মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকা সিটি ওয়ার্ড পরিক্রমা

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে মাঠে নেমেছেন। এই তিনটি ওয়ার্ডের ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও শান্তির নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নাগরিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পাশাপাশি এই তিন ওয়ার্ড এলাকার প্রধান সমস্যা সন্ত্রাস ও মাদকসহ অপরাধ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। আর এবারই প্রথম রাজধানীর নাগরিকরা দুই ভাগে বিভক্ত দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি রূপনগর ও মিরপুর উভয় থানার মধ্যেই পড়েছে। এখানের ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ হাজার ৭৮৯ জন ও মহিলা ভোটার ৩২ হাজার ৩৯৬ জন। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিল হিসেবে এই ওয়ার্ডে ১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী। তার পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন টেনু এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবাহান। তারা সবাই উচ্চপর্যায়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দলীয় সমর্থনের আশায়। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই তারা সবাই এলাকায় জনসংযোগ করছেন।

নির্বাচনে এলাকাবাসীর সামনে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মোবাশ্বের চৌধুরী জনকণ্ঠ’কে বলেন, আমি আমার ওয়ার্ডকে ক্লিন ওয়ার্ড ও গ্রিন ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে চাই। এছাড়া নির্বাচিত হতে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলাকার সকল রাস্তাঘাট মেরামত করে দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে দলের একক প্রার্থীর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে, দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনার পরে আশা করি আমার দলের অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। এদিকে এই ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন চারজন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মুন্সি বজলুল বাসিদ আঞ্জুু, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলু, রবিউল আউয়াল, স্বপ্না আহমেদ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। পাড়ার চায়ের দোকান বা আড্ডায় এখন জল্পনা-কল্পনা চলছে কে পাচ্ছেন দলীয় সমর্থন।

৮ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর শাহ আলী থানার পুরোটা নিয়েই গঠিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড। দক্ষিণ-পশ্চিমে হযরত শাহ আলীর মাজার ও উত্তর-পূর্বে বোটানিক্যাল গার্ডেন, দক্ষিণে সনি সিনেমা হল থেকে মাজার পর্যন্ত বিপণিবিতানের সারি ও পশ্চিমে তুরাগ নদ নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৩ হাজার ৬৬ জন। পুরুষ ভোটার ৩৬ হাজার ৮৪৪ জন ও মহিলা ভোটার ৩৬ হাজার ২২২ জন। ঘন বসতি ও নি¤œ আয়ের লোকের বাস এ ওয়ার্ডে। আরও রয়েছে কয়েকটি বস্তি। এখানে ১৬ প্রার্থী কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ওয়ার্ডে কয়েক নতুন মুখসহ সরকারদলীয় নেতাদেরই নির্বাচনী প্রচারে বেশি দেখা গেছে। নির্বাচনী মাঠে তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা এলাকাবাসীর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। এই ওয়ার্ডে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে, সন্ত্রাস দমন ও মাদক নির্মূল, রাস্তাঘাট ভাল নয় ইত্যাদি। এলাকার মানুষের পাশে থেকে রাস্তাঘাট উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্র্থীরা। এই ওয়ার্ডের একজন অন্যমত প্রার্থী শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (প্রস্তাবিত) শাজাহান তালুকদার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান তালুকদার জনকণ্ঠ’কে বলেন, নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারিনি। তবে তারপরেও এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। এলাকায় কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করতে পারলে, পুরো এলাকা মাদকমুক্ত, রাস্তাঘাট মেরামত, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করব।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা জানতে চাইলে এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল জলিল জনকণ্ঠকে বলেন, মিরপুরে মাদক সমস্যা রয়েছে। যিনিই নির্বাচনে জয়ী হোন না কেন, মিরপুরকে মাদকমুক্ত করবেন, এটাই আমি প্রত্যাশা করি। এছাড়া এখানে নির্বাচনী লড়াইয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী টিপু সুলতান, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম মোল্লা ও নতুন মুখ শাহ আলী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন। আগের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক ফেরদৌসি আহমেদ। তবে এবারের নির্বাচনে তাকে এখনও কোন প্রচারে দেখা যায়নি। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী মনিরা মোশাররফও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডটি পড়েছে রাজধানীর গাবতলী, বাগবাড়ি, হরিরামপুর, গোলারটেক ও দিয়াবাড়ি এলাকায়। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪২ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২২ হাজার ১৪৬ জন ও মহিলা ভোটার ২০ হাজার ৩০৮ জন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এ ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, মিরপুর সরকারী বাঙলা কলেজের সাবেক ভিপি ও মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের (প্রস্তাবিত) সহসভাপতি মুজিব সারোয়ার মাসুম, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সেলিম খান, কাউন্সিলর পদের জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। তাঁরা এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুজিব সারোয়ার মাসুম জনকণ্ঠ’কে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন ঘটাব। এলাকা মাদকমুক্ত করবেন বলেও তিনি জানান। এদিকে এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদের কাছে কেমন প্রার্থী পছন্দ জানতে চাইলে তিনি জনকণ্ঠ’কে বলেন, যোগ্য ও সৎ প্রার্থী দেখেই ভোট দেব। ভোট দেয়ার লক্ষ্যে কোন প্রার্থীকেই এখনও চূড়ান্ত করেননি বলেও তিনি জানান। এই তিন ওয়ার্ড এলাকা সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দেয়ার জন্যও আলোচনা চলছে। আলোচনার মাধ্যমে একক প্রার্থী দেয়া সম্ভব হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী আরও কমে যাবে।

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

১০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন



ব্রেকিং নিউজ: