মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মনের প্রশান্তিতে প্রকৃতি ও সমুদ্র

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
মনের প্রশান্তিতে  প্রকৃতি ও সমুদ্র

দেশের যে কোন দর্শনীয় স্থানে শীতে বা বসন্তের মায়াময় রৌদ্রঘেরা সময়ে সাধারণত ভ্রমণ পিপাসুরা বেরিয়ে পড়েন পর্যটনে। ভ্রমণের মজাটাই আলাদা। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার ফুরসতটাই বাঙালীর মিলে না। কর্মব্যস্ততার নানা ঝামেলা, ছলছুতোসহ হাজারো ঝক্কির ভিতর আনন্দ উৎসবের যায়গাটা এত কম যে, তা সকল বাঙালী মাত্রই অবগত। কিন্তু তারপরও এবার সেই ভ্রমণের সুযোগটাই মিলে গেল চমৎকারভাবে এবং এই সুযোগে সপরিবারের ট্রাভেলিঙ্গের মোহনীয় আনন্দঘন কয়েকদিনের ট্যুর হয়েই গেল এক অন্যরকম অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার পাতাটা একটু ভরেই উঠল যেন। বেরিয়ে আসার সুন্দরতম সুযোগটুকুকে একটা ফ্রেমে আবদ্ধ করলে পেয়ে যাব অনেক কিছুই। যাওয়া থেকে ফিরে আসা। মাঝখানে বাংলাদেশের এক অপরূপ সৌন্দর্য, সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়, সমুদ্র, ঝর্ণা, রিসোর্টি, চড়াই-উৎরাই দেখা এবং অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে আমরা সবাই নিজেদের আবিষ্কার করলাম। পাঁচ দিনের এই ট্যুর প্রোগ্রামের মেন্যু ধরেই আমাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বাইরে পা বাড়ানো। প্রথমেই কক্সবাজার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সি-বিচ অধ্যুষিত বঙ্গোপসাগরের গর্জনশীল তরঙ্গমালায় গড়িয়ে এসে সমুদ্র তীরের স্বর্ণালী বালিয়াড়িতে আছড়ে পড়ার উত্তাল দৃশ্যের কাছে যেন সব কিছুই ম্লান, সমুদ্রের নোনা পানি ঘেঁষে ঝাউবন, ঝিরিঝিরি হাওয়ার হিমোষ্ণ আবেশ সবাইকে মুগ্ধ নয় বিমুগ্ধ করে দেয়। দিনের এবং রাতের সমুদ্রের মাঝে কি যে এক অনাবিল ব্যবধান তাও দেখে মন ভরে যায়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যায় সমুদ্রের অস্তাচলে অরুনিমা রঙের গোধূলি বেলা। যেন রাঙা এক কনে বউয়ের নাক চাবির রিঙের মতো গোলি সূর্যাস্ত ধীরে ধীরে মহাসমুদ্রের জলের গভীর অতলে হারিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষণ। অসীম ভাললাগায় মন ভরে যায় সমুদ্রে সূর্যাস্তের মায়াবি মুহূর্তে। সৌন্দর্যের কত কি যে সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। হিমছড়ি, ইনানী বিচ, কথা শিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাশ দেখে দেখে মন যেন অফুরন্ত আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। কক্সবাজারের পর বাস ছুটে চলে বান্দরবানের উদ্দেশে। প্রকৃতির এক সবুজ স্বর্গ যেন এই পার্বত্য জেলা। কত কি দেখার। দেখতে দেখতে দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসে কিন্তু দেখার কোন শেষ নেই। বান্দরবানেই রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির যার নাম স্বর্ণমন্দির নামে খ্যাত। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গকেও ক্রাডং এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াংও রয়েছে এই বান্দরবানেই। নীলগিরির মন ভোলানো সৌন্দর্যলীলা যেন এক বিস্ময়কর সৃষ্টি সুন্দরের। পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয় এই পার্বত্য জেলা সবসময়ই পর্যটকের যাওয়া আসায় থাকে মুখর। এক্ষেত্রে আমরাও সেই দলেরই অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, বগালেকও এই জেলাতেই অবস্থিত। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে এই ভূ-প্রকৃতির অভূতপূর্ব সৌন্দর্যকে ছেড়ে রাঙামাটি পথে পা বাড়াই।

রাঙামাটি পাহাড়ী পথ বেয়ে বাস এসে থামে সহরের প্রাণকেন্দ্রে। একে-একে সকলেই বাস থেকে নেমে প্রোগ্রাম অনুসারে রাঙামাটিকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করার উদ্দেশ্যে রওনা হই। প্রথমেই ঝুলন্ত ব্রিজে আসে দাঁড়াই। দুলে ওঠা ব্রিজে দাঁড়িয়ে নিচের প্রবাহিত রূপালী জলধারা দেখে চোখ যেন এক অপরিসীম মুদ্ধতায় ভরে ওঠে। দেখা হয় শুভলং ঝর্ণাধারা। দেখে দেখে পরদিন বাড়ি ফেরার উদ্যোগ। সুন্দরের এত কাছে গিয়ে সুন্দরকে ছুঁয়ে দেখার এই আনন্দ কোন দিন ভুলে যাওয়ার নয়। এর আগেও সমুদ্র, বনভূমি পাহাড়, ঝর্ণার কাছাকাছি আমরা এসেছি। কিন্তু এতটা আনন্দ এর আগে কখনও পাইনি। বেড়ানোর আনন্দটা সব সময়ই মজার। একা, সপরিবারে শীত ও বৃষ্টিমুক্ত পরিবেশে ভ্রমণের যে একটা আলাদা আনন্দ আছে সেটা প্রকৃতির কাছে গেলেই উপলদ্ধি করা যায় গভীরভাবে।

নূরজাহান শিলা

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: