রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব ও পুলিশের কৌশল

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার। তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের সহিংসতা রোধে বিশেষ নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করবেন তারা। এ জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে থাকছে র‌্যাবের পাঁচ হাজার সদস্য। একই সঙ্গে শনিবার রাত থেকেই পুলিশী বিশেষ টহল শুরু হয়েছে।

রবিবার উত্তরায় র‌্যাবের হেড কোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানালেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি জানান, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে তিন সিটি নির্বাচনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে র‌্যাব। তিনি বলেন, ‘এই নিরাপত্তা পরিকল্পনায় তিন সিটির ১৩৪ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬৮ মোবাইল পেট্রোল টিম, মোটরসাইকেল পেট্রোল টিম ১৩৪টি এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স থাকবে ৩৬টি। আর মোট সদস্য দায়িত্ব পালন করবে ৫ হাজার। নির্বাচনে সবার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য বলা হচ্ছে তাহলে কি র‌্যাবের ওপর মানুষের আস্থা নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজীর বলেন, ‘আস্থা অনাস্থার কোন বিষয় নয়। ইসি যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে।’ নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে মোটরসাইকেলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এ বিষয়ে আজ থেকে র‌্যাব পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের আরও জানানো হয়, নির্বাচনের দিন র‌্যাবের ১৩৪ মোটরসাইকেল টহল দল মাঠে থাকবে। সিটি নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। সে সব ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি টহল টিম, একজন কর্মকর্তা, দুটি মোটরসাইকেল টহল দল, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স থাকবে। এছাড়া একটি করে মনিটরিং সেন্টার থাকবে। সদর দফতর থেকেও মনিটরিং করা হবে।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। মোটরসাইকেল আরোহীদের ওপর রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। রবিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া এমনই আভাস দেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী-শনিবার রাত বারোটা থেকে শুরু হওয়া এই নিরাপত্তা ও তল্লাশি অভিযান মঙ্গলবার এপ্রিল রাত বারোটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহৃত যানবাহন এবং নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এই নিরাপত্তা নিষেধাজ্ঞা ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর রামপুরা, কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, উত্তরা, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশকে মোটরসাইকেল আরোহী এবং যাত্রীদের তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। রামপুরা থানার অপারেশন অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মোন্তাকিম এবং তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামও তাদের নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন বলে জানান তারা।

বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) সফিকুল ইসলাম মোল্লা জনকণ্ঠকে জানান, যে কোন মূল্যে নির্বাচন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। শনিবার রাতে অন্য এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারের নামে নাশকতা করতে আসা তিন যুবককে আটক করা হয়। তাদের মতো এমন আরও অনেক নাশকতাকারী উত্তরা এলাকায় রয়েছে, তাদের খোঁজা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০১৫

২৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: