মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অনন্য এ্যান্ডারসন...

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

এ্যান্ডারসন ভাল বোলার। ঠিক কতটা ভাল তারই স্বাক্ষর রাখলেন সেনসেশনাল পেসার। এন্টিগা টেস্টে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড ইতিহাসের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের মালিক বনে গেলেন ৩২ বছর বয়সী ‘ল্যাঙ্কাশায়ার হিরো’। ঠিক ১০০ টেস্টে এ্যান্ডারসনের মোট শিকার ৩৮৪। ১০২ টেস্টে ৩৮৩ উইকেট নিয়ে এতদিন ওপরে ছিলেন কিংবদন্তি স্যার ইয়ান বোথাম (১৯৭৭-১৯৯২)। এ্যান্ডারসন এন্টিগায় নেমেছিলেন ৩৮০ উইকেট সঙ্গী করে। প্রথম ইনিংসে ২, এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও ২ উইকেট নিয়ে ‘ইংলিশ সিংহাসনে’ অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান করা অধিনায়ক দিনেশ রামদিনকে সিøপে এ্যালিস্টার কুকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ইতিহাস গড়া ৩৮৪তম উইকেটটি নেন এ্যান্ডারসন। যদিও জেসন হোল্ডারের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি ইংলিশদের জয় পেতে দেয়নি। ম্যাচের পরিণতি হয়েছে ড্র। তবে শততম টেস্টে রেকর্ডের অপেক্ষায় থাকা জিমিকে উৎসাহ দিতে শুরু থেকেই স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাঁদের সামনেই বিরল অর্জনে নাম লেখাতে পেরে গর্বিত এ্যান্ডারসন, ‘এখানে পরিবারকে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। তাঁদের সামনে ইংলিশ কিংবদন্তি বোথামের রেকর্ড নিজের করে নেয়া আমার জন্য অনেক গর্বের মুহূর্ত।’

রামদিনকে সাজঘরে ফিরিয়ে রেকর্ড নিজের করে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে অভিনন্দন জানান সবাই। গ্যালারিতে স্মরণীয় মুহূর্তটি উদ্যাপন করেন এ্যান্ডারসনের পরিবারের সদস্যরা। বোথাম মাঠে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সঙ্গে সঙ্গেই টুইট করে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি। ‘আমি উচ্ছসিত। জিমির জন্য গোটা ইংল্যান্ড জাতিই আজ গর্বিত। সে পরিপূর্ণ এক বোলার। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে আসছে। অনেক অনেক জয়ে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই সময়ে ওর বোলিং আমি উপভোগ করেছি। উইকেট শিকারে ‘নাম্বার-ওয়ান’ হওয়াটা তাঁকেই মানায়। আমার বিশ্বাস সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জিমি দ্রুতই ৪০০ উইকেট শিকার করবে।’ লেখেন বোথাম। গ্রেট অলরাউন্ডার বোথাম ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ১০২ টেস্ট (৩৮৩ উইকেট, ৫২০০ রান) ও ১১৬ ওয়ানডে (১৪৫ উইকেট, ২১১৩ রান) খেলেন। ১৯৮৫ সালে বব উইলিসকে টপকে (৩২৫) সর্বোচ্চ শিকারির তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন সাবেক ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। পেসার হিসেবে সর্বোপরি টেস্ট ইতিহাসের দশম সর্বোচ্চ শিকারি এ্যান্ডারসন। ৫৫৩ উইকেট নিয়ে এ তালিকায় সবার ওপরে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা গ্লেন ম্যাকগ্রা। ৩৯৬ উইকেট নিয়ে বর্তমানে খেলা পেসারদের মধ্যে অষ্টম স্থানে প্রোটিয়া ডেল স্টেইন। পেসার ও স্পিনার মিলিয়ে সমান ৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিকারের রেকর্ডটি অবশ্য লঙ্কান গ্রেট মুত্তিয়া মুরলিধরনের। এ তালিকায় এ্যান্ডারসন আছেন ১৪তম স্থানে।

আধুনিক সময়ে সুইংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এ্যান্ডারসনের টেস্ট অভিষেক ২০০৩ সালে। ক্রিকেট মক্কা লর্ডসে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে জীবনের প্রথম ইনিংসেই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। এ পর্যন্ত ইনিংসে ৫ উইকেটে নিয়েছেন ১৬ বার, সেরা ৭/৪৩। ম্যাচে ১০ উইকেট ২ বার, সেরা ১১/৭১। কোচ এ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের পরিচর্যায় (২০০৯-২০১১ মৌসুমে) টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে ইংল্যান্ড। ইংলিশ ক্রিকেটের পুনর্জন্মবল বলা হয় ওই সময়টাকে। যেখানে মাঠে দলটির সাফল্যের অন্যতম রূপকার এই এ্যান্ডারসন। অধিনায়ক এ্যান্ড্রু স্ট্রস ও কোচ ফ্লাওয়ারের তুরুপের তাস ছিলেন তিনি। স্ট্রস-ফ্লাওয়ার, দুজনের কেউই আর ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে নেই। কিন্তু তা এখনও এ্যান্ডারসনকে ভুলতে পারেন না।

সাবেক ইংলিশ কোচ ফ্লাওয়ার যেমন বলেন, ‘আমি বরং ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের জন্য জিমিকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছি। মাঝে ইনজুরি, ফর্মহীনতা, দলের দৈন্য ওকে ভুগিয়েছে। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ সিংহাসনে বসাটা ওকেই মানায়। দেশটির ক্রিকেটের জন্য একটা বড় সম্পদ। যে খেলা চালিয়ে যাওয়া অবস্থাতেই বসল কিংবদন্তির কাতারে। আমি মনে করি সহসা সে ৪ উইকেটের গ-ি পেরিয়ে যাবে। একদিন ৫০০ বা তার বেশি শিকার করবে।’ তবে এজন্য দল হিসেবে ইংল্যান্ডকে গুছিয়ে উঠতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। ফ্লাওয়ার আরও যোগ করেন। ‘আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ইংল্যান্ডে প্রতিভার কোন ঘাটতি নেই। প্রয়োজন কেবল সঠিক পরিচর্যা। মাঠের বাইরে স্থিতিশীলতাও জরুরী। যখন দল হিসেবে ইংল্যান্ড ভাল করবে, বোলিংয়ে এ্যান্ডারসন একজন বড় মাপের পার্টার পাবে, তখন ও আরও ভাল করবে।’

নেতৃত্ব থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে সাবেক তারকা স্ট্রস বলেন, ‘জিমি কেবল গায়ের জোরে নয়, বল করার সময় মাথাটাও খাটাতে পারে। অধিনায়ক থাকাকালে আমি স্পষ্ট সেটা দেখতে পেতাম। অনেক ম্যাচে ও একাই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বল হাতে রয়েছে দারুণ কারুকাজ। দল হিসেবে ইংল্যান্ড গুছিয়ে উঠতে পারলে এ্যান্ডারসন আরও বহুদূর যাবে। আমি ওর সাফল্য কামনা করছি।’ এন্টিগায় প্রতিপক্ষ অধিনায়ক দিনেশ রামদিনের বাহবাহও পেয়েছেন এ্যান্ডারসন। রামদিন বলেন, ‘সে সবসময়ই পার্থক্য গড়ে দেয়া পেসার। আমরা আগে থেকেই ওকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। বোথামকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় ওকে শুভকামনা জানাই। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে পরের ম্যাচগুলোতে ঠিকমতো তাঁকে প্রতিহত করা।’

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০১৫

২২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: