মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মানবতাবিরোধী সংগঠন নিষিদ্ধ করতে আইন সংশোধন হচ্ছে

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫
  • ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত, অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় উঠছে
  • এটি সংশোধন হলে জামায়াতে ইসলামীর বিচারে বাধা দূর হবে

তপন বিশ্বাস ॥ অবশেষে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠনকে নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যত কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (আইসিটি) আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বুধবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। এটি সংশোধন হলে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠা সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিচারের বাধা দূর হবে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের নিষিদ্ধ করতেও আইনী বাধা দূর হবে বলে আইনবিদরা মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চূড়ান্ত খসড়ায় এই আইনের কার্যকারিতা দেয়া হয়েছে ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে। চতুর্থ দফায় আইনটির বিদ্যমান ধারার ১০টি ধারার সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ধারা কেবল ব্যক্তি শব্দের পাশাপাশি সংগঠন শব্দটি রয়েছে। এতে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের নিষিদ্ধ করা যাবে। নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন নামে-বেনামে কোন কার্যক্রম চালাতে পারবে না। খসড়ায় বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ওই নামে বা অন্য নামে কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

খসড়ার ২০ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবেন এবং এর নিজ নামে বা অন্য কোন নামে ভবিষ্যত কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। পাশাপাশি মামলার বিষয়বস্তু সাপেক্ষে সংগঠনটির সদস্যদেরও ট্রাইব্যুনাল সাজা দিতে পারবেন। বিদ্যমান আইনের ২০ ধারা কেবল ব্যক্তির সাজার বিধান রয়েছে।

খসড়ার ৪ ধারার সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোন সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি অথবা কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক বা স্থানীয় কমিটির সদস্য যদি অপরাধ করে, তবে ওই অপরাধের জন্য সদস্যদের পাশাপাশি সংগঠনও দায়ী হবে। ১০ ধারায়ও একটি পরিবর্তন আনা হচ্ছে। খসড়ায় অনুযায়ী, সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলার বিচারের ক্ষেত্রে অন্যান্য মামলার মতোই ট্রাইব্যুনাল তার কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে অভিযোগ গঠন, দোষী সাব্যস্ত করা ও রায় ঘোষণা করবেন।

২০০৯ সালে আইসিটি আইনের প্রথম দফা সংশোধনীতে কয়েকটি স্থানে পরিবর্তন এনে মূলত একে হালনাগাদ করা হয়েছিল। ২০১২ সালে দ্বিতীয় সংশোধনীতে আসামির অনুপস্থিতিতে তাকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার এবং এক ট্রাইব্যুনাল থেকে অন্য ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। এরপর সংশোধনী আনা হয়ে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এই সংশোধনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তখন তার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এই সময়ে আইনে দ-ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপীলের সুযোগ ছিল না। পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষেরও আপীলের সুযোগ রেখে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আইনটির তৃতীয় সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।

ওই সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ক্ষমতাসংক্রান্ত আইনের ৩ ধারায় ব্যক্তি পাশাপাশি সংগঠন শব্দটি যুক্ত করা হয়। তবে দোষী সাব্যস্ত সংগঠনের শাস্তি, সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা পদ্ধতি অথবা সংগঠনের সদস্যদের দায়-দায়িত্বসংক্রান্ত বিষয় সেখানে উল্লেখ ছিল না। বিগত বছর ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম সংগঠনের বিচারের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালস আইনের দুর্বলতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ দেন। এতে বলা হয়, ‘মূল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কোন দল বা গোষ্ঠীকে বিচারের সম্মুখীন করার বিধান করা হলেও কোন দল মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে কী ধরনের দ- ও সাজা প্রদান করা হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন উল্লেখ নেই। আমার নিঃসংকোচ অভিমত এই যে, সেই দলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দ- আরোপ বা গ্রহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান করা প্রয়োজন।’

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

১৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: