মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আনিসুল ও মিন্টু মেয়র প্রার্থী হওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫
  • সবাই নামছেন ভোট উৎসবে

এম শাহজাহান ॥ আনিসুল হক ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু ঢাকা সিটির মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোট উৎসব শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তিও নেমে এসেছে। কে হবেন ঢাকা উত্তরের নগর পিতা এই মুহূর্তে সেই হিসেব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আনিসুল হক কিংবা আব্দুল আউয়াল মিন্টু যেই মেয়র নির্বাচিত হউন না কেন ব্যবসায়ীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে নতুন মেয়র বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও তাঁরা মনে করছেন। এ কারণে হেভিওয়েট এই দুই মেয়র প্রার্থী নিয়ে নগরবাসীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের চায়ের কাপেও এখন ঝড় বইছে। সরগরম হয়ে উঠছে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের পার্লামেন্ট খ্যাত শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, আনিসুল হক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এ খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই মূলত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভোট উৎসবের উত্তেজনা শুরু হয়। কারণ আনিসুল হক বেশ আগে থেকে এফবিসিসিআই নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো এবার সভাপতি হওয়ার জন্য সরকারের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আর আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবে দু’বছর আগ থেকে ঢাকার মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। এক্ষেত্রে সমর্থন যুগিয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ। কিন্তু আনিসুল হক প্রার্থী হওয়ার খবরে এবার নড়েচড়ে বসেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীরাও। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক মতবিনিময় সভায় আনিসুল হকের পক্ষে কাজ করার জন্য দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীরা আনিসুল হকের পক্ষে কাজ শুরু করেছেন।

শুধু তাই নয়, আনিসুল হক, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমি দল করি। তাই দল যেহেতু আনিসুল হককে সমর্থন দিয়েছে তাই আমিও আনিসুল হকের পক্ষে কাজ করছি। তাঁর সঙ্গে গিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। তিনি বলেন, আনিসুল হকের আরেক পরিচয় তিনি ব্যবসায়ী নেতা। এর আগে তিনি এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিজিএমইএতে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে আরেকজন ব্যবসায়ী নেতার পক্ষে কাজ করছি। আনিসুল হক যাতে বিজয়ী হতে পারেন সেই চেষ্টা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, আনিসুল হক প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে শেষ পর্যন্ত আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে তাঁর ছেলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে মিন্টুর ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে বলে দাবি বিএনপিপন্থী শিল্পোদ্যোক্তাদের। তাছাড়া মিন্টু একাধারে দু’বার এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এফবিসিসিআইয়ের আজকের এই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মিন্টুর অবদান রয়েছে বলেও বিশ্বাস ব্যবসায়ীদের একটি অংশের। এছাড়া খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রভাব রয়েছে মিন্টুর। এ কারণে মিন্টু যাতে বিজয়ী হতে পারে সে লক্ষ্যে মাঠে রয়েছে ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী গ্রুপ। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মোতালেব জনকণ্ঠকে বলেন, মিন্টু ভাই বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে লড়বেন। তিনি সব সময় ইতিবাচক রাজনীতি করেছেন। তারপরও শুধু দল করেন এজন্য তাকে জেলে পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মিন্টু উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো সিটি কর্পোরেশনে প্রার্থী হননি। এজন্য দীর্ঘ সময় তিনি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এখনও করছেন। ব্যবসায়ীরা তাঁর পক্ষে রয়েছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে মিন্টু বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে বিশ্বাস এই ব্যবসায়ী নেতার।

জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যবসায়ী এই দু’নেতা প্রার্থী হওয়ায় দেশের ৭৫টি চেম্বার এবং ৩৭৬টি এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এখন ভোট উৎসবে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এই নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি এই নির্বাচন নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আনিসুল হককে প্রার্থী করায় ব্যবসায়ীরা খুশি। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আনিসুল হক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন। কারণ ইতোমধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বপালনকালে তিনি দেশের সকল জেলা চেম্বার উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, আনিসুল হককে মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা ব্যবসায়ীরা তাঁর পক্ষে কাজ শুরু করেছি।

এদিকে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। কাজের পরিধি বেড়েছে মেয়রের। যেকোন ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি একটি দোকান খুলতে গেলেও ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। এই ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা শহরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ দোকান মালিক সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। আবার অনেকে অনুমোদন না নিয়েও যত্রতত্র বাণিজ্যিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বেশ কিছু মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্স রয়েছে। কিন্তু নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে প্রতিপালন না হওয়ার কারণে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। এজন্য স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এই সংস্থার সেবার মান বাড়াতে হবে।

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৫

২৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: