মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সম্পদের আমলনামা

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫
  • সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের বেশিরভাগই কোটিপতি
  • বার্ষিক আয়ে এগিয়ে মির্জা আব্বাস। এক শ’ কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি
  • বিএনপির শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হাজারেরও বেশি

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে বেশিরভাগ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী কোটিপতি। শত কোটি টাকার মালিকও আছেন কেউ কেউ। অর্থাৎ কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থসম্পদের মালিক তারা। এদিকে হত্যা, নাশকতাসহ নানা অপরাধে জড়িত বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এক শ’ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে পাঁচ ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মামলা। আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে ১৩টি, পিন্টুর বিরুদ্ধে চারটি মামলা আছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। এছাড়া ঢাকার ৯৩ ওয়ার্ডে বিএনপির ১১৮ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে সহস্রাধিক মামলা আছে। এর মধ্যে মিরপুরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলুর বিরুদ্ধেই রয়েছে ১২০টি মামলা। দক্ষিণের ১০ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা রয়েছে। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই নাশকতা এবং সহিংসতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনেকেই জেলে আছেন। অনেকেই পলাতক।

এদিকে শীর্ষ দুই ব্যবসায়ীকে পেছনে ফেলে বার্ষিক আয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। আনিসুল হক ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ ঢাকার সব মেয়র প্রার্থীর চেয়ে আয় বেশি সাবেক এই মন্ত্রীর। ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক বছরে আয় করেন প্রায় ৭৬ লাখ টাকা, বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর বছরে আয় ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের আয় ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে মির্জা আব্বাসের দেনাও আছে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও কারাবন্দী বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু স্ত্রীর কাছেই দেনা আছেন প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন। যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীদের আট ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য হলফনামার মাধ্যমে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর আট দফা তথ্য ভোটারদের কাছে প্রচার করতে হবে।

আগামী ১ ও ২ এপ্রিল প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। ২৮ এপ্রিল ডিসিসি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ডিসিসি দক্ষিণের নির্বাচনে প্রার্থী হতে মোট ২৬জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং উত্তরে ২১ জন।

আনিসুল হক ॥ এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ ব্যবসায়ী নেতা ২২ প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম এ। বছরে তিনি আয় করেন ৭৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া পান ২ লাখ ৪০ হাজার, ব্যবসায় (পারিতোষিক) আয় ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা, শেয়ার ও ব্যাংক আমানতে আয় ১ লাখ ৬১ হাজার ১৫৬ টাকা। এফডিআরে আয় ৪৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩১ টাকা। এসব খাত থেকে তার স্ত্রীর আয় ৮৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬২ টাকা। তার ছেলের আয় ২ লাখ ৯১ হাজার ৫১৯ টাকা। তার দুই মেয়ের আয় ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬০ টাকা। আনিসুল হকের নিজ নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৪ টাকার। নগদ টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ৩০ টাকা। ব্যাংকে জমা ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৯ টাকা। শেয়ার রয়েছে ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকার। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৬ টাকা। স্বর্ণালঙ্কার আছে ১১ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকার। স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৭ টাকা। অকৃষি জমির দাম ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৫ টাকা। ঋণ আছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৭ টাকা।

আবদুল আউয়াল মিন্টু ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্তরের মেয়ার প্রার্থী। এমএসসি পাস এই প্রার্থীর রয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠান। বার্ষিক আয় ৫ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৩ টাকা। কৃষি খাতে আয় ৩ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৫২২ টাকা। বাড়ি ভাড়া পান ৯ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসায় (পারিতোষিক) আয় ৯৩ লাখ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানতে আয় ২৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৭০ টাকা। এ ছাড়াও মূলধনী লাভ ৪১ লাখ ১০ হাজার ৮১১ টাকা। মিন্টুর অস্থাবর সম্পদ আছে ৫৩ কোটি ৯৮ লাখ ৬৩ হাজার ২১৭ টাকার। তার স্ত্রীর আছে ৯ কোটি ১২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৩ টাকা। আবদুল আউয়াল মিন্টু; ছেলে তাফসির মোহাম্মদ আউয়ালের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট থেকে ঋণ এক কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে অগ্রিম নিয়েছেন এক লাখ ৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন এক কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩টি।

মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ॥ রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস স্বনামে পরিচিত। নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্যের বার্ষিক আয় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৩ টাকা। তিনি রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুরের মির্জা এন্টারপ্রাইজের মালিক। অতীতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল ৩৭টি। বর্তমানে রয়েছে ২৪টি। বাড়ি, এ্যাপার্টমেন্ট ও দোকান ভাড়া থেকে তার বছরে আয় ১ কোটি পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৩ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তার নিজের আয় ৬ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার ২৯০ টাকা ও তার স্ত্রীর বছরে আয় ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৭ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে তিনি আয় করেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় এই মেয়র প্রার্থীর আছে নগদ ৫০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর আছে ১ লাখ ৬৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫ টাকা। শেয়ারে নিজের নামে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের আছে ৩৫ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১০০ টাকা। অন্য শেয়ারে আছে ৪২ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৫ টাকা। স্ত্রীর নামে ঢাকা ব্যাংকের ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০ টাকা, ঢাকা ফোনের ১০ কোটি টাকা ছাড়াও অন্য শেয়ার আছে ৯৫ কোটি ৭৯ লাখ ৯১৭ টাকার। নিজ নামে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৯ টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৪ টাকা। মির্জা আব্বাসের নিজ নামে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন রয়েছে ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার। আর নিজের নামে স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে ২ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ১৭০ তোলা স্বর্ণ আছে, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে ১০ লাখ টাকার। নিজ নামে আসবাবপত্র আছে ৭ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে আছে ৫ লাখ টাকার। এ ছাড়াও মির্জা আব্বাসের নামে সম্পদ আছে ৯০ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে আছে ১৫ লাখ টাকার।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মির্জা আব্বাসের নামে অকৃষি জমি আছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার। দক্ষিণ শাহজাহানপুরে একটি ভবনের দাম উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ১২৩ টাকা ও অন্যটির দাম ২ কোটি ৬২ হাজার ৫৯ হাজার ৬৪৫ টাকা। নিজ নামে জমি বায়না বাবদ অগ্রিম আছে ৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি এই প্রার্থীর নামে দায়দেনা আছে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ৯০৩ টাকা।

মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ॥ ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোন ফৌজদারি মামলা নেই। হলফনামায় তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে বীমা, নির্মাণ, আমদানি ও রফতানি, ম্যাচ প্রস্তুতকারক, আবাসিক হোটেল ও ট্রেডিং । তার আয়ের উৎস হিসেবে বাড়ি, এ্যাপার্টমেন্ট ও দোকান ভাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খাত থেকে তিনি বছরে আয় করেন ৩২ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টাকা। ব্যবসা থেকে তার আয় রয়েছে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৩০ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তার আয় ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১ কোটি ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা। স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা আছে ৪৩ হাজার ৪৭৬ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা আছে ২৭ লাখ ২২ হাজার ৩০৬ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও কোম্পানির শেয়ারে নিজ নামে আছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৫ টাকা। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে আছে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার আছে ১ কোটি ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ১৩ লাখ টাকার।

সাঈদ খোকনের নিজের নামে গাড়ি আছে ৩৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি ও স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি আছে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের। এ ছাড়াও স্ত্রীর নামে অলঙ্কার আছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা দামের ও আসবাবপত্র ৩০ হাজার টাকার। অন্যান্য ব্যবসায় সাঈদ খোকনের মূলধন আছে ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৪৮৭ টাকা ও স্ত্রীর আছে ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ৪৯১ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে অকৃষি জমি আছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি আছে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। নিজ নামে দালান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন আছে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে আছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার। ৭৯/২, নাজিরাবাজার লেনে তার পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি আছে স্থাবর সম্পদের তালিকায়। তবে তার ব্যাংকের কাছে দায়দেনা আছে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

মোঃ আবদুস সালাম ॥ দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বিএ পাস। তার বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রমনা থানায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, অন্য দুটি রমনা ও শাহবাগ থানায় হত্যাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে। তিনটি মামলাই তদন্তাধীন। বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। নিজ নামে রয়েছে ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ টাকা ৭৫ পয়সা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ১২১ টাকা ২৫ পয়সা। তার রয়েছে একটি মাইক্রোবাস, যা তিনি ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন। তিনি ১২ তোলা স্বর্ণের মালিক উল্লেখ করে তার দাম দেখিয়েছেন ৩৫ হাজার টাকা।

আবদুস সালামের ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষি জমি ৪২ শতাংশ। ৬ তলা দালান একটি ও স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। গাড়ি ক্রয় বাবদ তার ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ১৬ হাজার ২৫৫ টাকা।

নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ॥ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বিএনপি সেতা পিন্টু বর্তমানে কারাগারে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি মামলা আছে। তার ব্যবসায় থেকে বার্ষিক আয় আছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ১৪০ টাকা। শেয়ার থেকে আয় ৭২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭২ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে নগদ ৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৩২২ টাকা। বন্ডে আছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ২৮০ টাকা। একটি জিপগাড়ি আছে ৪৬ লাখ ২ হাজার ২৪ টাকা দামের। এ ছাড়াও স্বর্ণ আছে ৮ তোলা। পিন্টুর কৃষি, অকৃষি জমি ও এ্যাপার্টমেন্ট আছে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭১ হাজার ১৯৮ টাকা দামের। আর স্ত্রীর কাছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকাসহ এই মেয়র প্রার্থীর দায়দেনা আছে মোট তিন কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ১০৭ টাকা।

আবদুল্লাহ আল কাফী ॥ ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদের এই প্রার্থী নিজেকে সর্বক্ষণিক রাজনৈতিক (সিপিবি) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বাড়ি ভাড়া, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই খাত থেকে তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ ৫৫ হাজার, স্ত্রীর হাতে ১৫ হাজার, ব্যাংকে নিজের জমা ৩২ হাজার এবং স্ত্রীর নামে জমা আড়াই লাখ টাকা। বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী আমানতে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৮ লাখ ও স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা। ১৪ লাখ টাকা দামের তার একটি মাইক্রোবাস রয়েছে। এ ছাড়াও নিজ নামে জীবন বীমা, ভবিষ্যত তহবিল ও ঋণ দিয়েছেন তিনি ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৪৩ টাকা। এই খাতে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪০ টাকা। নিজের নামে তার একটি এ্যাপার্টমেন্ট ও স্ত্রীর নামে একটি দালান রয়েছে। তবে তার কোন দায়-দেনা নেই।

চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী ॥ বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা চৌধুরী তানবীর আহম্মদ সিদ্দিকীর ছেলে ইরাদ আহম্মদ। উত্তরের এই মেয়র প্রার্থী নিজেকে লেখক ও গবেষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নিজের হাতে ও ব্যাংকে মোট টাকার পরিমাণ ৫০ হাজার। স্ত্রীর কাছে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এ ছাড়াও ১০ কাঠা জমির ওপর তার একটি আবাসিক ভবন রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সদ্য বহিষ্কৃত বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ। তিনি ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী। ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫৭২ টাকা। তার হাতে নগদ ৬০ হাজার, স্ত্রীর হাতে ৪৫ হাজার, নিজের হাতে বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ৫ হাজার ৯৮৯ ডলার। ব্যাংকে জমা ৬৯ হাজার ৬২৫ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। বন্ড ও শেয়ার রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে ১০০ ভরি। এ ছাড়াও ঢাকায় তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

বাহাউদ্দিন বাবুল ॥ জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুলের শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় লিখেছেন- ‘অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’। জাতীয় পার্টির এই সভাপতিম-লীর সদস্য ব্যবসা ও ঠিকাদারির সঙ্গে যুক্ত। বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ২৯ হাজার ২০০ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৫ টাকা, ব্যবসায়ী মূলধন ১২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৭ টাকা এবং ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্বর্ণ। এছাড়া স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৫ ভরি স্বর্ণ। বাহাউদ্দিনের স্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি দ্বিতল ভবন, ২২টি আধাপাকা গুদাম ও ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটের কথা হলফনামায় বলা হয়েছে।

সারাহ বেগম কবরী ॥ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেয়র প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীকে বাংলাদেশের মানুষ চেনে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে। হলফনামায় নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ‘কে প্রোডাকশন’ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বার্ষিক আয়ের হিসাবে কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৪২ টাকা, শেয়ার সঞ্চয়/ব্যাংক আমানতে ২ লাখ ১ হাজার ৭৫ টাকা, পেশা থেকে ৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা ও অন্যান্য থেকে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬ টাকার তথ্য দিয়েছেন। কবরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫ টাকা, ২৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বৈদেশিক মুদ্রা, ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থায়ী আমানত এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বর্ণ। এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে গুলশানে একটি ৬ তলা বাড়ি। শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় কবরী লিখেছেন, তিনি অষ্টম শ্রেণী পাস।

সাইফুদ্দিন মিলন ॥ জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বার্ষিক আয় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আয়ের উৎস বাড়িভাড়া ও ব্যবসা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও ১৭ লাখ টাকা মূল্যমানের মার্সিডিস বেঞ্জ, টয়োটা প্রাডো ও মিতসুবিসি পাজেরো গাড়ি। তাঁর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

মাহি বি চৌধুরী ॥ উত্তরের মেয়র প্রার্থী ব্যবসায়ী মাহি বি চৌধুরীর বার্ষিক আয় তিন লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি। শেয়ার থেকে আয় ৬ লাখ, স্ত্রী ও নিজের নামে নগদ অর্থ আছে দেড় লাখ টাকার বেশি। স্বামী ও স্ত্রীর জমাকৃত অর্থ তিন লাখ। ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার নিসান গাড়িও আছে। সাভারে আছে ৩১ লাখ ৬২ হাজার টাকার কৃষি জমি। ২৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আছে ব্যাংক ঋণ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাস করেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

নাদের চৌধুরী ॥ জাসদ সমর্থিত উত্তরের মেয়র প্রার্থী অভিনেতা নাদের চৌধুরী। স্নাতক পাস করা এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। এক সময়ের খ্যাতিমান এই অভিনেতার বছরে ব্যবসায়িক আয় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি। নিজের নামে নগদ অর্থ আছে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৩ টাকা ও স্ত্রীর নামে আছে ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি চালান তিনি। স্বামী-স্ত্রী মিলে আছে শতভরি স্বর্ণ। পৈত্রিক সূত্রে কোটি টাকার বাড়ি আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি ॥ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাবেক আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। এম, এল, এম পাস এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আছে তিনটি মামলা। রফতানি শিল্প থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জরিপ পরিদর্শন, প্রকাশনা-বিজ্ঞাপন, আইটি থেকে শুরু করে বহুমাত্রিক ব্যবসায়ী তিনি। বছরে ব্যবসা থেকে আয় ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেয়ার থেকে আয় ১ লাখ টাকা। ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা আছে ৬৫ হাজার, বন্ড কেনা আছে ১ লাখ টাকার। ২০১১ মডেলের আছে লেক্সাস জিপ। স্বর্ণ ৪০ তোলা। বসুন্ধরা ও পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার প্লট আছে নিজের নামে। সাভারে আছে ৬ তলা শিল্প ভবন, তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার আছে অফিস। নিউমার্কেটের নায়েম রুটে আছে ফ্ল্যাট ও পটুয়াখালীতে আছে নিজের বাড়ি।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের যত মামলা ॥ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গড়ে ৮টি করে মামলা আছে। একজনের বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ মামলা আছে ১২০টি। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সহিংসতা, ককটেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ এবং সরকারী জানমালের ওপর আঘাতের অভিযোগে এসব মামলা আছে। এসব মামলার বেশিরভাগই তদন্তাধীন আছে। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

নির্বাচনী হলফনামায় দেখা গেছে বিএনপির যেসব নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের অধিকাংশই মামলার আসামি। তাদের বেশিরভাগই পলাতক। দু-একটি মামলায় তারা জামিনে আছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রামপুরা থানা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফারুকের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। তিনি আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টির বেশি মামলা। তিনিও আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দক্ষিণের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হামিদুল হকের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। খিলগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম এবং দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৯টিরও বেশি মামলা। দক্ষিণের ২ ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা এনামুল হক কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাশকতার ৫টি মামলা। গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে আছেন। দক্ষিণের ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও সাধারণ সম্পাদক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আজমত আলী কনু ১০টি মামলা ঘাড়ে নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। দক্ষিণের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি রাজনৈতিক মামলা। দক্ষিণের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বাদশার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা আছে।

দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্রার্থী মকবুল আহম্মেদ কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ৭টি। দক্ষিণের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক মামলা আছে। তিনি আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ রাজনৈতিক মামলায় আত্মগোপনে আছেন। দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেনের বিরুদ্ধে ৮টিরও বেশি মামলা আছে। দক্ষিণের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান তানভীর রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডেও সাবেক কমিশনার সবুজবাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল হুদার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। তবে তিনি জামিনে রয়েছেন। দক্ষিণের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। বর্তমানে কারাগারে আছেন। দক্ষিণের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। তিনি আত্মগোপনে আছেন।

দক্ষিণের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী বিএনপি নেতা সাইদ হোসেন সোহেল রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। একই ওয়ার্ডেও প্রার্থী আমিনুল ইসলাম আমীনের বিরুদ্ধে প্রায় ৪টি মামলা থাকায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। দক্ষিণের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডেও বিএনপি নেতা জামালুর রহমান চৌধুরী, রেজাউল করিম বদু, গোলাম সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৪টিরও বেশি করে মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে। বর্তমানে তিনি এই দুই মামলায় কারাগারে আছেন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বিএনপি নেতা আনিসুর রহমানের বিরেুদ্ধে কয়েকটি মামলা, উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে মিরপুর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা আছে। উত্তরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ওয়াহিদুল আলম লাবুর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা। উত্তরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল মিসেরের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা। ঢাকা সিটি নির্বাচন উত্তরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দুলাল আহমেদ, আকরাম হোসেন ও মাহবুবুর রহমান মনির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৯টির বেশি মামলা রয়েছে।

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০১৫

০১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: