আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঐতিহ্যবাহী শখ

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

দেশের ফ্যাশন জগতের এক অনন্য নাম হচ্ছে ‘শখ’। আশির দশকের দিকে যে সমস্ত বুটিক হাউসগুলো নজর কাড়ে, তাদের মধ্যে ‘শখ’ অন্যতম। ১৯৮৪ সালের ৮ মে শখের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আয়েশা নিজাম উদ্দিনের হাত ধরেই মূলত ‘শখের’ পথচলা। আর এই পথচলায় আয়েশার সর্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে আছেন তাঁর স্বামী গাজী নিজাম উদ্দিন আহমেদ। একদিকে আয়েশা যেমন কাপড় নির্বাচন, ডিজাইনিং, কাটিং করেন, অন্যদিকে তাঁর স্বামী নিজাম উদ্দিন ‘শখের’ ব্যবসায়িক দিকটির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কাপড় নির্বাচন এবং ফ্যাশন শো’র জন্য মডেল নির্বাচনের কাজটিও অতি আন্তরিকতার সঙ্গে করেন নিজাম। শুরুতে শখের শো-রুমটি নয়াপল্টনে অবস্থিত ‘গাজী ভবনের’ দ্বিতীয় তলায় ছিল। পরবর্তীতে তা স্থানান্তর করে গুলশান-২ এর ‘পিঙ্ক সিটি শপিং কমপ্লেক্স’-এ নিয়ে আসা হয়।

শখের নামকরণ করেছিলেন একাত্তরের শহীদ জননী ‘জাহানারা ইমাম।’ এ প্রসঙ্গে আয়েশা বলেন, ‘জাহানারা ইমামের’ মতো একজন মানুষ আমার প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করায় আমার খুব গর্ববোধ হয়। তিনি আরও বলেন, ‘জাহানারা ইমাম ছিলেন আমার শ্বশুরবাড়ির ঘনিষ্ঠ আপনজন। ‘শখ’-এর লোগো তৈরি করে দিয়েছিলেন দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী প্রয়াত কাইয়ূম চৌধুরী। দেশের প্রথম বুটিক সপ ‘শখ’ ফ্যাশন শো’র আয়োজন করে প্রতিষ্ঠার শুরুতে ১৯৮৪ সালে। এরপর একে একে তারা অনেক ফ্যাশন শো’র আয়োজন করে। শেষবারের শো’টি আয়োজন করা হয় ২০১৪ সালের নবেম্বর মাসে।

শখের অগ্রযাত্রায় শুরু থেকেই তরুণীদের আধুনিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আসা হচ্ছে। হালের ফ্যাশনের দিকে নজর রেখে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও ডিজাইনার আয়েশা নিজাম উদ্দিন নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে ‘শখ’ পৌঁছেছে তার সফলতার শীর্ষে। ‘পিঙ্ক সিটির’ দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন ধরন এবং মানের কাপড় নিয়ে অত্যন্ত পরিপাটি করে ৩০ নম্বর দোকানটি সাজানো রয়েছে, যা একদৃষ্টিতেই তরুণীদের নজর কাড়ে। শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস, কুর্তি, চুড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগসহ নানা সম্ভারে সজ্জিত রয়েছে শো-রুমটি।

বাঙালীর প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ (বাংলা নববর্ষ) ঘনিয়ে আসতে খুব বেশি দেরি নেই। তাই তো এই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধাঁচের শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস প্রভৃতি ডিজাইন করেছেন আয়েশা নিজেই। নববর্ষের আনন্দকে দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে এ সমস্ত পোশাকে রয়েছে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার ছোঁয়া। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করা আয়েশা সুনিপূণভাবে তাঁর প্রতিভা পোশাকের ওপর ফুটিয়ে তুলেছেন। ভবিষ্যতেও তাঁর এমন প্রচেষ্টা জারি থাকবে বলে জানান আয়েশা নিজাম উদ্দিন।

দেশের প্রথম এই বুটিক সপটিতে কেনাকাটা কিংবা চোখের দেখা দেখতে হলেও অন্তত একবার যাওয়া যেতেই পারে।

নাসিফ শুভ

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: