মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বৈশাখের আহ্বান

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সাবজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে কিন্তু এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ ‘আর্তব উৎসব’ তথা ‘ঋতুধর্মী’ উৎসব হিসেবে পালিত হতো। তবে নতুনের আহ্বানে সমস্ত জরাকে তুচ্ছজ্ঞান করে ধরাকে শুচিশুদ্ধ করার প্রত্যয়ে প্রাচীনকাল হতেই এই যে রঙিন বর্ষবরণের উৎসবের রেওয়াজ বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিনির্মাণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়। সারা বছরের পিঙ্গল জটাজাল দূর করে মুমূর্ষু উড়ায়ে দিয়ে নতুনের জয়ধ্বনি এই দিনে ছড়িয়ে যায় দিগি¦দিক। ষোলোয়ানা বাঙালীয়ানার পরিপূর্ণতা এই দিনটিকে করে সবচেয়ে বেশি মহিমান্বিত ও ঐতিহ্যবাহী।

আধুনিক পহেলা বৈশাখের জন্মসূত্র...

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকা-ের উল্লেখ পাওযা যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।

বাঙালীর ছায়ানট ও রমনা বটমূল কথন...

প্রায় চারশ’ বছর পরে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে আইয়ুবের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে সংস্কৃতির অগ্রপ্রথিক, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুল হক ও সনজিদা খাতুন রমনার বটমূলে শুরু করে বাংলা পহেলা বৈশাখ উদযাপন। তখন পহেলা বৈশাখ পেল নতুন এক মাত্রা আর বর্ষবরণের এই সাংস্কৃতিক উৎসব আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের গতিকে আরও বাড়িয়ে দিল বহুগুণ। আর এই রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক আয়োজনের এই রীতি বাঙালীর চেতনা ও মননে রোপণ করল জাতিসত্তার দুর্লভ বীজ।

মঙ্গলময় মঙ্গল শোভাযাত্রা...

বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো নয় রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিলিপি।

বৈশাখ উদযাপনে বৈশাখীমেলা...

‘আবার জমবে মেলা বটতলা-হাটখোলা...’ এমন নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটমুটি সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুঠির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন ও পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই দিনের পুরনো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা ও কুস্তির আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে জব্বারের বলি খেলা নামে পরিচিত কুস্তির সবচেয়ে বড় আসরটি হয় চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১২ বৈশাখে।

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০১৫

১৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: