেসব ঘটনা ঘটত গত প্রায় দুই দশক ধরে ওই ধরনের মারাত্মক পরিস্থিতি ঘটার পরিস্থিতি এখন আর নেই। এরপরও ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে যে একেবারে ঘটবে না তা হলফ করে কেউ বলতে পারেন না। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের অতীত নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী যেমন পরাজিত হয়েছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পরাজয়ের রেকর্ড রয়েছে। এবারের মেয়র নির্বাচনও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে প্রতীয়মান। বিএনপির পক্ষ থেকে ভোট কারচুপির আশঙ্কা ব্যক্ত করা হলেও তা কতটুকু সত্য হবে না বাস্তবতা বিবর্জিত হবে তা আগামীকাল ভোটের দিন স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে ভোটার মহলের আশঙ্কা ভোট কেন্দ্র দখল করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এ মহানগরীর ১৫ থানা এলাকায় ও নগরীর বাইরে হাটহাজারী থানা এলাকার কিছু অংশসহ মোট ১৬টি থানা এলাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানা নদীর ওপারে হওয়ায় কর্পোরেশন এলাকার বাইরে পড়েছে। আবার হাটহাজারী থানা এলাকার ১২টি কেন্দ্র নগরীর ৬০ বর্গমাইলের মধ্যে পড়ায় সিটি কর্পোরেশনের আওতায় পড়েছে।

চট্টগ্রামের নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক দফতর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫ম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মেয়র প্রার্থী ১২ জন, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ২১৭ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৬২ জন। এবারের ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭১৯টি। সিএমপির ১৫ থানায় ভোট কেন্দ্র ৭০৭টি এবং নগরীর বাইরে হাটহাজারী থানার আওতায় পড়েছে আরও ১২টি কেন্দ্র।

এবার চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের আওতায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭১৯টি। কিন্তু কয়টি সাধারণ ও কয়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ বা কয়টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এক নির্বাচন কর্মকর্তা। তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী নগরীর ৫৯১টি ও হাটহাজারীর ৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

২৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: