মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজীবন বাংলা গানের সঙ্গে থাকতে চান সাবা...

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫
  • নতুন তারকা

বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মা গৃহিণী। তাঁর ছোট এক আদরের বোন পড়ে ক্লাস টেনে। বাবা-মা চেয়েছিলেন মেয়ে ডাক্তার হবে। তাঁরও তেমন ইচ্ছে ছিল। কিন্তু যে মা তিন বছর বয়সে অর্ডার দিয়ে হারমোনিয়াম কিনে এনে দিয়ে গানের প্রতি ভাললাগার বীজ বুনে নেয়। তাঁর কি করে ডাক্তার হওয়া হবে। হলোও না তাঁর ডাক্তার হওয়া, হয়ে গেলেন সঙ্গীত জগতের একজন। একাধারে তাঁর গান, নাচ ,আবৃত্তি সব বিষয়ে দখল আছে। তবে গানের প্রতিই তাঁর অপার ভাললাগা। বলছি সাবরিনা হক সাবার কথা। বন্ধুমহলে ও সঙ্গীত জগতে সবাই তাকে সাবা নামেই চিনে। সাবার ছোট বেলা কেটেছে ঢাকাতে। পড়াশোনা করেছেন ভিকারুননিসা স্কুল ও কলেজে। যখন তার তিন বছর বয়স তখন তাঁকে ভর্তি করা হয় শিশু একাডেমিতে। সেখান থেকে তিন বছরের কোর্স শেষ করেন। এরপর তাঁর নজরুল সঙ্গীতের ওপর পড়াশোনা শুরু ছায়ানটে। এখান থেকে শেষ করেছেন সাত বছরের কোর্স। তারপর ২০০৮ সালে জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরার কাছে নজরুল ও ক্ল্যাসিক্যাল শেখা শুরু করেন অনিল কুমার সাহার কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকে মা-বাবার উৎসাহ ও নিজের ভাললাগা থেকে তিনি বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। তিনি মার্কস অলরাউন্ডার অংশগ্রহণ করে চতুর্থ হয়েছিলেন ২০১০ সালে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর পাওয়া পুরস্কারের সংখ্যা অনেক। যিনি ছোটবেলা থেকেই গানের ওপর এতো পড়াশোনা করেছেন। তিনি সঙ্গীতশিল্পী না হয়ে পারেন? তাই তো তাঁর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষমূলক মিশ্র এ্যালবামে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি সাত-আটটি মিশ্র এ্যালবামে গান করে বেশ সফলতা পান। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর প্রথম এ্যালবাম ‘অনলি সাবা’ বাজারে আসে ২০১৩ সালে। সাবা তাঁর প্রথম সলো অ্যালবাম নিয়ে বলেন, ‘‘যেহেতু এটা আমার প্রথম এ্যালবাম ছিল। তাই গানগুলো অনেক সময় নিয়ে ভাল করার বিশেষ চেষ্টা ছিল। আমার এ এ্যালবাম থেকে আসিফ ভাইয়ের সঙ্গে গাওয়া ‘পৃথিবী অনেক বড়’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং সঙ্গীতজগতে আমাকে সঙ্গীতশিল্পী সাবা পরিচয় এনে দেয়। প্রথম এ্যালবামের ব্যাপক সফলতার পর আমার দ্বিতীয় সলো এ্যালবাম বাজারে এসেছে এ মাসের ২৬ তারিখে ‘অনলি সাবা-২’ নামে সঙ্গীতার ব্যনারে। এ এ্যালবামে গান লিখেছেন দেরোয়ার আরজুদা শরফ, সোমেশ্বর অলি, শেখ এমদাদ সুমন, অনিক ও রোমান্স।” একটি গানের কথা ও সুর করেছেন সাবা নিজে। সুরারোপ করেছেন নাজির মাহমুদ, বেলার খান, কাজী শুভ, তৌসিফ, অনিক সাহান, রোমান্স ও রাহুল। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মুশফিক লিটু, প্রিতম হাসান, অনিক সাহান, রাফি, রাহুলও রোমান্স। সাবার সঙ্গে একটি করে গানের সহকণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর, এসআই টুটুল, তৌসিফ, কাজী শুভ ও ইলিয়াস হোসেন। সাবার দ্বিতীয় এ্যালবাম নিয়ে বলেন, ‘আমি আমার প্রথম এ্যালবাম যাদের সঙ্গে কাজ করে সফল হয়েছি। দ্বিতীয় এ্যালবামে আমার সঙ্গে তাঁরাই কাজ করেছেন। আশা করছি আমার প্রথম এ্যালবামের মতো দ্বিতীয় এ্যালবামও শ্রোতারা গ্রহণ করবেন।’ সিনেমায় প্লেব্যাকের কথা আসতেই সাবা বলেন, ‘আমি প্রথম সিনেমায় প্লেব্যাক করেছিলাম ২০০৪ সালে। আমার নিয়মিত সিনেমায় প্লেব্যাক করার ইচ্ছে আছে। তবে আমি ভাল গল্পের ভাল গানের সিনেমায় কাজ করতে চাই।’ পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কাজ করছেন। তাঁর নতুন এ্যালবাম থেকে দু-তিনটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। তিনি এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মিশ্র এ্যালবামের কাজও করেছেন। সাবার স্বপ্ন ভাল কিছু গান গাইতে চাই। আমি চাই আমার শ্রোতারা আমাকে নিজের গানে চিনবে। আমি এ্যালবামে যেভাবে গান করি শ্রোতারা আমাকে ঠিক সেভাবে লাইভে পাবেন। আমি সকলের দোয়া ও ভালবাসা চাই যেন ভাল বাংলা করতে পারি এবং সারাজীবন বাংলা গানের সঙ্গে থাকতে পারি।

প্রকাশিত : ৫ মার্চ ২০১৫

০৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: