আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুগে যুগে সাহসী নারী

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

এ্যামেলিয়া ম্যারি এয়ারহার্ট : আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কত প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে, কত হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। এখানে প্রকৃতির বৈরিতা এতই প্রকট যে, পাইলটদের জীবন হাতে নিয়েই মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু দুঃসাহসী পাইলটদের রুখে কে? রুখতে পারেনি এ্যামেলিয়া এয়ারহার্টকেও। তিনি আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইতিহাসকেই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। একাকী প্রথম আটলান্টিক পাড়ি দেয়া নারী পাইলট হিসেবে নারীজাতির অনুপ্রেরণাদাত্রী এই নারী কেবল এতেই ক্ষান্ত হতে চাননি। চেয়েছিলেন পুরো বিশ্বের সবর্ত্র উড়ে বেড়াতে। সকল দুর্গমতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশ্ব জয় করতে চেয়েছিলেন এই সাহসী নারী। কিন্তু অসীম সাহসী এই নারী পাইলট প্লেনসুদ্ধ অদৃশ্য হয়ে গেছেন। কেউ জানে না এই দুঃসাহসী নারীর ভাগ্যে কী ঘটেছিল। তিনি নেই, তবে তার অসীম সাহস আজও নারী পাইলটদের জন্য দুর্জয়কে জয় করার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

হেলেন কিলার : একটি বোবা কালা শিশুকে নিয়ে কেউই স্বপ্ন দেখতে সাহস করেনি। শিশুটির দ্বারা যে কিছু করা সম্ভব, কেউই দিব্যদৃষ্টি দিয়ে তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু বোবা কালা সেই শিশুটি নিজের বুদ্ধিমত্তা, একাগ্রতা এবং সাহস দিয়ে সে যুগের মানুষদের হতবাক করে দিয়েছিলেন। বর্তমান ও আগামীর প্রজন্মের জন্যও এক বিস্ময় হয়ে থাকবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর মেধার প্রসারণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারেনি। অসীম সাহস বুকে ধারণ করে লেখাপড়া করেছেন সাফল্যের সঙ্গে। লিখে গেছেন অসংখ্য বই। এমনকি রাজনীতিও করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। প্রতিবন্ধী হলেই যে জীবন অন্ধকার, তা হেলেন বিশ্বাস করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, অসীম সাহসের ওপর ভর করে প্রতিবন্ধীরাও পারে অন্যসব স্বাভাবিক মানুষের মতো সাফল্যের চূড়ায় উঠতে। তিনি পেরেছিলেন অদম্য সাহসে শারীরিক ও সামাজিক সকল প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে সাফল্যের শীর্ষে আরোহন করতে। প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে তাই হেলেন কিলার এক সাহসী নারীর নাম, এক অনুপ্রেরণার নাম।

মাদার তেরেসা : একজন নান তথা সিস্টার হিসেবে নিজ দেশ মেসোডোনিয়া থেকে সুদূর ভারতবর্ষে পাড়ি দিয়েছিলেন আর্ত মানবতার সেবা করার জন্য। পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলতে আর্ত মানবতার সেবায় তিনি তার পুরো জীবনই উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। অসুস্থ রোগীদের সেবা-শুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। যেসব রোগীর কাছে ছোঁয়াচ লাগার ভয়ে মানুষ কাছেই ঘেষত না, তাদের দিনরাত সেবা দিতেন তিনি অসীম সাহসের ওপর ভর করে। তিনি গরিব ও অসুস্থ মানুষের সেবা দিয়ে পুরো পৃথিবীকেই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন। আজকের সুন্দর পৃথিবী এই মহীয়সী নারীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

রোজা পার্কস : সাদা চামড়া আর কালো চামড়ার মানুষের মাঝে বৈষম্য যখন প্রকট ছিল, তখন রোজা পার্কস এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ঝলছে উঠেছিলেন। বর্ণবাদবিরোধী এই আফ্রোআমেরিকান নারী নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য খ্যাতিমান হয়ে রয়েছেন। তিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন বাসের সিট নিয়ে সংঘটিত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কালো বলে তাঁকে বাসের ড্রাইভার সিটে বসতে না দিতে চাইলেও তিনি তাঁর সিট ছাড়েননি। প্রতিবাদ করেছিলেন। এজন্য তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বর্ণবৈষম্য দূর করাসহ কালোদের নাগরিক অধিকার আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন অসীম সাহসে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ভয়কে উপেক্ষা করে। তাঁর এই নির্ভীক মনোভাব আজকের নারীদের অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা।

অং সান সুকি : মিয়ানমারকে গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করার জন্য অং সান সুকি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। গণতন্ত্রকামী এই নেত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসীম সাহসে ভর করে স্বৈরাচারী জেনারেলদের নির্যাতন-নিপীড়নের তোয়াক্কা না করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কারণে তাঁকে বিশ বছরেরও বেশি সময় গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছিল পরিবার পরিজন ছাড়া। তারপরেও অসীম সাহসী এই নারী তাঁর লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলার মতোই অং সান সুকি এক অনুপ্রেরণার নাম।

জোয়ান অব আর্ক : সাহসী নারীদের কথা বলতে গেলে জোয়ান অব আর্কের কথা বলতেই হবে। এই সাহসী নারী শতবর্ষব্যাপী ইংল্যান্ড-ফ্রান্স যুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষে ছিলেন অন্যতম একজন বীরসৈনিক। কৃষক পিতার ঘরে জন্ম নেয়া জোয়ান অব আর্ক ইংল্যান্ডের কবল থেকে ফ্রান্সকে রক্ষা করার জন্য মাত্র ১৩ বছর বয়সেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর অসামান্য নৈপুণ্য আর সাহসিকতায় ফ্রান্সের সৈন্যরা অরলেন্সের যুদ্ধে জয় লাভ করে। জোয়ান বিশ্বাস করতেন যে, ঈশ্বরই তাঁকে ইংরেজদের হারাতে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই যোদ্ধা নারীকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে বিচারে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিল। সাহসী এই নারী যোদ্ধা সংগ্রামী নারীদের কাছে এক প্রেরণার নাম।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৫

২০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: