কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিস্তার বালুচর এখন বিভীষিকা নয়, ৩৩ ফসলের আধার

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
তিস্তার বালুচর এখন বিভীষিকা নয়, ৩৩ ফসলের আধার
  • বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের যাপিত জীবন

----------------------

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন

----------------------

চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের যাপিত জীবন নিয়ে চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন জীবদ্দশায় অনেক কাজ করে গেছেন। তাঁর লেখায় ফুটে উঠত চরের গরিব মানুষের দুর্বিষহ জীবন-বাস্তবতা আর দারিদ্র্যের কশাঘাত। এখন অবশ্য চরের জীবননির্ভর রিপোর্ট লিখতে গেলে আগেকার সেই নির্মম দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই চরগুলোই এখন গ্রামীণ অর্থনীতির মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তাই নয়, চরাঞ্চলের কৃষি আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিজে নিজেই যেন পাল্টে গেছে, যাচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটে বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছ। তিস্তা নদীর চরেও ব্যাপক হারে ৩৩ প্রকার ফসল আর মসলার চাষাবাদ করেছে কৃষক। আগে এখানে বছরে দুবার শুধু ধান চাষ করা হতো, আউশ ও আমন। কিন্তু এখন সেখানে বাড়তি হিসেবে ফলানো হচ্ছে শীতকালীন বিভিন্ন ফসল। এছাড়া, অতীতের সব অপ্রচলিত শস্য এখন এখানে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই জেলার চরাঞ্চলগুলোতে এসব ফসল আবাদের প্রতি ঝুঁকছে কৃষককুল। এরফলে এখান থেকে মঙ্গা এখন দূর হয়েছে। আর কেটে যাচ্ছে হতদরিদ্র কৃষকের জীবনের সব দুর্দশা।

চর বলতে চিরাচরিত যে রূপটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, লালমনিরহাটের তিস্তা পারে গেলে এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়বে না। চরগুলো এখন অপ্রচলিত কৃষি শষ্য উৎপাদনের ভা-ার। অসহায় দরিদ্রের হাত এখন পরিণত হয়েছে কর্মীর হাতে। কৃষি অর্থনীতির ভিত্তি আগের চেয়ে মজবুত হয়েছে। মাত্র ছয়মাস আগে যেখানে ছিল অথৈ পানি এখন সেখানে শুধু হলুদ ফুল আর বিভিন্ন সবজির ছড়াছড়ি।

১৯৮৮ সালে লালমনিরহাট থেকে প্রায় এক শ’ কিলোমিটার উজানে তিস্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ব্যারেজের কারণে ভাটির প্রায় দু’শ’ কিলোমিটার এলাকা পরিণত হয় ধূ-ধূ বালু চরে। এ অবস্থা থাকত বছরের প্রায় সাত থেকে নয় মাস। আগে এখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাত কাশবন। এই বন কেটে তা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে চরের মানুষ কোন রকমে তাদের সংসার চালাত।

এক সময় কোন এক কৃষক ভাবলেন, চরে যদি কাশফুল জন্মে, তাহলে শস্য কেন ফলানো যাবে না। শুরু হল সবজি ও ফসল ফলানোর পরীক্ষা-নীরিক্ষা। পরীক্ষা সফল প্রমাণিত হওয়ার পর এবারই প্রথম চরে বোনা হয় সরিষা। পরে ভুট্টা, ধনিয়া ও মরিচসহ সবজি জাতের প্রায় ৩৩ ধরনের মসলা সবজি ও ফসল তিস্তার চরে এখন চাষ করা হয়। তিস্তার একেকটি চর এখন যেন একেকটি ফসলের ভান্ডার। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার তিস্তা চরে কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষিঋণ, বীজ ও সার সহায়তা। কয়েক বছর আগেও চরের মানুষ বলতে দরিদ্রদের বোঝাত। কারণ তখন এরা ছিল রিলিফনির্ভর জনগোষ্ঠী। আর এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। লালমনিরহাটে ব্র্যাকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার জানান, জেলার চারটি উপজেলায় কৃষি ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে কৃষকদের সরিষাসহ শীতকালীন মৌসুমী সবজি-ফসলাদি চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। এই চার উপজেলায় ২২৯ একর জমিতে শুধু সরিষা চাষ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাফায়াত হোসেন বলেন, এবার জেলায় সরিষা চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: