কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সমস্যা সমাধানে প্রার্থীদের ॥ গতানুগতিক প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

মশিউর রহমান খান ॥ অভিজাত শ্রেণীর সঙ্গে অতি দরিদ্রদের বসবাস। আছে মাদকের ছড়াছড়ি। গুলশান লেক দূষণ ও দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, আবাসিক এলাকাকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার, জলাবদ্ধতা আর নোংরা আবর্জনা নিয়েই বাস করছে রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। নানা সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পরও চলতি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সঙ্কট নিরসনে এলাকার উন্নয়নে কাউন্সিলর প্রার্থীরা দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

১৯ নং ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনানী আবাসিক এলাকা ও মডেল টাউন গুলশান-১ ও ২ এর অংশ বিশেষ, কামাল আতাতুর্ক এ্যাভিনিউ, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, কাকলী ও বৌজার ও রাজধানীর অন্যতম বৃহত কড়াইল বস্তি উক্ত ওয়ার্ডের অন্তর্গত। নাগরিক সুবিধা তেমন না থাকায় অভিজাত এলাকার নাগরিকগণ আর অভিজাত নেই। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে সাধারণ মানের জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ এলাকার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার।

রাজধানীর সবচেয়ে অভিজাত দাবিদাররা এ এলাকায় বসবাস করলেও এর পাশেই রয়েছে বস্তিবাসী। এ যেন ধনীদের পাশেই অসহায়দের সম্মিলন। অভিজাত বলে দাবি করা হলেও এ এলাকায় মশা, নিয়ন্ত্রণহীন যানজট, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সরকারী ও বেসরকারী জমি দখল করে গড়ে ওঠা বস্তি। ক্ষমতাসীন সকল সরকারের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজির কারণে নাগরিকরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবাসিক এলাকা বলা হলেও অর্ধেকের বেশি স্থাপনায় অবৈধভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে দেশী-বিদেশী হোটেল মোটেলসহ নানা প্রতিষ্ঠান। আজ পর্যন্ত নির্বাচিত কোন কমিশনারই গুলশান লেক দখল প্রতিরোধ করতে সক্ষম হননি। পানি দূষণের ফলে লেকের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হয়ে আছে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটে রাতের বেলায় ছিনতাই তো অহরহই ঘটছে। বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। যাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সকল দলে নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। কূটনীতিক এলাকা বলে প্রচার করা হলেও বস্তির উন্নয়নে তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোঃ মফিজুর রহমান ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফারুখ হোসেন ভুইয়া। বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ দু’জনের মাঝে হওয়ার কথা থাকলেও সাংগঠনিক কারণে বিএনপির প্রার্থী ফারুখ হোসেন নীরব প্রচারে বেশ এগিয়ে রয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। গৃহকোন্দল আর একাধিক প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী অনেকটা বিপাকেই রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আল মামুন শানু, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী চৌধুরী গোলাম আহমেদ রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক রেজা বলেন, আমি নির্বাচিত হলে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী ও উক্ত ওয়ার্ডকে পূর্বের আভিজাত্য হিসেবে ফিরিয়ে আনব। এ ছাড়া এক সময়ের অলঙ্কার ও বর্তমানে এ ওয়ার্ড তথা রাজধানীর গলার কাঁটা গুলশান লেকের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দখল বন্ধসহ পানি পরিচ্ছন্ন করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেব। নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ উদ্যোগ হাতে নেব। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ মনজুর হোসেন বলেন, গুলশান এলাকার পাশেই আলোর নিচে অন্ধকার হিসেবে পরিচিত কড়াইল বস্তি। এ বস্তির নাগরিকদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।

২০ নং ওয়ার্ড ॥ শীতে অধিক মশা বর্ষায় হাঁটুপানি, মাদক নিয়ে সারা বছর চলে টানাটানি। এই নিয়ে বসবাস করছে রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের মহাখালী ও নিকেতনের বাসিন্দারা। বস্তি ও অভিজাত উভয় প্রকারে লোকের বসবাস এ ওয়ার্ডে। মহাখালীর একটি অংশে বস্তির লোকের বসবাস অপর অংশ নিকেতনে অভিজাত শ্রেণীর বাস। যে সরকারই ক্ষমতায় যায় সে সরকারের লোকজনই এ এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে শ্রুতি রয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিÑ এ তিন দলেরই ভোটার রয়েছে। তবে সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তির সুযোগ নিয়ে যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে বিএনপি। সরেজমিন এমন আভাস পাওয়া গেছে।

মহাখালী, ওয়্যারলেস গেট, টিভিগেট, দক্ষিণপাড়া, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের একাংশ, সাততলা বস্তি, ২ নম্বর রোড, আকিজপাড়া, বন ভবনের পেছনে, হাজারীপাড়া, মসজিদপাড়ার একাংশ ও গুলশানের নিকেতন আবাসিক এলাকা নিয়ে ২০ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। সরু আর ড্রেনবিহীন রাস্তা, যত্রতত্র নোংরা আবর্জনা, সামন্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি উঠে নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এ এলাকার নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ওয়ার্ডে মোট আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হচ্ছে ৩ জন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির ২ জন সাইফুল ইসলাম পিন্টু, রাশেদুল ইসলাম পিন্টু। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শাহ আলমের মধ্যে দলগতভাবে মোহাম্মদ আসলামকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল করে বর্তমানে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মোঃ নাছির ওরফে কালা নাছির ও রাশেদুল ইসলাম মুন্না রয়েছেন। বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হাবিব উল্লাহ। উক্ত ওয়ার্ডে একাধিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় বিএনপির প্রার্থী বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাল লোক হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলামের সমাজসেবক হিসেবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে। রয়েছে সাংগঠনিক ক্ষমতা। যে কোন সমস্যায় তিনি এগিয়ে আসেন। কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে এ ওয়ার্ড থেকে মাদককে সমূলে নির্মূল করব। এরপর সরকারের সহায়তায় পুনর্বাসন করার পর বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করব।

২১ নং ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, দক্ষিণ বাড্ডা, গুপিপাড়া, মোল্লাপাড়া, প্রগতি সরণি, আলতাফুন্নেছা স্কুলের গলি, ক, খ, গ এলাকাসহ শুধুমাত্র বাড্ডা এলাকা নিয়েই ২১ নম্বর ওয়ার্ডটি অবস্থিত। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার। নাগরিক সমস্যার অন্তহীন অভিযোগ এ ওয়ার্ডে বসবাসকারী নাগরিকদের। দীর্ঘদিন নির্বাচিত কোন কাউন্সিলর না থাকায় এ সমস্যা আরও তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মশা-মাছির চরম উৎপাত, নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতি সংঘটিত হওয়া, সিটি কর্পোরেশনের কোন কাঁচাবাজার না থাকা, অস্থায়ী কাঁচাবাজারের সমস্যায় সাধারণের ভোগান্তি যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। দাফনের জন্য নেই কোন কবরস্থান। ফলে বাধ্য হয়ে রাজধানীর অন্যত্র নিয়ে মাটি দিতে হয়। সরকারী জায়গা না থাকায় সরকারী কোন কমিউনিটি সেন্টার। স্থানীয় নাগরিকদের মতে রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় অনেকটা বাধ্য হয়েই এলাকাবাসী বসবাস করছেন। এ ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে ৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী এজিএম শাসসুল হক ও আওয়ামী লীগ বাড্ডা থানার সভাপতি ২১ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় নেতা মোঃ ওসমান গনি। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তুষার হাওলাদার ও আসোয়াত তমাল রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে গোলাম মোস্তফা ব্যানার্জী রয়েছেন। তবে নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরই হবে। এ ছাড়া অন্যরা তেমন সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। মোঃ ওসমান গনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে উন্নত নাগরিক সেবা চালু করবো এ ওয়ার্ডে। মশানিধন থেকে শুরু করে সরকারী জায়গা প্রাপ্তিসাপেক্ষে কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, খেলার মাঠ নির্মাণ করব। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এজিএম শামসুল হক বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এ ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক বিশ্বের নাগরিক সুবিধা সংবলিত সকল সুবিধা চালু করতে চেষ্টা করব।

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০১৫

২১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: