আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রঙবেরঙের ফ্যাশন

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • শেখ মিলন

প্রকৃতির পালাবদলে বইছে বসন্তের হাওয়া। চমৎকার আবহাওয়া বিরাজ করছে। আর এ সময়টাতে চারদিকে উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়। পারিবারিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় যে কোন উৎসবই এ মৌসুমে এসে যেন অন্য রকম আবহ সৃষ্টি করে। এ সময়টায় উৎসবের আকাশ যেন আরও রঙিন হয়ে ওঠে। উৎসব প্রিয় জাতি হিসেবে বাঙালী জাতি অনন্য বৈশিষ্ট ধারণ করে। যে কোন উৎসবেই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একাকার হয়ে যেতে পারে। ভেদাভেদ ভুলে উৎসবকে করে তোলে আরও বেশি বর্ণময়। উৎসব উপলক্ষে নেয়া হয় নানা রকমের প্রস্তুতি। তার মধ্যে পোশাক অন্যতম। বাঙালী এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। উৎসবভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। কোন উৎসবের সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ফ্যাশন জগত। আর এ পথ চলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেক পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে উপলক্ষ সামনে এসে দাঁড়ায়, সে উপলক্ষ নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারণে সাধারণ মানুষদেরও নিত্যনতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। যেমন ঋতু অনুযায়াী পোশাক তৈরির ট্রেডিশন খুব বেশিদিন হয়নি এ দেশে চালু হয়েছে। তারপরেও খুব দ্রুত এ ট্র্রেডিশনটি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ ব্যস্ত জীবনে ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক এখন হাতের কাছেই মেলে। যার ফলে বাড়তি চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয় না। এ ঋতুতে মূলত ফুলসিøভ ড্রেস প্রাধান্য পেয়েছে।। অর্থাৎ কালার কম্বিনেশনের চমৎকার একটি রূপ এ মৌসুমে চোখে পড়ে। বিভিন্ন রঙ তো বটেই গাড় রঙের পোশাক এ সময়টায় দারুণ মানিয়ে যায়। অন্যান্য সময়ে যা শোভনীয় নয় এ সময়টায় তা দারুণ লাগে। তেমনি গাড় রঙ হচ্ছে লাল, হলুদ, কমলা, নীল এবং কালো। শীত ছাড়া অন্যান্য সময়টা কালো রঙের পোশাক সাধারণত রাতের পার্টির জন্য সিলেক্ট করা হয়। কিন্তু এই শীতে গাঢ় রঙ যে কোন সময়ের পার্টিতে ম্যাচ করে। অন্য মৌসুমে গাঢ় গাঢ় রঙের পোশাক সহজেই কেউ পরতে চান না। বিশেষ করে গরমের সময়ে। কিন্তু বসন্তে অনায়সেই তা মানিয়ে যাবে। আর তরুণ প্রজন্মের কাছে গাঢ় রঙের পোশাক বেশ পছন্দের। একটা সময় সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের পরতে দেখ যেত গাঢ় রঙের পোশাক। কিন্তু এখন তা রুপালি পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। ক্যাম্পাস, আড্ডা কিংবা পার্টিতে তরুণরা গাঢ় রঙের জিন্স, গ্যাভারটিন অনায়সে পরছে। আর এ ঋতুটিই যেন রঙ রূপে পরিপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ডি ডি সি ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার নিপু বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়াকে নাতিশীতোষ্ণ বলা হলেও, গরমটা অনুভূত হয় বেশি। বেশির ভাগ সময় জুড়ে গরমকাল বিরাজ করে। আর এ বিরাজমান আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা পোশাক নির্বাচন করি। যেমন গরমকালে পোশাক পরে যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা যায়, সে ধরনের কাপড় নির্বাচন করা হয়। সাধারণত সুতি, এ-ি, মসলিন এবং তাঁতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। রঙ হিসেবে বেছে নেয়া হয় হালকা রঙকে। এর মধ্যে সাদা, ক্রিম, অ্যাশ, গোলাপি, জলপাই রঙ, নীল অন্যতম। তবে কখনই এ সময়টায় গাঢ় রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয় না। কারণ গাঢ় রঙ তাপ বিকিরণ করে বেশি এবং শরীরকে আরও বেশি গরম করে তোলে যাতে বেশ অস্বস্তি বোধ হয়। তাছাড়া গরমে গাঢ় রঙ বেশ অড লুকিং। হালকা রঙেই এক ধরনের স্বস্তি ভাব খুঁজে পাওয়া যায়। তবে দৃশ্যপট পাল্টে যায় শীতকাল কিংবা বসন্তকাল এলেই। কদর বাড়ে মোটা কাপড় এবং গাঢ় রঙের পোশাকের, যা এ সময়ের ফ্যাশনে অন্য রকম এক দ্যুতি ছড়ায়। তা সেটা শার্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ, জিন্স কিংবা শাড়ি যাই হোক না কেন। গাঢ় রঙকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যেমন মেয়েদের শাড়ি, ওড়না, সালোয়ার কামিজ, টপস বেশির ভাগেই গাঢ় রঙের ছোঁয়া চোখে পড়বে। এ যেন এই ঋতুর অনন্য রূপ। অন্য সময় এত গাঢ় রঙ ভালো লাগবে না। যে কারণে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই লাল কালো অথবা গাঢ় রঙের পোশাক বানানোর প্রস্তুতি নিতে থাকে ফ্যাশন হাউসগুলো। আবহাওয়া এবং ক্রেতাদের পছন্দের উপরেই পরিবর্তিত হয় ফ্যাশন ট্রেন্ড। আর ট্রেন্ড অনুযায়ী পথ চলতে থাকে ফ্যাশন হাউসগুলো।

ছবি: এম আর জে ও রুদ্র

মডেল: ফিটন, নিপা ও ফারিয়া

শাড়ি: ভাসাভি

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: