কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হাতছানি দিয়ে ডাকছে দীঘা

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আবু আফজাল মোঃ সালেহ

দীঘা হচ্ছে ভারতের অন্যতম স্বাস্থ্যকর সমুদ্রসৈকত। পশ্চিমবাংলার শ্রেষ্ঠ সমুদ্রসৈকত। বড় বড় ঢেউ আর প্রচ- গর্জন মনকে করে দোলায়িত। আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য! মনে থাকবে অনেকদিন। সমুদ্রসৈকত বরাবর ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলা ও সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউয়ের জলকণায় আপনাকে ভিজিয়ে দেবে। দারুণ রোমান্স সৃষ্টি হবে মনে! দীঘাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি ‘ওল্ড’ দীঘা। এখানে সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ ও গর্জন অনেক বেশি। এটাই আসল দীঘা। এখানে গোসলের অনুমতি দেয়া হয় না। অপেক্ষাকৃত শান্ত হচ্ছে ‘নিউ দীঘা’। এখানে মাঝেমধ্যে গোসলের অনুমতি দেয়া হয়। সাগরজলে গোসল করে অন্যরকম অনুভূতি জাগবে আপনার।

সৈকত বরাবর সারি সারি আবাসিক হোটেল পরিবেশ নষ্ট করলেও, এসব হোটেল থেকে সমুদ্রের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। হোটেলের পরিমাণ এত বেশি যে ভরা মৌসুমেও আবাসিক সংকট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। দীঘার পাশেই মন্দারমণি সমুদ্রসৈকত। তার পাশেই তাজপুর, জুনপুট, উদয়পুর, শংকরপুর সৈকত। আরও আছে দীঘা-ওড়িষ্যা বর্ডার পেরিয়ে তালসারি সৈকত। এ সমুদ্র সৈকতগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, যে কোন এক সৈকতে অবস্থান করে (রাত যাপন) সব সৈকত উপভগ করা যায়। ভাড়া ট্যাক্সি পাওয়া যায় প্রচুর।

ওল্ড দীঘার মেরিন এ্যাকোয়ারিয়ামে জীবন্ত সাগর প্রাণীর জগত। নিউ দীঘার সায়েন্স সেন্টারে সব শ্রেণীর মানুষের বিজ্ঞান চর্চার উপকরণ, তারাম-ল। আছে অমরাবতীর পার্ক ও তার পেছনের রাস্তায় নবনির্মিত টয়ট্রেনসহ ডিজনি পার্ক।‘অমরাবতী’র পার্কে বোটিং করা যায়।

নিউ দীঘার শেষ প্রান্তে উদয়পুর বিচের পাশেই বিরাট লজ ও ফুল বাগান দিয়ে সদ্য গড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্যটন দফতরের টেন্টে রাত্রি যাপনের সুবর্ণ সুযোগ। তাঁবু প্রতি ভাড়া ৮০০ টাকা। তাছাড়া সমগ্র দীঘায় বিভিন্ন মান ও দামের আবাসিক হোটেল রয়েছে। দীঘা স্টেশনের ‘রিটায়ারিং’ রুমে টিকেট দেখানো সাপেক্ষে অল্প খরচে রাত যাপন করতে পারেন।

হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া হাওড়া বা ধর্মতলা থেকে সড়কপথে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী এসি/ভলবো/সাধারণ বাস সার্বক্ষণিক চলাচল করছে। সড়কপথে কলকাতা থেকে দীঘা পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা।

বিস্তীর্ণ ঝাউবন, ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি, ক্যাকটাস আর কাজুবাগানের আড়ালে উঁকি মারে সমুদ্র। মন্দারমণি আর তাজপুরের জলদা খালের মোহনা। দু’জায়গা থেকেই এই সুন্দর সঙ্গম দেখতে ভাল লাগে। নৌকায় চড়ে এপার-ওপার করা যায়। উপভোগ করা যায় লাল কাঁকড়াদের কর্মকা-। অতএব যাদের সময় আছে, চলুন না একটু দীঘা ও এর আশপাশের সমুদ্রতট থেকে!

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: