মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চসিক নির্বাচন ॥ আওয়ামী লীগের একক মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থিতা অনিশ্চিত

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪১ ওয়ার্ডে সাধারণ ও ১৪ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একক প্রার্থিতা বহুল প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। কর্পোরেশনের ৪১টির মধ্যে একটি ছাড়া অপর সবকটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের আধিক্য রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আলাউদ্দিন নাসিম, এমএ লতিফ এমপি, শামসুল হক এমপি ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতাদের কয়েকদিন ধরে টানা প্রচেষ্টা চালিয়ে এতে সফলতা অর্জন করতে পারেননি। উল্টো বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বেশকিছু কাউন্সিলরের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের দফতরে জমা দেয়ার পর তা বুমেরাং হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকে প্রত্যাহারপত্র রিটার্নিং অফিসার দফতরে জমা দিতে এসে এমপি লতিফ ও এমপি শামসুল হক ক্ষুব্ধ কাউন্সিলর প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। এসব ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কাউন্সিলর প্রার্থীরা শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের প্রক্রিয়ার ঘোর বিরোধী। এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এক্ষেত্রে জোর খাটিয়ে, দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে বা শাস্তিমূলক যে কোন ব্যবস্থার কথা বলে কারও কাছ থেকে প্রত্যাহারপত্র আদায় করে নেয়া সম্পূর্ণ বেআইনী। তাই তারা এ ধরনের প্রক্রিয়ার ঘোর বিরোধী। বৃহস্পতিবার এ ধরনের ঘটনার পর যাদের কাছ থেকে প্রত্যাহারপত্র নিয়ে জমা দেয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে আপত্তি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আলাউদ্দিন নাসিম ও শামসুল হক এমপি চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে একক প্রাার্থিতা দেয়ার জন্য একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। এমপি লতিফের নির্বাচনী এলাকা অর্থাৎ পতেঙ্গায় ১০টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থিতা নির্ধারণও করা হয়। এরপর দিন একই কায়দায় তারা নগরীর খুলশী এলাকার একটি বাসায় বসে অন্যদের নিয়ে অনুরূপ প্রয়াস চালান। কিন্তু তাও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো দলীয় নেতাদের জন্য বিষয়টি বুমেরাং হয়েছে। বর্তমানে ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন হিরণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। এছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এরা ছাড় দিতে নারাজ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার দফতর জানায়, এ ধরনের অভিযোগ যারা করেছেন আমরা তাদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছি। এক্ষেত্রে যাদের মতামত ছাড়া স্বাক্ষর নিয়ে প্রত্যাহারপত্র দেয়া হয়েছে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এদিকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ৪১ ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কোন মাথা ঘামাচ্ছেন না। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন এটা দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কেউ মানলে তা করবেন, আর না মানলে তা স্ব স্ব প্রার্থীদের ব্যাপার। এক্ষেত্রে তার করার কিছুই নেই। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এভাবে জোরপূর্বক প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মিশন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ভুল করেছেন। কারণ, জোরপূর্বক এভাবে কাউকে বসিয়ে দেয়া যায় না এবং বসানোর সুযোগও নেই। বরঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দলের জন্যই ক্ষতিকর। এ অবস্থায় সংরক্ষিতসহ সবগুলো ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন। অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা নিয়ে দর কষাকষি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। জামায়াত ১০টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থিতা দেয়ার কথা বলে ২০টিতে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দিয়ে ২০ দলীয় জোটের চিন্তা ভাবনাকে ঘোলাটে করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের জয় জয়কার ঘটে। শুধু সংরক্ষিত ১৪ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারী প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এছাড়া মেয়র পদটিতেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম বিজয়ী হন।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: