রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ব অর্থনীতির খোঁজখবর

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি কমছে

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে। গত জানুয়ারি মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি কমে দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে যা ১৯৮৯ সাল থেকে সংগৃহীত হিসেবের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি কমার মূল কারণ খাদ্য ও জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া। মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি। সেইসঙ্গে খুশি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। কেননা সামনেই তো নির্বাচন। মূল্যস্ফীতির রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়াকে দেশটির অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন অর্থনীতির জন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জিনিসপত্রের দাম এখন ক্রেতাদের হাতের নাগালে। বাড়ছে ক্রয় ক্ষমতা। সাশ্রয় হচ্ছে অর্থকড়ি। বাড়ছে সঞ্চয়। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের তথ্যানুযায়ী, বিগত ছয় মাসে পরিবারপ্রতি ৩৫০ পাউন্ড করে সাশ্রয় হচ্ছে। কেউ কেউ মূল্য সঙ্কোচন পরিস্থিতির আশঙ্কা করলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মার্ক কার্নে অর্থনীতির জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমছে। আর এটি অর্থনীতির জন্য খুশির বার্তা বয়ে আনছে। মূল্য সঙ্কোচনের কোন দুশ্চিন্তা নেই। উপরন্তু দাম কমায় ক্রেতায় বেশি বেশি কেনাকাটায় উৎসাহী হয়ে উঠবে। মার্ক কার্নের কথাকে সমর্থন দিয়েই ক্রেতারাও কেনাকাটায় উৎসাহী হয়ে উঠছে।

বৈশ্বিক লভ্যাংশ আয়ে রেকর্ড

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা গত বছর সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হেন্ডারসন গ্লোবাল ইনভেস্টরসের এক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি মোট ১ দশমিক ১৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো। আগের বছরের তুলনায় গত বছর কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের ৫২ বিলিয়ন ডলার বেশি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ, এসএ্যান্ডপি-৫০০ এবং নাসডাক এগিয়ে আছে। যুক্তরাজ্যর কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১৩৫ বিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ দিয়েছে। এই লভ্যাংশ এর আগের বছরের প্রদত্ত লভ্যাংশের ৩১ শতাংশ বেশি। যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের অন্যান্য দেশের কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২২৯ বিলিয়ন লভ্যাংশ দিয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কোম্পানিগুলো মোট ১১৬ বিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বের সেরা ১ হাজার ২০০ কোম্পানির তালিকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে ১৩২ বিলিয়ন ডলার যা এর আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। মোদ্দা কথা, গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তির ভাগ্য ভাল ছিল।

গ্রিসের ঋণ সহায়তার মেয়াদ বাড়ল

গ্রিসের ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা সাময়িকভাবে হলেও সমাধানের দিকে যাচ্ছে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নিয়ে পুরো ইউরো অঞ্চলে বেশ হৈচৈ শুরু হয়েছিল। গ্রিসের বেলআউট চুক্তির মেয়াদ আরও ছয়মাস বৃদ্ধির আবেদন জার্মানি নাকচ করে দেয়ায় সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছিল। পরিস্থিতি এতই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে, যদি গ্রিস এবং ঋণদাতারা সমঝোতায় না পৌঁছায় তবে দেশটি ঋণখেলাপী হয়ে যেতে পারে, এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। দফায় দফায় বৈঠক হলেও সমাধানে আসা যাচ্ছিল না। কিন্তু গতকাল গ্রীসকে দেয়া আর্ন্তজাতিক ঋণ তহবিল নিয়ে আরও এক দফা আলোচনা করতে ব্রাসেলসে বসেছিলেন ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা। সেখানে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর তারা ঋণ সহায়তা তহবিলের মেয়াদ আরো চার মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। যদিও কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছেন। গ্রিসও এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই সময় বৃদ্ধির সুবিধা পেতে কিছু শর্ত মেনে নিচ্ছে। যদিও শর্ত মানবে না, গ্রীস সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের কারণেই বির্তক জমে ওঠেছিল।

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: