মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বখ্যাত নারী গোয়েন্দা

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ন্যান্সি ওয়েক : একজন ব্রিটিশ এজেন্ট হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে কাজ শুরু করেন। তিনি মিত্রবাহিনীর সবচেয়ে সতর্ক ও ছদ্মবেশী গোয়েন্দা ছিলেন। জার্মানিদের গুপ্ত পুলিশ গেস্টাপো তাকে হোয়াইটহাউস বলত। সে সময় তিনি ছিলেন, গেস্টাপোর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টেড গোয়েন্দা এবং ১৯৪৩ সালে তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক। ১৯৪৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ফ্রান্সের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তার সাত হাজার ফ্রান্স রেজিসটেন্সের গেরিলা সেনা অপরদিকে বাইশ হাজার জার্মান সেনার সঙ্গে যুদ্ধ হয়। তাতে ১৪০০ জার্মান সেনা নিহত হয়। অপরদিকে মাত্র ১০০ জন রেজিসটেন্সের গেরিলা সেনা নিহত হয়। সে একজন জার্মান সেনাকে খালি হাতে হত্যা করে। কারণ একটি রেইডের সময় সে এলার্ম বাজিয়ে জার্মান সেনাদের সতর্ক করার চেষ্টা করছিল। যুদ্ধের পর তিনি ঞযব টহরঃবফ ঝঃধঃবং চৎবংরফবহঃরধষ গবফধষ ড়ভ ঋৎববফড়স সম্মানে ভূষিত হন। তিনি যুদ্ধের পর জানতে পারেন যে, গেস্টাপো তার হদিস না বলার জন্য তার স্বামীকে টর্চার করে মেরে ফেলেছে। যুদ্ধের পর তিনি ব্রিটিশ বিমান মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি নেন। ১৯১২ সালের ৩০ আগস্ট জন্ম নেয়া এই স্পাই এখনও বেঁচে আছেন।

মার্গারেট ক্যাম্বল গেইজ : তিনি ছিলেন জেনারেল থমাসের স্ত্রী। আমেরিকান রিভল্যুশনারি ওয়ার চলাকালে ব্রিটিশ আর্মির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইতিহাস বলে, মার্গারেট ক্যাম্বল সমর্থন করতেন আমেরিকান রিভল্যুশনারি যুদ্ধকে এবং তাঁর নিজের স্বামীর ওপরই তিনি স্পাইং করতেন। অনেকে ভাবতেন, তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে বেইমানি করতেন। তিনি ছিলেন জন্মগতভাবে আমেরিকান। ১৭৭৫ সালে তাঁকে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ১৭৩৪ সালে জন্ম নেয়া এই নারী ১৮২৪ সালে মারা যান।

জোসেফাইন বেকার : তিনি ছিলেন আমেরিকায় জন্ম নেয়া ফ্রেঞ্চ ড্যান্সার, সিংগার ও অভিনেত্রী। তিনিই প্রথম আমেরিকান-আফ্রিকান অভিনেতা, যিনি মেজর মোশন পিকচারে অভিনয় করেন এবং আমেরিকা সেন্ট্রাল হলে পারফর্ম করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান সিভিল রাইট মুভমেন্টের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র গুপ্তহত্যার শিকার হয়ে নিহত হওয়ার পর তাকে করেট্টা স্কট কিং আনঅফিসিয়ালি লিডারশিপ অফার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রেঞ্চ রেজিসটেন্সকে সাহায্য করার জন্য প্রথম আমেরিকান ওমেন হিসেবে ফ্রেঞ্চ মিলেটারি অনার ঞযব ঈৎড়রী ফব মঁবৎৎব অর্জন করেন। এই গুণী মহিলা ১৯০৬ সালের ৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এ্যানা চ্যাপম্যান : ১৯৮২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া মাত্র ২৮ বছর বয়সী এ্যানা চ্যাপম্যান, রাশান সুন্দরী ও মডেল বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত, যার বাবা একজন কূটনীতিক। বাস করতেন নিউইয়র্কে। ২৭ জুন ২০১০-এ অন্য ৯ জনের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় এ্যানা চ্যাপম্যানকে। ইউএস এ্যাটর্নি জেনারেলকে, আগে না জানিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে জঁংংরধহ ঋবফবৎধঃরড়হ বীঃবৎহধষ রহঃবষষরমবহপব ধমবহপু, ঃযব ঝঠজ এর অপারেশন চালানোর অপরাধে। ৮ জুলাই ২০১০ সালে তাকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

ভিয়োলেট জাবো : তিনি ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট। ৪২ দিনের কঠিন প্রেমের পর ১৯ বছর বয়সী ভিয়োলেট বিয়ে করেন ফ্রান্সের ইটান্নি সজাবোকে। তাদের একমাত্র কন্যা, যার নাম তানিয়া। জন্ম নেয়ার অল্প কয়েক দিন পর ইটান্নি মারা যায়। তার মৃত্যুর পর ভিয়োলেট ব্রিটিশ স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভে যোগদান করেন। ২৬ জুন ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই সাহসী নারী মাত্র ২৪ বছর বয়সে গোয়েন্দা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫ সালে নিহত হন।

লুই হুলান : মাত্র ১৫ বছর বয়সী লুই হুলান ছিলেন চাইনিজ সিভিল ওয়ারের সময় কমিউনিস্ট পার্টির একজন স্পাই। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির যোদ্ধাদের জন্য খাবার, গামবুট, পোশাক ও তথ্য আদান-প্রদান করতেন। ১৯৪৭ সালের ১২ জানুয়ারি সেনারা লুই হুলানের গ্রাম চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাদের ঘরবাড়ি তছনছ করে। তারা গ্রামের সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে এসে প্রশ্ন করে, এর মধ্যে কারা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কেউ উত্তর না দিলে একজন বিশ্বাসঘাতক লুইসহ বাকি সবাইকে দেখিয়ে দেয়। সেনাদের প্রধান প্রথমে অল্পবয়সী লুইয়ের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, সে চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর তার সামনে বাকি সদস্যদের মাথা কেটে ফেলার আদেশ দেন। তাতেও লুই ভয় না পেয়ে গ্রামবাসীকে বিদায় জানায় এবং তলোয়ারের সামনে মাথা পেতে দেন।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: