রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০১৫

নগ্নতার মোহ

দুখু বাঙাল

মানুষ ছাড়া আর কারো ঘটে নাই বসত বদল

মানুষই কৃত্রিম জীব বাকি সব অকৃত্রিম-আদি

অরণ্যের ধারে গেলে জাগে তার মমতার ঢেউ

আদিম নিবাস কিনা মন তার ফেরে না কিছুতে

আপনার নগ্ন ছায়া আপনারে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়

তবু তারা ওড়ায় পায়রার দল আকাশের পথে

যারা ঠিক ফিরে আসে লোকালয়ে পুরনো ডেরায়

বাগবাকম ধ্বনি ওটে সর্বত্রÑ শোনো লোক, দাগ

যার দেহ-মনে ধনুকের সে মানুষ যুদ্ধ করিবেই।

বদরুল হায়দার

শুভ বোধোদয়

আশা বাঁচিয়ে রাখলো একটি হৃদয়

তোমার অভাব আর বিপাসার অপবাদে

স্বভাবেরা জয় পরাজয়ে খোঁজে নবাবী বিষাদ।

তুমি বেভুলে তুমুল কবুলের মালা পরে

ষোল কলায় পণ্য চাহিদার ঘরে গড়ে তোলে

প্রেমের ভূগোল।

তামাবিলে তোমার অবাধ গরমিলে

গারদ হৃদয় কাবিখার ভাগাভাগি চলে

গোপন আপষে ফোটে বেদনার ফুল।

সোনা পাহাড়ের মর্মরিত ব্যথা না কথার

পরশে অপার স্ব-ঘোষিত অজানার কাছে

স্মৃতিরা পরমাত্মীয়তায় নাচে গৃহঘুমে।

ঢেউ খেলা অবেলায় তোমার হৃদয়

সমুদ্রে অভয়ানন্দে বিষাদ ও ক্ষয়

বিনয়ের অমরতা মেখে বেঁচে থাকে

শুভ বোধোদয়।

লেনা দেনা শেষে আমি জীবনের দেশে

তুলকালাম আশা ও দূরাশার কাছে বসে থাকি।

নিশি-কন্যা

হামীম ফারুক

এ বাড়িটি ঘিরে ছিল নানা গল্প :

নিশিকন্যার পায়চারি, পায়ের কোমল শব্দ

রাতের শেষ অন্ধকার মিলিয়ে যাওয়ার আগে

বাদুড়ের ডানায় চেপে ভর করেছিল

কারো কাঁধের কাছে জলসা ঘরের দীর্ঘশ্বাস

পৌঁছে যায় বাজারের ওপর বড় সেতুটি পর্যন্ত

পাখির ডিম খুঁজতে গিয়ে

একদিন পাওয়া গেল ভুর্জপত্রÑ নাগরী ভাষায়।

সবাই তখন নেমে পড়েছে গোপন কুঠুরীর ভেতর

দুর্ভিক্ষ-পীড়িতদের জমানো সঞ্চয়ের খোঁজে।

তারা দেয়ালের নকশী ইটের অর্থ বুঝতে না পেরে

ফেলে দিতে থাকে ঘরে, একটি কুয়োয়।

ঝাড়বাতির ভাংগা টুকরোয়

নিজেদের চেহারা দেখে আতংকে ফিরিয়ে নেয় মুখ

অচেনা রোগের ভয়ে

শুকনো পাতার ওপরে পড়ে ছিল একপাটি মখমলের জুতো-

ইঁদুরের দাঁত চালানার সাথী হয়ে বহুকাল পড়ে ছিল ওটা

মানুষগুলো কেইউ সেটির দিকে হাত না বাড়িয়ে

নিশিকন্যার উদ্দেশে ছুড়ে দিয়েছিল খেউড়।

সংসারের টুকিটাকি এখন উঠোনে

একটি হাতল-ভাংগা সাইকেলও পড়ে থাকে বিরাণ বারান্দায়

নিশি-কন্যার পোস্টার ঝুলে বাজরে। মনোহারী দোকানে।

শীত এলে দূরে বসে পালাগানের আসর।

স্বাধীনতা আমার

খোন্দকার মিজানুর রহমান

স্বাধীনতা আমার লক্ষ প্রাণের বক্ষঝরা রক্ত গোলাপ

হৃদয়জুড়ে সুবাস মাখা শান্তি সুখ আর শোকের আলাপ।

স্বাধীনতা আমার আগুন ঝরা ফাগুন দিনের জয়ধ্বনি

শক্তি-সাহস-সংগ্রাম আর পরম পাওয়ার অমর বাণী।

স্বাধীনতা আমার সবার জন্য দু’মুঠো অন্ন, অভয় ঠাঁই

সুখে-দুঃখে মায়ের বুকে একসাথে বেঁচে থাকার স্বপ্নটাই।

স্বাধীনতা আমার আকাশ ভরা সূর্য তারা সবুজ জমিন

জনম-জনম ভালোবাসায় আছে হৃদয়-রাজ্যে আসীন।

স্বাধীনতা আমার শত শহীদের আত্মদানের অভিধান

সব মানুষের ‘অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-সেবা-বাসস্থানের অভয়দান।

স্বাধীনতা আমার জাতিকে জাগিয়ে তোলার মূলমন্ত্র

সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার জননন্দিত গণতন্ত্র।

স্বাধীনতা আমার অসুন্দরকে বদলে দেয়ার অঙ্গীকার

শুধু কথায় নয়, বেঁচে ঢাকার সমান সমান অধিকার।

স্বাধীনতা আমার সুখের স্বপ্ন প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশ

সন্ত্রাস আর শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার ইচ্ছা অশেষ।

প্রকাশিত : ২৭ মার্চ ২০১৫

২৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: