কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কামারুজ্জামান ক্ষমা চায়নি ॥ যে কোন মুহূর্তে ফাঁসি

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২৮ পি. এম.
কামারুজ্জামান ক্ষমা  চায়নি  ॥ যে কোন মুহূর্তে ফাঁসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে কোন সময় শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকা জেলার সহকারী সিভিল সার্জন আহসান হাবিব এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ। সামিয়ানা টানিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ফাঁসির মঞ্চও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেই জল্লাদকেও যিনি কাদের মোল্লার পর দ্বিতীয় যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষা চাইবে কিনা তা জানতে শুক্রবার সকাল দশটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজ জামিল ও তানভীর মোঃ আজিম। বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে তারা কারাগার থেকে বের হন। কিন্তু তারা সাংবাদিকদের প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। ম্যাজিস্ট্রেটরা দ্রুত গাড়ি করে চলে যান। পরে জানাজানি হয়ে যায়, কামরুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবে কিনা তা জানতেই দুই ম্যাজিস্ট্রেট প্রবেশ করেন কারাগারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চায়নি মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান। ফলে কামারুজ্জামানের দ- কার্যকরে সব বাধা দূর হয়ে যায়। যে কোন সময় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদ- কার্যকর করার শেষ ধাপ চলে আসে।

সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার নিরাপত্তা জোরদার শুরু হয়। মূল ফটকের সামনে নেয়া হয় দুই স্তরের নিরাপত্তা। এতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে কারাগার এলাকায় যে, শুক্রবার রাতেই কামারুজ্জামানের ফাঁসি হচ্ছে। পরবর্তীতে সিভিল সার্জন, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ও জেল সুপারের কারাগারে প্রবেশ আরও নিশ্চিত করে যে, রাতেই কার্যকর হচ্ছে ফাঁসি। ফলে কারাগার এলাকায় মিডিয়া কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। জেল গেটে অবস্থানরত আমাদের প্রতিনিধি জানান, রাত সোয়া ৭টায় জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী কারাগারে প্রবেশ করেন। তিনি অবশ্য সকালে ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে কারাগার থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। রাতে তার পুনরায় কারাগারে প্রবেশই কামারুজ্জানের ফাঁসির ইঙ্গিত বহন করে। কারাগারে তার প্রবেশের পর পরই কারাগারের ভেতরে ও বাইরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। সেই সঙ্গে শুরু হয় ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া।

এরপর পরই কারাগারে ত্রিপল, বাঁশ নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চ তৈরির জন্য। এ সময় অন্তত ৮টি বাঁশ ও তিনটি বড় কার্টন রিকশাভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ত্রিপল নিয়ে একটি লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করে।

ঢাকা জেলার সহকারী সিভিল সার্জন আহসান হাবিব শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে আর সময় দেয়া হচ্ছে না। রায় কার্যকরে শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে।

এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন শুক্রবার রাতেই ফাঁসি হচ্ছে কিনা? স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘নিয়ম অনুসারে প্রক্রিয়া চলছে।’

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদও বলেন, আদালতের রায় কার্যকরের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। তারা যে কোন সময় তা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে র্যাব সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে, লালবাগ এলাকার ডিসি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা কারাগারের জন্য রাতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।

এরপর থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় বেড়েই চলেছে। শুক্রবার রাতের কোন এক সময় ফাঁসি হবে কিনা, সে নিয়েও চলছে জোর গুঞ্জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কারাগারের আশপাশের সব রাস্তা। সড়কে বাড়তি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন না করার ইঙ্গিতের পরেই কারাগারের আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে থাকা ওয়াচ টাওয়ারে গোয়েন্দা সংস্থার বাড়তি সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা শক্তিশালী বাইনোকুলার নিয়ে পুরো এলাকার ওপর নজর রাখছেন। কারাগারের আশপাশে সন্দেহভাজন কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেয়া হচ্ছে না। দেখামাত্রই তাদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করতে উচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশ এসেছে। নির্দেশ মোতাবেক পুরো কারাগার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি নিজেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাকে সর্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতেও সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে কারাগারের সব নিরাপত্তা রক্ষীকে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাবকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২৮ পি. এম.

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: