মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজসহ নানা নাগরিক সমস্যা ॥ সমাধানের প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

আরাফাত মুন্না ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। এ তিন ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের অন্তত চারজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। যার ফলে দলের মনোনিত প্রার্থীরা পড়ছেন নানা সমস্যায়। দলের হাইকমান্ড বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এমনটাই আশা মনোনিত প্রার্থীদের। অন্যদিকে, অভিজাত এই তিন ওয়ার্ডেও কমতি নেই নানা নাগরিক সমস্যার। জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মশার উপদ্রপ রয়েছে এসব ওয়ার্ডেও। অন্য অনেক ওয়ার্ডের মতোই এ তিন ওয়ার্ডেও নেই সিটি কর্পোরেশনের কমিউিনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও কবরস্থান। নতুন কাউন্সিলরদের কাছে এসব সমস্যার সমাধনই দাবি বাসিন্দাদের।

১৬ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডটি পড়েছে ঢাকা সেনানিবাসের আশপাশের এলাকা নিয়ে। ইব্রাহিমপুর, কাফরুল, উত্তর কাফরুল, দক্ষিণ কাফরুল ও পশ্চিম কাফরুল এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ডটি গঠিত। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকই বেশি। এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৮৩ হাজার ৬২৫ জন।

নাগরিক সমস্যা ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও ভাঙা রাস্তা। এছাড়া এই ওয়ার্ডটিতে নেই সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ এবং কবরস্থান। এই নির্বাচনে যে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবে তিনি এলাকার সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন, এমনটা আশা বাসিন্দাদের। ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, এই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে। এছাড়া এলাকায় সরকারী কোন কবরস্থান না থাকায় কারও মৃত্যুর পর লাশ দাফনেও সমস্যায় পড়তে হয়।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন মাহমুদা বেগম (ঝুড়ি) এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ একরাম হোসেন (রেডিও) এবং জাসদ সমর্থিত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। এরা হলেন- আবুল হাসেম হাসু (লাটিম), এস এম এনামুল হক (ঘুড়ি), মোহাম্মদ আজিজুর রহমান স্বপন (ঠেলাগাড়ি), মোঃ মতিউর রহমান (ব্যাডমিণ্টন র‌্যাকেট)। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- এ এফ এম খালেদ (করাত), মোঃ মনির খাঁন (টিফিন ক্যারিয়ার), মোঃ মুকুল আমিন (ট্রাক্টর), মোঃ রফিকুল ইসলাম (মিষ্টি কুমড়া)। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহমুদা বেগম দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের অবস্থান সব সময়ই ভাল। তবে এবার দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দলের উচ্চপর্যায় থেকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিলে জয় পেতে সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এলাকায় কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করব।

১৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডটি অভিজাত কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। বসুন্ধরা গেট, জগন্নাথপুর, নামাপাড়া, জোয়ার সাহারা, মধ্যপাড়া, খিলক্ষেত, কুড়িল এলাকা নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডটি। এই ওয়ার্ডের একাংশে এলিট শ্রেণীর নাগরিকদের বসবাস এবং অন্য অংশে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকদের বসবাস। বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকাংশই স্থায়ী। এই ওয়ার্ডে মোট ভোট সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৪৫।

নাগরিক সমস্যা ॥ এই ওয়ার্ডেরও প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও ভাঙা রাস্তা। এছাড়া মশার উপদ্রপ তো রয়েছেই। এছাড়া ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মতোই এই ওয়ার্ডেও নেই সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও কবরস্থান। এসব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই এখন দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোঃ জিন্নাত আলী (ব্যাডমিণ্টন র‌্যাকেট) এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোঃ শাহিনুর আলম (টিফিন ক্যারিয়ার)। এই ওয়ার্ডেও রয়েছে আওয়ামী লীগের ৪ জন। এরা হলেন- মোহাম্মদ আলী শেখ (মিষ্টি কুমড়া), মোঃ ইসহাক মিয়া (রেডিও), মোঃ নুরুল ইসলাম (লাটিম) এবং মোঃ রাকিব আহসান (ঘুড়ি)। এই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী হলেন মোঃ শাহ-আলম চঞ্চল (ঠেলাগাড়ি)। আওয়ামী লীগে ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই এখন বড় সমস্যা বলে মনে করেন দলের মনোনয়ন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ জিন্নাত আলী। তিনি বলেন, এ এলাকায় আওয়ামী লীগ সব সময়ই ভাল অবস্থানে রয়েছে। তবে এবার একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আওয়ামী সমর্থক বাকি প্রার্থীরা আমার পক্ষে প্রচার চালালে জয় পাবেন।

১৮ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডটি কয়েকটি অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত। গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুর, নদ্দা, বারিধারা ও শাহজাদপুর এলাকা নিয়ে গঠিত উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডটি। এই ওয়ার্ডের একাংশে সুপার এলিট বাসিন্দাদের বসবাস এবং অন্য অংশে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সব শ্রেণীর নাগরিকদেরই বসবাস। এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দাই স্থায়ী। বাসিন্দাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৭৯৮ জন ভোটার রয়েছেন।

নাগরিক সমস্যা ॥ এই ওয়ার্ডে বারিধারা এলাকাটিতে সুপার এলিট নাগরিকদের বসবাস হওয়ায় তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে এর বাইরের এলাকাগুলোতে অন্য আট-দশটা ওয়ার্ডের মতো সকল সমস্যাগুলোই রয়েছে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা, মশার উপদ্রপ অন্যতম। স্থানীয় বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক না থাকয় সামান্য বৃষ্টি হলেই এ এলাকার রাস্তাগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে। যার ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা সমস্যা হয়ে পড়ে। এছাড়া মশার উপদ্রপ খুব বেশি। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন, এখন আমাদের আশা যে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হবেন তিনি আমাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন।

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৫

২০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: