মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রঙে রঙিন র‌্যাগ ডে

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫
  • বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

নাচ-গান, আনোন্দ-উল্লাস আর রং মাখা-মাখির মাধ্যমে জমে উঠে চারপাশ। এর মধ্যেই বুকের এক কোণ থেকে মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কান্না। কাঁদছেও অনেকে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে। নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভর্তি হয়েছিলাম চারবছর আগে। এভাবেই যেন শেষ হয়ে গেল ৪ বছরের হাসি-কান্না আর সুখ-দুঃখের স্মৃতি। কিন্তু এমন অনেক স্মৃতি আছে যা কখনও শেষ হয় না। কিছু থেকে যায় আজীবনের জন্য। এ স্মৃতি জড়িয়ে আছে ক্লাস রুমের দেয়ালের প্রতিটি ইটে, প্রতিটি চেয়ার-টেবিলে, জব্বারের মোড়ে নাইমের দোকানে সিট নিয়ে কাড়া-কাড়ি, কেআর মার্কেটে চায়ের দোকানে আড্ডা, বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘোরা-ঘুরি, খুনসুটি, নদীর পাড়ে সময় কাটানো, সবার সঙ্গে নৌকা ভ্রমণে। আর মাসে মাসে বন্ধুদের জন্মদিন পালন, কেক কাটা আর মাঝে মাঝে হঠাৎ কাউকে চমকে দেয়া। এসব কথা মনে উঠলেই চোখে পানি চলে আসে। সময় ও ব্যস্ততা বড়ই নিষ্ঠুর। যে বন্ধন হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে, কে পারে এ বন্ধন ছিঁড়তে?

৫ মার্চ বৃহস্পতিবার একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে সকলের মনে আজীবন। কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের বিএসসি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের র‌্যাগ ডে। শেষ ক্লাসের পর থেকেই চলতে থাকে আমাদের র‌্যাগ ডে পালনের প্রস্তুতি। র‌্যাগ ডে সম্পন্ন করতে সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সেইসঙ্গে চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া। নানা রঙের আল্পনায় সাজিয়ে তোলা হয় অনুষদ ভবন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বন্ধুদের গায়ে থাকে র‌্যাগ ডের স্লোগান সংবলিত সাদা টিশার্ট, প্রত্যেকটি র্টিশার্টে আমাদের সকলের স্বাক্ষর করা। বের করা হয় বিশাল আকারের আনন্দ র‌্যালি। র‌্যালিতে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, স্থানীয় ঐতিহ্যের চিত্র বহনকারী বিভিন্ন সামগ্রী। আনন্দ র‌্যালিতে সকলে নানা রঙে, নানান ঢঙে বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে মুখরিত করে তুলে পুরো ক্যাম্পাসকে। সকাল বেলা কেক কাটার মাধ্যমে দিনব্যাপী র‌্যাগ ডে শুরু করে দিনভর আনন্দ, রং ছোড়াছুড়ি, বাদ্যযন্ত্রের তাল নাচ-গান, আড্ডা, ট্রাকে চড়ে গোটা ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালি, দেশীয় ঐহিত্যবাহী খেলাধুলা, সাইকেল ভ্রমণ, সবাই একসঙ্গে মিলে খাওয়া-দাওয়া করা আর কী না করলাম। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর রাতে বার-বি-কিউ পার্টির প্রস্তুতি। বার-বি-কিউ পার্টিটা ছিল সবচেয়ে মজার। সারা দিন আনন্দের পর একটু বিশ্রাম আর আনন্দের খুনসুটি। এভাবে কখন যে গভীর রাত হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।

বিদায়ের বেলায় অনেকের মুখে বেরিয়ে আসল, ভীষণ আনন্দ লাগছে ঠিকই কিন্তু তার মাঝেও খানিকটা বেদনা লুকিয়ে আছে। আর সেটা হচ্ছে ভালবাসায় বাকৃবি ক্যাম্পাস এবং বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট। সব শেষে অশ্রুসিক্ত লোচনে আর নির্বাক কণ্ঠে অন্তর বলে উঠে যেন, ‘দেখা হবে বন্ধু কারণে বা অকারণে...’। আর এ রকম কিছু টক-ঝাল-মিষ্টি-মধুর গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনন্দঘন র‌্যাগ ডে উদযাপন।

নাজিব মুবিন

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৫

২২/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: