আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অভিষেকে ফিনের হ্যাটট্রিক

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মাহমুদা সুবর্ণা

বিশ্বকাপের আগেই আলোচনার কেন্দ্রেবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন স্টিভেন ফিন। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে গতির ঝড় তুলেছিলেন তিনি। যে কারণে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও পেসারদের তালিকায় স্টিভেন ফিন ছিলেন অন্যতম। তার প্রমাণ উদ্বোধনী ম্যাচেই দিয়ে দিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে শনিবার ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের বিরল গৌরব অর্জন করলেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই অসামান্য এই কীর্তি গড়েন স্টিভেন ফিন।

তবে দুর্ভাগ্য ইংলিশ পেসার স্টিভেন ফিনের। তার আগেই রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শেষ তিন বলে একে একে ব্র্যাড হ্যাডিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল জনসনের উইকেট তুলে নেন তিনি। সেইসঙ্গে সবমিলিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের ৩৭তম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অষ্টম হ্যাটট্রিক আর সপ্তম বোলার। আর ইংল্যান্ডের চতুর্থ বোলার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেন স্টিভেন ফিন।

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড। আর বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে ইংল্যান্ড। আর সেই সিরিজের ৫ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করে নিজেকে ভালভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন ২৫ বছর বয়সী ফিন। তাই বিশ্বকাপে যে ঝড় তুলবেন সেটা আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। তবে তাদের সংশয়ও ছিল। কারণ এটাই ছিল স্টিভেন ফিনের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ। আর স্বপ্নের বিশ্বকাপের মতো একটি বড় মঞ্চে সব ভয়কে জয় করে জ্বলে উঠলেন দুর্দান্তভাবে। স্টিভেন ফিন মাত্র ৫৩ ওয়ানডে খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৩৮ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ছিল ভাল অবস্থানে। ৪ উইকেটে ২২৮ রান তুলে ফেলেছিল তারা। ততক্ষণে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ফিন বোলিং করে ফেলেছেন ৬ ওভার। তবে একেবারেই পাত্তা পাননি। তাঁকে পিটিয়ে অসি ব্যাটসম্যানরা আদায় করে নিয়েছিলেন ৪০ রান। তবে এরপরই যেন ভোল পাল্টে ফেলেন ফিন। ভয়ঙ্কর এক স্পেলের শুরু ৩৯তম ওভারে অসি অধিনায়ক জর্জ বেইলিকে ফিরিয়ে দিয়ে। ৪৬তম ওভারে ফিরেই তিনি সাজঘরে পাঠান মিচেল মার্শকেও। তবে এরপর উইকেট পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে চতুর্থ বলে হ্যাডিনকে ব্রডের ক্যাচে পরিণত করা দিয়ে নতুন বিস্ময় সৃষ্টির শুরু। প্রান্ত বদল করে স্ট্রাইকে আসা ম্যাক্সওয়েল পরের বলেই ক্যাচ দিলেন জো রুটকে। ষষ্ঠ ও শেষ বলে জনসনকেও ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন তিনি। পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিকের ম্যাজিক ফিগার। গত বিশ্বকাপে দুটি হ্যাটট্রিক দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। এবার প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু হলো। ফাইনাল পর্যন্ত আরও অনেক চমক অপেক্ষা করছে সেটারও যেন আভাস পাওয়া গেল এখান থেকে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দু’বার হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব রয়েছে কেবল একজনেরই। তিনি হলেন শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। যে কারণে বিশ্বকাপে অষ্টম হ্যাটট্টিক হলেও স্টিভেন ফিন সপ্তম ক্রিকেটার। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন ভারতের চেতন চৌহান। ১৯৮৭ আসরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতীয় পেসার চৌহান এই কৃতিত্ব গড়েছিলেন। এরপরই হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেটের স্পিন লিজেন্ড সাকলাইন মুশতাক। ইংল্যান্ডের ওভালে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৩ আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কান পেসার চামিন্ডা ভাস। তবে সেই বিশ্বকাপের সুপার সিক্স পর্বে দুর্বল কেনিয়ার বিপক্ষে ১৪ রান খরচ করে পর পর তিন উইকেট শিকার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ব্রেট লি। শ্রীলঙ্কান পেসার মালিঙ্গা দু’বার এ কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পর পর চার বলে চার উইকেট নেন তিনি। যা ক্রিকেটে ইতিহাসের প্রথম কোন ঘটনা। আর সেই বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছিলেন মালিঙ্গা। আর সেই বিশ্বকাপে তার দল রানার্স-আপের ট্রফি জিতেছিল। শুধু তাই নয় দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর ২০১১ আসরেও কেনিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন লাসিথ মালিঙ্গা। তবে এবারের আসরে নিষ্প্রভ তিনি। লঙ্কানদের এই বোলিং ভরসা প্রথম ম্যাচে খেললেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে প্রতিপক্ষকে ৮৪ রান উপহার দেন মালিঙ্গা। যে কারণে পরের ম্যাচগুলোতেও তাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অনেকেই। তবে লাসিথ মালিঙ্গার ওপর আস্থা রেখেছেন দেশটির কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মালিঙ্গা তাঁর সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকি বাংলাদেশ কিংবা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার এই পেসারকে তাঁর সেরারূপে দেখা যাবে বলে বিশ্বাস করছেন মুরালিধরন। ২০১১ বিশ্বকাপে আরেকটি হ্যাটট্রিকের ঘটনা ঘটে। হল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কেমার রোচ। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পায় সমর্থকরা। তবে বাকি সময়টাতে আরও হ্যাটট্রিক দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেট বিশ্ব।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: