হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জেবি অয়েলের মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত

প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০১৫
  • পাট শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি

কাওসার রহমান ॥ শেষ পর্যন্ত পাট প্রক্রিয়াকরণের অন্যতম উপাদান জুট বেচিং (জেবি) অয়েলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। এখন আগের দামেই পাট শিল্পের উদ্যোক্তারা জেবি অয়েল কিনতে পারবে।

জেবি অয়েলের হঠাৎ অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছিল দেশের পাট শিল্পের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কোন প্রকার আগাম ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি জেবি অয়েলের দাম ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল। এই অত্যাবশ্যকীয় উপকরণের উচ্চ হারে মূল্য বৃদ্ধিতে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল দেশের পাট শিল্প।

জানা যায়, জেবি অয়েলের দাম এক লাফে ৬২ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে পাটপণ্য উৎপাদনের খরচ বছরে ১৪৭ কোটি টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত এই খরচের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পাটপণ্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ত। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত। এ কারণে সরকারী ও বেসরকারী খাতের পাট শিল্পের উদ্যোক্তারা এক শ’ কোটি ডলারের পাটপণ্য রফতানির স্বার্থে জেবি অয়েলের এই মূল্য বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে জেবি অয়েল বাবদ পাট শিল্পে বছরে ব্যয় হয় ২৩৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান জেবি অয়েলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জেবি অয়েল পেট্রোল-অকটেনে ব্যবহার হতে পারে। কিন্তু সয়াবিন তেলের সঙ্গে মেশানোর যুক্তি খুব একটা গ্রাহ্য নয়। কারণ সয়াবিন তেলের সঙ্গে মেশালে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং ওই তেল খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।’

বর্তমানে দেশের পাট শিল্পে ৩০ হাজার টন জেবি অয়েল ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে পাট সুতা তৈরিতে জুট স্পিনিং খাতেই ১৮ হাজার টন জেবি অয়েলের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের পাটকলসমূহ বছরে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পাটপণ্য তৈরি করে। এ পাটপণ্য তৈরির জন্যই প্রায় ৩০,০০০ টন জেবিও’র প্রয়োজন। উৎপাদিত ১০ লাখ টন পাটপণ্যের মধ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টন পাটপণ্য রফতানি করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গত ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট জারির মাধ্যমে জেবি অয়েলের (জুট ব্যাচিং অয়েল) মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে। আগে প্রতি লিটার জেবি অয়েলের মূল্য ছিল ৬৭.৭০ টাকা। ৬২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ওই অয়েলের দাম করা হয় প্রতি লিটার ১১০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে মূল্য বৃদ্ধি করা হয় ৪২.৩০ টাকা। জেবি অয়েল একটি পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। এটি পেট্রোল-অক্টেনের বাই-প্রডাক্ট হিসেবে উৎপাদিত হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি এই তেল উৎপাদন করে। যা পাট শিল্পে ব্যবহৃত হয় পাটকে নরম করার জন্য।

অন্যদিকে সয়াবিন হচ্ছে একটি ভোজ্য তেল। যা অপরিশোধিত আকারে বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হয়। এটি সয়াবিন বীজ থেকে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে খোলা বাজারে এই তেল ১০২-১০৪ টাকা দরে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা অভিযোগ ছিল, জেবি অয়েল দেখতে অবিকল সয়াবিনের মতো। আবার দামও সয়াবিনের চেয়ে অনেক কম। এ কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সয়াবিনের সঙ্গে জেবি অয়েল মিশিয়ে অনৈতিক মুনাফা করত। জেবি অয়েল মিশ্রিত সোয়াবিন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণেই জেবি অয়েলের দাম বাড়িয়ে সয়াবিনের কাছাকাছি নেয়া হয়েছিল। যাতে সোয়াবিনের সঙ্গে মেশানো লাভজনক না হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ এম বদররুদ্দোজা জনকণ্ঠকে বলেন, ‘সোয়াবিনের সঙ্গে জেবি অয়েল মেশানোর প্রমাণ পেয়েই আমরা মূল্য বৃদ্ধি করেছিলাম। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণেই এ তেলের দাম সয়াবিনের সমান করা হয়েছিল।

জানা যায়, এ মূল্য বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করতে বিজেএসএ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুত ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকও হয়। পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, মূল্য বৃদ্ধির আগে সয়াবিনের সঙ্গে জেবি অয়েল মিশানোর বিষয়ে অনুসন্ধ্যান করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটির কাজ শুরুর আগেই কর্পোরেশন জেবি অয়েলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে পাট শিল্পের উদ্যোক্তারা হতবাক হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল হোলসেল মার্চেন্টস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মাওলা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা সয়াবিনের সঙ্গে পাম তেল বা সুপার পাম তেল মিশ্রিত করে বলে আমরা জানি। কিন্তু বেজি অয়েল মিশানোর ব্যাপারটি আমাদের জানা নেই।’

বিশেষজ্ঞারাও বলছেন, সোয়াবিনের সঙ্গে জেবি অয়েল মেশানো সম্ভব। তবে তাতে তীব্র গন্ধ সৃষ্টি হবে। ফলে এই মিশ্রন সহজেই ভোক্তাদের কাছে ধরা পড়বে।

প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০১৫

১০/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: