মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চায়ের নার্সারি করে নুরমা পারভীন লাখপতি

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫
  • শ্রমিক থেকে স্বামী এখন পাথর ব্যবসায়ী

নুরমা পারভীন সাবলন্বী নারী। ১১ বছর আগে নুরমার বিয়ে হয় পাথরভাঙ্গা মেশিনের এক শ্রমিকের সঙ্গে। স্বামীর সংসারে এসেই কঠিন সংগ্রাম শুরু করেন নুরমা। কোনমতে দিন এনে দিন খেয়ে চলে সংসার। কোন কোন দিন না খেয়ে কাটাতে হয়েছে। নুরমার স্বামী মজিবর রহমানের বাবার জমাজমি থাকলেও কোন জমি না দিয়েই বিয়ের পরই পৃথক করে দেন। এরপর থেকেই শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। ১১ বছরেই নুরমা পাল্টে ফেলেন সংসারের চিত্র। চায়ের নার্সারি করে নুরমা এখন লাখপতি।

পঞ্চগড় জেলা সদরের সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত গ্রামের নুরমা-মজিবর দম্পত্তি এখন একটি দশ চাকার ট্রাকের মালিক। নুরমার স্বামী বাবার কাছ থেকে কোন জমি না পেলেও ইতোমধ্যে ৬ বিঘা আবাদি জমিও কিনেছেন । স্বামী মজিবর পাথর শ্রমিক থেকে এখন বড় পাথর ব্যবসায়ী। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে নুরমার সুখের সংসার চলছে। আত্মনির্ভরশীল নারী হিসেবে নুরমা আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিনই তাঁর চা-নার্সারিতে ১৮/২০ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

১৯৯৯ সালে পঞ্চগড়ে শুরু হয় চা চাষ। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে চা চাষের পরিধি। ব্যাপকভাবে চা চাষের কারণে শুরু হয় চায়ের চারা সঙ্কট। এসময় জেলায় বেশ কয়েকটি চা নার্সারি গড়ে উঠে। এসব নার্সারির দেখাদেখি নুরমা বেগম ২০০৪ সালে তেঁতুলিয়া থেকে চায়ের মাদারবুশ সংগ্রহ করে ছোট আকারে চায়ের নার্সারি গড়ে তোলেন।

বাড়ির পাশে পতিত ৫ কাঠা জমিতে এই নার্সারির চারা বিক্রি করে প্রথম বছরই লাভের মুখ দেখেন। এরপর আর থেমে থাকেননি। পরের বছর বিরাজোত ডাঙ্গায় চাওয়াই নদীর পাড়ে ২ বছরের জন্য আড়াই বিঘা জমি ৫ হাজার টাকায় চুক্তি নিয়ে বড় আকারের নার্সারি গড়ে তোলেন। এভাবে প্রতিবছর বাড়তে থাকে নার্সারির আয়তন।

গত মৌসুমে তিনি বিক্রয় করেছেন ৫ লাখ চারা। প্রতিটি চারা বিক্রয় হয়েছে ৫ টাকা দরে। সম্পূর্ণ চারা চলে গেছে সিলেট ও চট্টগ্রামে। চা বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা নুরমার নার্সারি থেকে চারা ক্রয় করে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনি ২ লাখ চারা বিক্রয় করেছেন। বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৬ লাখ চারা। শুরুতে প্রতিটি চারা ৬ টাকা দরে বিক্রয় হলেও বর্তমানে তা বিক্রয় হচ্ছে ৪ টাকা দরে। সরকার বিদেশ থেকে আমদানি করা চায়ের ওপর শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখন বিদেশ থেকে চা আমদানি করছে। এতে করে বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের দাম অনেক কমে গেছে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে নুরমা বেগম বলেন, আগে কোনদিন ভাবিনি বর্তমানের অবস্থায় আসতে পারব। নিজের চেষ্টা ও স্বামীর সহযোগিতায় আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। এ জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুতে নিজেই এবং পরে শ্রমিক নিয়ে তাদের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা কাজ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় আমরাই শ্রমিক ছিলাম। এখন আমার নার্সারিতে প্রতিদিন ১৮/২০ শ্রমিক কাজ করে। আমার স্বামী মজিবর রহমান পাথরের ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাকটি দেখাশোনা করে। নুরমা বলেন, এখন চারার চাহিদা কমে গেছে। কাঁচা চা-পাতার মূল্য কমে যাওয়ায় নতুন করে চা আবাদ হচ্ছে না। এতে করে যেমন গোটা চা শিল্পই হুমকির মধ্যে পড়েছে তেমনি আমিও অনেক টাকা বিনিয়োগ করে চারা করতে পারছি না। তিনি বলেন, সরকার বিদেশ থেকে চা আমদানি বন্ধ করে দিলেই পঞ্চগড়ের চা চাষীরা তাদের কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য পাবে। আবার নতুন করে চা চাষ করবেন এখানকার চাষীরা।

Ñএ রহমান মুকুল, পঞ্চগড় থেকে

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

১৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: