মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ হাসান আলী নিজ হাতে গুলি করে চাচাত ভাইকে মেরেছে

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মোঃ আব্দুল্লাহ জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি হাসান আলী নিজ হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে গুলি করে তার চাচাত ভাই আব্দুর রশিদকে হত্যা করেছেন। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেছেন। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর রাজাকার ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৪র্থ সাক্ষীর (মহিলা) ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মোঃ আব্দুল্লাহ জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেছেন, আসামি হাসান আলী নিজ হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে গুলি করে তার চাচাত ভাই আব্দুর রশিদকে হত্যা করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতু রহিমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এই জবানবন্দী প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা প্রদান করেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম।

প্রসিকিউশনের সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ আব্দুল্লাহ, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৮-৫৯ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- সাচাইল (বালিগাতি), থানা- তাড়াইল, জেলা- কিশোরগঞ্জ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১৬-১৭ বছর। তখন আমি কৃষি কাজ করতাম। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ১০-১১টার দিকে আসামি হাসান আলীর নেতৃত্বে কিছু রাজাকার আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে। আমাদের বাড়ি হতে আমার বাবার ব্যবসায় ৩৫ মণ চিনি, ৬৭ বস্তা তিসি, এবং ৪৪ বস্তা মুসরির ডাল লুট করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার চারদিন পর ১১ ডিসেম্বর আনুমানিক তিনটার দিকে আসামি হাসান আলী নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন রাজাকার এবং কয়েকজন পাকিস্তানী আর্মিসহ আমাদের পাড়া ঘেরাও করে। তারা গ্রামের ৬৪টি পরিবারের প্রায় শতাধিক ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার চাচাত ভাই আব্দুর রশিদের বাড়িতে আগুন দিলে আব্দুর রশিদ দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে উত্তর দিকে দৌড়াইতে থাকে। সে সময় হাসান আলী দারোগা তার পিছনে দৌড়াইয়া অনুসরণ করতে থাকে। এই সময় আরও দেখতে পাই যে আমার চাচাত ভাই আব্দুল রশিদকে হাসান আলী নিজ হাতে রাইফেল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এর পর আসামি হাসান আলী বাঁশিতে ফুঁ দিলে সমস্ত রাজাকার আসে এবং কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যায়।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। একাত্তরে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন হাসান আলী। সে সময় তিনি তাড়াইল থানা এলাকায় ‘রাজাকারের দারোগা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে না থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা গ্রামে বসবাস করছেন বলে জানা যায়। ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, হাসান আলী বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

ফোরকান মল্লিক ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৪র্থ সাক্ষীকে (মহিলা) ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে একজন নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্যাতিতের নাম পরিচয় ও জবানবন্দী প্রকাশের কোন বিধান নেই। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই নারী সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।

আদালতে সাক্ষীকে সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। এর আগে ৩য় সাক্ষী কবিরাজ শান্তি রঞ্জন দেকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ ও দেশান্তরকরণের ৮টি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে রয়েছে, ৮ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ৪ জনকে ধর্ষণ, ৩ জনকে ধর্মান্তরকরণ, ১৩টি পরিবারকে দেশান্তরকরণ, ৬৪টি বসতঘর ও দোকানপাটে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ। ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত ১৭ নবেম্বর এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। পরে তিনি অভিযোগ আমলে নেয়ার পক্ষে শুনানি করেন। এর আগে ধানম-ির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ফোরকান মল্লিকের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তর, দেশান্তরসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ৫টি অভিযোগে রয়েছে।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: