রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গোলটেবিল বৈঠকে মেয়র প্রার্থীরা ॥ দুর্নীতিমুক্ত নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উন্নয়নে নির্বাচিত কমিশনারদের ক্ষমতা দেয়া, দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নগর ভবন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ¦ী মেয়র প্রার্থীরা। এদিকে স্থানীয় সরকার ও নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সিটির মধ্যে সমন্বয় করে কাজ না করলে সুষম উন্নয়ন হবে না। তাছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সবার আগে গুরুত্ব দেয়ারও দাবি জানান তারা।

শনিবার একটি দৈনিক পত্রিকার আয়োজনে ‘কেমন মেয়র হব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাচিত আমলা হওয়া যাবে না। সিটি কর্পোরেশনের বাইরেও অনেক স্থান রয়েছে, যারা সব সুবিধা ভোগ করলেও ট্যাক্স দেয় না। এসব নিয়ে ভাবতে হবে। সব মিলিয়ে নগর ভবনকে নগরবান্ধব করার পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ঢাকার চার পাশে নদী রয়েছে। এগুলোর পাড় ঘিরেই নগরকে আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। কিন্তু এগুলো নদী মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তিনি বলেন, এখন ঢাকাকে একটি জায়গায় চিন্তা করতে হবে। শহরের একটি অংশে যদি মশা নিধনের জন্য ওষুধ দেয়া হয়, আবার অন্যাংশে মশার বৃদ্ধি হয়, তবে সেটা হবে ভয়াবহ। ফলে দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে পেশাদারিত্ব থাকতে হবে। নির্বাচনী তফসিলে থাকা ২৮টি দায়িত্ব পালন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন যেন, মেয়রসর্বস্ব না হয়। বরং লোকাল সেলফ গর্বনমেন্ট হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বৈঠকে ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক বলেন, এটি জাতীয় নির্বাচন নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি করে সুন্দর নগর গড়তে কাজ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের একটি এ্যাকাউন্টিবিলিটি তৈরি করতে হবে। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য ভোটরদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বাস প্রতীকের উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়তে সরকার ও বেসরকারী উদ্যোগের সমন্বয় গড়তে হবে। এখানে সম্মিলিত ঢাকায় সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ সরকারবিমুখ হয়ে আসন্ন নির্বাচনে তাকে ভোট দেবেন বলে মনে করেন তাবিথ আউয়াল।

চরকা প্রতীকের উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমদ বাবলুও দুর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ার অঙ্গীকার করেন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি জানান তিনি। নগরের একজন বাসিন্দা হিসেবে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো দূর করার চেষ্টা করবেন বলে জানান একই সিটি কর্পোরেশনের চরমোনাইর পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ফজলে বারী মাসউদ। শহরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণে ইলিশ মাছ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন বলেন, সরকারের অন্তত ২০টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনকে কাজ করতে হয়। এ বিষয়ে সবার সঙ্গে সমন্বয় থাকতে হবে। শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি বর্তমানের যানজটকে দায়ী করছেন। টেলিস্কোপ প্রতীক নিয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গণসংহতি আন্দোলন সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জোনায়েদ সাকি বলেন, নবনির্বাচিত মেয়রদের তদারক করবে জনগণ। শহরে ব্যক্তিগত পরিবহনের চেয়ে মানসম্মত গণপরিবহন বৃদ্ধির ওপর জোর দেবেন তিনি। জাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নাদের চৌধুরী দলীয় প্রভাবমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সিটি কর্পোরেশন গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মানুষের জন্য কাজ করব। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সিপিবি-বাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাতি প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ব্যবসায়ীদের হাতে এ নগর নিরাপদ হবে না। মেয়রদের হাতে ক্ষমতা না রেখে কাউন্সিলরদের হাতেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে সমান উন্নয়ন হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে চলার বিকল্প নেই।

ঢাকা দক্ষিণের টেবিল প্রতীকের সিপিবি-বাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, এখানে সিটি কর্পোরেশনের বাজেটের ৫০ শতাংশই দুর্নীতিতে ব্যয় হয়। এ দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দক্ষিণের বাস প্রতীক নিয়ে জাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার পোস্টার ও নির্বাচনী প্রচার মাইক কেড়ে নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়দানকারীরা।

প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল ২০১৫

২৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: