মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পা বাড়ালেই রাজনীতি

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

আমি লেখক হিসেবে নিজের জন্য স্বাধীনতা এবং মানুষ হিসেবে সবার জন্য স্বাধীনতা চেয়েছি। এই হচ্ছে আমার বেঁচে থাকার থিম। এই থিমের বাইরে আমি যাইনি। এই থিমটা হচ্ছে নিজেকে অনবরত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর করা। ভবিষ্যত, হ্যাঁ ভবিষ্যত, সম্ভাবনার শক্তি। ভবিষ্যত যদি না থাকে, ভবিষ্যত যদি তৈরি করা না যায় তাহলে কিছুই থাকে না। জীবনবিরোধী শক্তি সব সময় সর্বত্র চেষ্টা করে চলে ভবিষ্যত কারারুদ্ধ করার জন্য। আমি বেঁচে থেকে লেখার মধ্যদিয়ে কারারুদ্ধ ভবিষ্যত মুক্ত করার চেষ্টা করেছি। যা কিছু আমরা দেখি, যার মধ্যে বেঁচে থাকি, সবই কানে ফিসফিস করে বলে : জীবনবিরোধী শক্তি, হত্যা, মৃত্যু, কোনটাই স্থায়ী নয়। কিন্তু পরিবর্তন দেখা দেয় না। আমরা বাস করছি এমন এক যুগে যেখানে বিপ্লব অসম্ভব, সেখানে হত্যা, মৃত্যু অবধারিত আর ভবিষ্যত কারারুদ্ধ।

কারারুদ্ধ ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে আমি লড়াই করে চলেছি। লড়াই আমার মধ্যে তৈরি করেছে পরিবর্তনের বোধ। আমাকে শিখিয়েছে বিপ্লব অসম্ভব না। বিপ্লব সম্ভব, বিপ্লব হতেই হবে, না হলে বেঁচে থাকার থিম নষ্ট হয়ে যায়। এই থিমটাই বাঁচার থিম, হার মানিনি, বেঁচে থাকার দিকে প্রতিশ্রুতি থেকেই। কতগুলো নোংরা লোক, হাতে রক্ত মেখে, মানুষ খুন করেছে এবং এখনও করে চলেছে। এসব খুনী নিজেদের জামায়াত এবং বিএনপি বলে। জামায়াতীরা নাকি ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। বিএনপিরা নাকি পাকিস্তানের কলোনি বানাতে চায়। তাদের আবেগ এবং তাদের কল্পনা তদন্ত করেছি। তাদের আবেগ খুন করার আবেগ, তাদের কল্পনা খুনীদের কল্পনা। তাদের বিশ্বাস হতাশা থেকে তৈরি। তারা মৃত- মৃতদের কোন ভবিষ্যত নেই। যে বিশ্বাস থেকে ইভিল তৈরি হয়, আগুনে হত্যার মতাদর্শ। এই মতাদর্শ থেকে তৈরি হয় ধর্মজ মনুষ্যত্বহীনতা ও ক্ষমতার লোভ। আমি এই সময়ের মধ্যে বসবাস করছি, অংশগ্রহণ করছি, লড়াই করছি। অংশগ্রহণই সামাজিক উন্নয়ন, শ্রেণী সংগ্রাম। শ্রেণী সংগ্রামের বোধ নিজের মধ্যে না থাকলে নিজের সংস্কৃতি এবং অন্যদের সংস্কৃতি বোঝা যায় না। সংস্কৃতি হচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়ার কাজ। ভবিষ্যত তো আমি তৈরি করি অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে। অন্যরা না থাকলে আমি থাকি না। আমি পরাজিত হই না অন্যরা আছে বলে। ইতিহাসের মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত আমি, এই অর্থেই আমি কমিটেড, এই অর্থে কৃষক কমিটেড, এই অর্থে শ্রমিক কমিটেড, কমিটমেন্টের বাইরে যা কিছুর অবস্থান সবই মিথ্যা, সবই ভ-ামি।

আমি শেষ পর্যন্ত যেতে চাই, কমিটমেন্টের দাম দিতে চাই এ দাম হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমার দাম যাদের ক্ষমতা নেই তাদের কাছে। ক্ষমতাহীনরা আস্তে আস্তে শক্তি সঞ্চয় করে তখন বুদ্ধিজীবীরা তাদের ক্ষমতাবান করে তোলে কমিটমেন্টের মধ্য দিয়ে। আমি এভাবে নিজেকে বদলাই, নিজের বদলানোর মধ্যদিয়ে অন্যদের বদলাই। আমি অতীত থেকে অনবরত সরে আসি, অতীতের ভার থেকে নিজেকে মুক্ত করি এবং যুক্ত করি ভবিষ্যতমুখী সংস্কৃতির কাছে।

মুক্তিযুদ্ধ আমার চোখ তীব্র করেছে। ১৯৭৫ থেকে উদ্ভূত স্বৈরতন্ত্রের ভ-ামি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমি বুঝেছি স্বৈরতন্ত্র মেনে নিয়ে বাঁচা যায় না। আমাকে বাঁচতে হবে নিজের মতো করে, এখান থেকে পা বাড়ালেই রাজনীতি, রাজনীতি আমাকে বদলে দিয়েছে; সংস্কৃতি ইনোসেন্ট নয়। এভাবে সাধারণ মানুষ আমাকে সাহসী করেছে।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: