কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বড় দুই জোটের নেতাকর্মীরা তৎপর ॥ নির্বিকার ভোটার

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫
  • চসিক নির্বাচন
  • উভয় শিবিরেই শঙ্কা

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে তৎপর হতে শুরু করলেও সাধারণ ভোটাররা এখনও নির্বিকার। এর মূল কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দেশজুড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা চলমান অবস্থায় এ নির্বাচন নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এখনও কোন সঠিক উত্তর মিলছে না। একদিকে, সরকার পক্ষে এ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের উপর কি ধরনের আচরণ চালাবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। অপরদিকে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও রয়েছে নানা শঙ্কায়। বিরোধী শিবিরে আলোচিত হচ্ছে সরকার কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে পারে। দেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দৃষ্টি কাড়তে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুবিধা দিতে পারে। এছাড়া সরকার যদি আগেভাগেই এ নির্বাচন নীলনক্সা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করতে চায় তা বিরোধীপক্ষ কখনও মেনে নেবে না। এ ক্ষেত্রে আন্দোলন আরও জোরালো রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি এ নির্বাচনে বিরোধীদের জয়জয়কার হলে সে ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান নড়বড়ে করার জন্যও আন্দোলনের পথে যাবে বিরোধীপক্ষ তথা ২০ দলীয় জোট।

এসব নানামুখী আলাপ আলোচনা নিয়ে সরব চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অতীতের ইতিহাস আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিজয়ের ইতিহাস। তবে সর্বশেষ ২০১০ সালের ইতিহাস বিএনপির পক্ষে অর্থাৎ তাদের বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের জন্য ব্যাপকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। পক্ষান্তরে, বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটও তাদের সমর্থিত মেয়রের বিজয় নিশ্চিত করতে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে। ইতোমধ্যে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তফসিল ঘোষণার পর থেকে মাঠে রয়েছেন। আজ থেকে তৎপর হবেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং এরপর নামবেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এখনও মাঠে নেই। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। চেষ্টা চলছে জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে আসার জন্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি নির্বাচনই রাজনৈতিক দলের সমর্থনে হয়ে আসছে। অনুরূপভাবে চট্টগ্রামেও এর কোন ব্যতিক্রম নেই। মেয়র পদে প্রধান দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত এম মনজুর আলম। আ জ ম নাছির নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আর মনজুর আলম চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত ও বিএনপি সমর্থিত। এর পাশাপাশি ১৪ দল ও ২০ দলীয় জোটও দুই প্রার্থীকে পৃথক পৃথকভাবে সমর্থন দিয়েছে। তবে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের এককভাবে এক কাতারে আনতে কোন পক্ষই সক্ষম হয়নি এখনও এবং হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিটি দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করে নির্বাচনী তৎপরতায় নেমেছেন। সরকারী দল আওয়ামী লীগ শুরু থেকে এ নিয়ে তৎপর হলেও সফলতা এখনও আসেনি। পক্ষান্তরে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে বোঝাপড়া করে কাউন্সিলর প্রার্থী নিশ্চিত করার তৎপরতায় লিপ্ত। এ ক্ষেত্রেও ২০ দলীয় জোট সম্পূর্ণভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কেননা, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলের বা জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রার্থী। যাকেই বাদ দেয়া হবে তিনিই দলের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে চলে যেতে পারেন এ আশঙ্কায় কোন দলই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চান না। এ লক্ষ্য নিয়েই আওামী লীগ ও বিএনপি তথা ১৪ ও ২০ দলীয় জোট এগিয়ে যাচ্ছে।

২০১০ সালের সর্বশেষ চসিক নির্বাচনে মেয়রসহ সাধারণ কাউন্সিলরদের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে বিএনপি সমর্থিতরা। শুধুমাত্র ১৪ মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের আধিক্য ঘটে। এবারের নির্বাচনেও অধিকাংশ প্রার্থী পুনরায় নির্বাচনে নেমেছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন আগে নির্বাচন করে হেরে গেছেন এমন কিছু ও বয়সে অপেক্ষাকৃত নতুন অনেকে। চসিক নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা বেড়ে এবার ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল নির্ধারিত নির্বাচনের দিনে খোদ ৪১ ওয়ার্ডে প্রার্থীদের কারণেই বহু ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় সমর্থনের হলেও মেয়রসহ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের অধিকাংশ জয়ের ব্যাপারে শতভাগ কেউ নিশ্চিত নন। তবে ইতোমধ্যে নগরীর এনায়েত বাজার ও ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাদের নির্বাচিত বলার বিষয়টি এখন ঘোষণার বাকি মাত্র।

চট্টগ্রামে জাতীয় নির্বাচনেও বরাবরই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। চসিক নির্বাচনেও একই অবস্থা। ১৯৯৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্পোরেশনের নির্বাচন শুরু হওয়ার ক্ষণ থেকে মেয়র পদ নিয়ে লড়াই চলছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিজয়ের রেকর্ড গড়েছেন। তিনি টানা তিনবার মেয়র হয়েছেন। পক্ষান্তরে বিএনপি সমর্থিত মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন একবার ছিলেন মনোনীত মেয়র। এরপর দু’দুবার এ পদে নির্বাচন করে পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছেন। বর্তমান মেয়র পদ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত এম মনজুর আলম দ্বিতীয় দফায় ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। পক্ষান্তরে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দিন তার রাজনৈতিক জীবনে প্রথবারের মতো বড় কোন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার এ নির্বাচন নিজের জন্য যেমন তেমনি দলের জন্যও প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, মনজুর আলম এক টার্ম মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ করেছেন। দ্বিতীয় দফায় এ পদের লড়াইয়ে নেমেছেন। মূলত তিনি যে পর্যায়ের একজন বড় মাপের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। সে অনুযায়ী বাঘা কোন রাজনৈতিক নেতা নন। ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন আওয়ামী ঘরানার। ঐ বছর মেয়র নির্বাচনে তিনি বিএনপির সমর্থনে মেয়র নির্বাচন করে বিজয় লাভ করেন। তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে দিদারুল আলম গত ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে সীতাকু- আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের চসিক নির্বাচন তার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি ডেকে এনেছে। কেননা, আপন চাচা মনজুর আলম বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী। পক্ষান্তরে নিজ দল আওয়ামী লীগের সমর্থনে আ জ ম নাছির উদ্দিন তার চাচার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ইতোমধ্যে এমপি দিদারুল আলম আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের আহ্বাানে নাছিরের পক্ষে তৎপর হয়ে মাঠে নেমেছেন। তার এলাকার ক্ষুদ্র একটি অংশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সঙ্গে যুক্ত। ফলে ঐ এলাকার ভোটাররা সিটি নির্বাচনের ও ভোটার। তাঁর এ মাঠে নামা লোক দেখানো না আন্তরিক তা একমাত্র তিনি ছাড়া আর কারও পক্ষে বলা রীতিমতো দুঃসাধ্য।

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: