আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড ॥ জঙ্গীরাই ঘটিয়েছে

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড ॥ জঙ্গীরাই ঘটিয়েছে
  • অভিযোগের তীর ফারাবীর দিকে
  • আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের হত্যার দায় স্বীকার
  • মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাজ- তদন্তকারীরা শত ভাগ নিশ্চিত
  • হুমায়ুন আজাদ রাজীবসহ প্রগতিশীলদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা একসূত্রে গাঁথা
  • অভিযোগের তীর ফারাবীর দিকে
  • আনসার বাংলা সেভেনের হত্যার দায় স্বীকার
  • মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাজ- তদন্তকারীরা শত ভাগ নিশ্চিত
  • হুমায়ুন আজাদ রাজীব, দীপসহ প্রগতিশীল ব্যক্তিদের হত্যাকান্ডের ঘটনা একসূত্রে গাঁথা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ-হরতাল নামের নৈরাজ্যের সুযোগে বিশেষ কোন উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাম্প্রদায়িক বিরোধী লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ড. অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে। আহত করে তার স্ত্রীকে। হত্যাকা-ের ঘটনায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ আর সমালোচনার ঝড় বইছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন পর্যালোচনা করে হত্যাকারীরা পেশাদার বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকা-ের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। ২৪ ঘণ্টায় তদন্তের কোন অগ্রগতি নেই, কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য রাতে পুলিশ দাবি করে ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামে একটি সংগঠন অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান জানান, ‘আনসার বাংলাসেভেন’ এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছে। এদিকে হত্যাকা-ের পর আবারও আলোচনায় চলে এসেছে ব্লগার রাজীবের জানাজা নামাজ আদায়কারী ইমামকে হত্যার হুমকিদাতা শফিউর রহমান ফারাবীর নাম। অভিজিৎ হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফারাবীর পক্ষ থেকে এটিকে একটি সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা ও হত্যাকা-ের ধরন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উগ্র মৌলবাদী কোন গোষ্ঠী এটি ঘটিয়েছে জঙ্গীরাই ঘটিয়েছে বলে তদন্তকারীরা প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। লেখক হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা আরিফ রায়হান দীপ, চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী, গোপীবাগের সিক্স মার্ডার ও অভিজিৎ রায় হত্যাকা-ের ঘটনা একসূত্রে গাঁথা বলে নিশ্চিত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। অভিজিৎকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের জঙ্গী সংগঠনটি হত্যা করতে পারে। যদিও বর্তমানে জঙ্গী সংগঠনটি ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের ১৫ থেকে ২০ গজ অদূরে যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় জড়িত অভিজিৎ রায়কে (৩৮) মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে। বাধা দিতে গেলে আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা (৩০)। তাকে রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে রাফিদাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন রাফিদা প্রাথমিকভাবে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে অভিজিতের পরিবার।

শুক্রবার সকাল সোয়া নয়টায় অভিজিতের পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. অজয় কুমার রায় শাহবাগ মডেল থানায় অজ্ঞাত খুনীদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৫১। মামলায় বলা হয়, অমর একুশের বইমেলায় তার ছেলের লেখা দুইটি বই প্রকাশ পেয়েছে। অভিজিৎ রায়ের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাসের দর্শন, ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’, ‘মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে’, ‘ভালবাসা কারে কয়’, স্বতন্ত্র ভাবনা : মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি, সমকামিতা : বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান।

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বই সম্পর্কে পাঠকের আগ্রহের বিষয়টি জানান ছাড়াও বাবা-মাকে দেখতে অভিজিৎ স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে অভিজিৎ বই মেলায় যায়। বইমেলা থেকে ফেরার পথে হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে। মামলা দায়েরের পর অভিজিতের বাবা অজয় রায় সাংবাদিকদের বলেন, উগ্র মৌলবাদী কোন গোষ্ঠীই তার ছেলেকে হত্যা করেছে। সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লেখালেখির জন্য অভিজিৎকে আগ থেকেই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল জঙ্গীবাদীরা। আর হুমকিদাতা জঙ্গীবাদীদের মদদ দিয়েছে জামায়াত।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অভিজিতের বাবা অজয় রায়ের রমনা থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ১০২-১০৪ নম্বর বাড়ির ২/এফ নম্বর ফ্ল্যাটে যান বলে জানান নিরাপত্তা প্রহরীরা। মন্ত্রীরা অপরাধীদের গ্রেফতারে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে অভিজিতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল থেকে অভিজিতের মগজের কিছু অংশ, রাফিদার বাম হাতের কেটে পড়ে থাকা বৃদ্ধাঙ্গুল, চশমা, পার্স ও ছোপ ছোপ রক্তের দাগ হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে। আলামতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

ওদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহত অভিজিৎ ও আহত রাফিদাকে দেখতে গিয়ে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করাসহ ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সোহেল মাহমুদ জানান, অভিজিতের মাথার পেছনে তিনটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকারীরা খুন করতে দক্ষ। মানুষের কোথায় আঘাত করলে দ্রুত মৃত্যু হয়, আঘাতের ধরন বলছে, হত্যাকারীদের তা জানা। হত্যাকারীরা দক্ষতার সঙ্গে হিংস্রভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। আধা ইঞ্চি ব্যবধানে আঘাতগুলো মাথার পেছনের দিকে করা হয়েছে; যা একজন মানুষের দ্রুত মারা যাওয়ার জন্য খুবই কার্যকর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে খুবই তাড়াতাড়ি অভিজিতের মৃত্যু হয়। হত্যাকা-ের পর অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উগ্রবাদীদের পক্ষে বিভিন্ন সময় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ফারাবীর নাম আবারও আলোচনায় এসেছে। ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামের একটি টুইটার এ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক টুইট করে এ হত্যাকা-কে ‘বিজয়’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। প্রথম টুইটটি করা হয় হামলার পর রাত বারোটার দিকে। যাতে বলা হয়, “আল্লাহু আকবর.. বাংলাদেশে আজ একটি বিশাল সাফল্য এসেছে। টার্গেট ইজ ডাউন..”।

কে এই ফারাবী ॥ ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। এই মঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন। তিনি থাবা বাবা নামে একটি ব্লগে লিখতেন। ব্লগে নানা আপত্তিকর লেখালেখি করার অভিযোগ ওঠে। তারই জের ধরে ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন পলাশনগরের ৫৬/৩ নম্বর নিজ বাড়ির সামনে রাজীবকে (৩৭) কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা জামায়াত-শিবির ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সদস্য বলে নিহতের পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করে।

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক হিসেবে শাহবাগে রাজীবের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজা আদায়কারী ইমামকে হত্যার হুমকি দেয় শফিউর রহমান ফারাবী নামে একজন। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে ফারাবীকে একটি মেস থেকে গ্রেফতার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। পরে ফারাবীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফারাবীর গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা সদরে। তার বাবা মরহুম ফেরদৌস রহমান। তিনি বিআরডিপির (বাংলাদেশ রুরাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট) উপ-পরিচালক ছিলেন। ফারাবীর এক ছোট বোন আছে। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। পিতার চাকরির সুবাদে ফারাবী নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন জয়হরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। আর নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। গ্রেফতারকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির চতুর্থ বর্ষ সম্মান শ্রেণীর অনিয়মিত ছাত্র ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ফারাবী ছাত্র শিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য। দলীয় নির্দেশে তিনি নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২০১০ সালে পুলিশের হাতে একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর জামায়াত-শিবির ও নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীরের সহায়তায় জামিনে বেরিয়ে যান। জামিনে বের হয়ে আবার হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর হিযবুত তাহরীর থেকে ফারাবী আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে একটি জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়ান। পরবর্তীতে রাজীব হত্যা মামলা থেকেও ফারাবী জামিনে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তির পর আবারও জঙ্গীবাদী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন ফারাবী।

পরবর্তীতে ফারাবীর তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাজীব হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে রাজধানীর বনানীস্থ বেসরকারী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রÑফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ (২২), মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক (২৩), এহসান রেজা ওরফে রুম্মন (২৩), নাইম শিকদার ওরফে ইরাদ (১৯) ও নাফিস ইমতিয়াজকে (২২) গ্রেফতার করে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা রাজীবকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানব›ীদ দেন। জবানবন্দীতে তারা এক বড় ভাইদের নির্দেশে ইমানী দায়িত্ব পালন করতে রাজীবকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হিযবুত তাহ্রীরের সদস্য। হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হলে তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের একটি জঙ্গী গ্রুপের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে বলেও জবানবন্দীতে জানায়।

এর আগে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে একইভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তচিন্তার লেখক ড. হুমায়ুন আজাদকে।

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল বেলা সোয়া এগারোটায় বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৪ নম্বর কক্ষের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবাসিক ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আরিফ রায়হান দীপকে কক্ষ থেকে ডেকে নিচতলায় নিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে বুয়েটেরই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মেজবাহ উদ্দিন (২৪)। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল বুয়েট ক্যাম্পাস থেকেই মেজবাহ উদ্দিন ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়। তিনি এমএস রশিদ হলের ছাত্র ছিলেন। বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানায়। গ্রেফতারের পর পরই মেজবাহ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। জানবন্দীতে মেজবাহ উদ্দিন দাবি করেন, ইমানি দায়িত্ব পালন করতেই তিনি দীপকে হত্যা করেছেন। তিনি ফরিদাবাদ মাদ্রাসার হুজুর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা মুফতি মাওলানা জসীমুদ্দিন রাহমানীর অনুসারী আবু সাঈদের ভক্ত।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, অভিজিৎ রায়, রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে চ্যানেল আইয়ের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী ও গোপীবাগের সিক্স মার্ডার ঘটনা একসূত্রে গাঁথা। হামলার ধরন, হামলার কারণসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীই হত্যাকা-গুলো ঘটিয়েছে বলে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া গেছে। উগ্র মৌলবাদী জঙ্গী সংগঠনগুলোর মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ছাড়াও জেএমবি, হুজি ও হিযবুত তাহরীরও রয়েছে সন্দেহের তালিকায়।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: