রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ হাসান রাজাকার নিজ হাতে আমার বাবাকে গুলিতে হত্যা করে

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫
  • ১৯তম সাক্ষী নারায়ণ চক্রবর্তীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষী নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্র্তী জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি হাসান আলী নিজ হাতে গুলি করে আমার বাবা কৃষ্ণ চক্রবর্তী ও কামিনী ঘোষকে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের ৮ম সাক্ষী মহসীন আলী জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি মাহিদুর ও চুটু বিলাত ম-লের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতারকৃত জামালপুরের দুই রাজাকার এস.এম ইউসুফ আলী ও এ্যাডভোকেট মোঃ শামসুল হককে ধানম-ির সেফ হোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার ক্ষেত্রে তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৯তম সাক্ষী নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্র্তী জবানবন্দী প্রদান করেছেন।

সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে বলেছেন, একাত্তরে আমার বয়স ছিল ৯/১০ বছর। সে সময় আমি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আনুমানিক এক মাস পর পাকিস্তানী আর্মিরা তাড়াইল থানায় আসে। আর্মিরা আসার পরপরই কিশোরগঞ্জ হযরতনগর আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মওলানা মুসলেহউদ্দিন সাহেবের ছেলে সৈয়দ হাসান আলী রাজাকার কমান্ডার ও দারোগা হিসেবে তাড়াইল থানায় আসে। রাজাকার সৈয়দ হাসান আলী তাড়াইল থানায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করে।

সাক্ষী জবানবন্দীতে আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর শুক্রবার আনুমানিক দুইটার দিকে খাওয়ার পরে আমি আমার কাকাত ভাই বাঁধন কুমার চক্রবর্তী, চন্দন কুমার চক্রবর্তী, সাধন কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে পার্শ¦বর্তী পুরুরা বাজারে যাই। বাজারে থাকা অবস্থায় বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা সংবাদ পাই যে, রাজাকাররা আমাদের চিকনি গ্রাম আক্রমণ করেছে। এই সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত বাজার থেকে বাড়ির দিকে রওনা হই। পথে কোনা ভাওয়াল গ্রামের মুচি বাড়ির সামনে পৌঁছালে পর পর দুটি গুলির শব্দ পাই। আমরা দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেখি আমার জেঠিমা গৌরি রানী চক্রবর্তী ও মা মিলন রানী চক্রবর্তী কান্নাকাটি করছেন। জেঠিমার ডান গালে জখমের চিহ্ন ও সেখান থেকে রক্ত পড়তে দেখি। আমার জেঠিমা আমাদের জানায়, স্থানীয় রাজাকার আসকর আলী তার রাইফেলের বাট দিয়ে তার গালে আঘাত করে। তিনি আরও জানান, আসকর আলীর নেতৃত্বে ৫ রাজাকার আমাদের বাড়িতে এসে আমার বাবা জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তীকে ধরে পিছমোড় করে বেঁধে ফেলে মারধর করতে থাকে। এবং বাড়িতে লুটপাট চালায়। আমার মা ও জেঠিমা আমার বাবার প্রাণ ভিক্ষার জন্য রাজাকারদের কাছে অনুনয় বিনয় করে। তখন রাজাকাররা বিনিময়ে টাকা দাবি করে। তখন আমার মা ও জেঠিমা বাড়িতে থাকা তিন শ’ টাকা ঐ রাজাকারদের হাতে দেয়। কিন্তু রাজাকাররা বাবাকে না ছেড়ে মা ও জেঠিমাকে বলে যে, নদীর ওপারে কামিনী ঘোষের বাড়িতে রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ হাসান আলী অবস্থান করছেন। তার নির্দেশ ছাড়া ছাড়তে পারব না। রাজাকাররা আমাদের বাড়িতে থাকা পাঁচটি গরু নিয়ে যায়। স্থানীয় রাজাকার সোলজারকে ঐ গরুগুলো তাড়াইল থানায় কমান্ডার হাসান আলীর কাছে পৌঁছে দিতে বলে। এরপর রাজাকাররা আমার বাবাকে নদী পার করে কামিনী ঘোষের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে আসার পরে আমরা জানতে পারি, রাজাকার কমান্ডার হাসান আলী আমার বাবা জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তী ও কামিনী ঘোষকে গুলি করে হত্যা করেছে। পরে বাবার লাশ গ্রামে নিয়ে আসি এবং রাজাকারদের ভয়ে মাটি চাপা দেই।

মাহিদুর চুটু ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতারকৃত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের ৮ম সাক্ষী মহসীন আলী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রবিবার এ আদেশ প্রদান করেন।

সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ ॥ এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতারকৃত জামালপুরের দুই রাজাকার এসএম ইউসুফ আলী ও এ্যাডভোকেট মোঃ শামসুল হককে ধানম-ির সেফ হোমে নিয়ে অধিককতর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার ক্ষেত্রে তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে। সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি পক্ষের দুই আইনজীবী ও একজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৯ মার্চ ২০১৫

০৯/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: