মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফ্যাশনে রেড এ্যান্ড ব্ল্যাক

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

প্রকৃতির পালাবদলে বইছে হিমেল হাওয়া। শীত যাই যাই করছে। সময়টা যেন উৎসবের। ভেদাভেদ ভুলে উৎসবকে করে তোলে আরও বেশি বর্ণময়। উৎসব উপলক্ষে নেয়া হয় নানা রকমের প্রস্তুতি। তার মধ্যে পোশাক অন্যতম। বাঙালী এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। উৎসব ভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রুপ। কোন উৎসবের সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ফ্যাশন জগত। আর এ পথ চলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেক পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে উপলক্ষ সামনে এসে দাঁড়ায় সে উপলক্ষ নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারণে সাধারণ মানুষদেরও নিত্য নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। একদিকে যেমন শীতের প্রস্তুতি হিসেবে কার্ডিগান, জ্যাকেটের মতো মোটা কাপড় সংগ্রহ করার ধুম পরে যায় অন্যদিকে হেমন্তের হালকা ঠা-ায় নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি চলে। এছাড়াও রঙেরও একটা বৈচিত্রময় ফ্যাশন পরিলক্ষিত হয় এ সময়টায়। অর্থাৎ কালার কম্বিনেশনের চমৎকার একটি রুপ এ মৌসুমে চোখে পড়ে। বিভিন্ন রং তো বটেই গাড় রঙের পোশাক এ সময়টায় দারুণ মানিয়ে যায়। অন্যসময় যা শোভনীয় নয় এ সময়টায় তা দারুণ লাগে। তেমনি গাড় রং হচ্ছে লাল এবং কালো। শীত ছাড়া অন্যান্য সময়টা কালো রঙের পোশাক সাধারণত রাতের পার্টির জন্য সিলেক্ট করা হয়। কিন্তু এই সময়ে কালো রং যে কোন সময়ের পার্টিতে ম্যাচ করে। আবার লাল রংটিও ঠিক তেমনি। অন্য মৌসুমে গাড় লাল রঙের পোশাক সহজেই কেউ পড়তে চান না। বিশেষ করে গরমের সময়ে। কিন্তু এই সময়ে অনায়াসেই তা মানিয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে ডিডিসি ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার নিপু বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়াকে নাতিশীতোষ্ণ বলা হলেও গরমটা অনুভূত হয় বেশি। বেশিরভাগ সময়জুড়ে গরমকাল বিরাজ করে। আর এ বিরাজমান আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা পোশাক নির্বাচন করি। যেমন গরমকালে পোশাক পড়ে যেন স্বাচ্ছন্দবোধ করা যায় সে ধরনের কাপড় সিলেক্ট করা হয়। সাধারণত সুতি, এন্ডি, মসলিন এবং তাঁতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। রং হিসেবে বেছে নেয়া হয় হালকা রংকে। এর মধ্যে সাদা, ক্রীম, অ্যাশ, গোলাপী, জলপাই রঙ, নীল অন্যতম। তবে কখনই এ সময়টায় গাড় রংকে প্রাধান্য দেয়া হয় না। কারণ গাড় রং তাপ বিকিরণ করে বেশি এবং শরীরকে আরও বেশি গরম করে তোলে যাতে বেশ অস্বস্তি বোধ হয়। তাছাড়া গরমে গাড় রং বেশ অড লুকিং। হালকা রঙেই এক ধরনের স্বস্তি ভাব খুঁজে পাওয়া যায়। তবে দৃশ্যপট পাল্টে যায় শীতকাল এলেই। কদর বাড়ে মোটা কাপড় এবং গাড় রঙের পোশাকের। তার মধ্যে থেকে লাল এবং কালোকেই যেন প্রাধান্য দেয় সবাই। এ সময়ের ফ্যাশনে অন্য রকম এক দ্যুতি ছড়ায়। তা সেটা শার্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি, পাঞ্জাবি যাই হোক না কেন। লাল কালোকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। যেমন মেয়েদের শাড়ি, ওড়না, সালোয়ার কামিজ, টপস বেশিরভাগই লাল কালোর ছোঁয়া চোখে পড়বে। এ যেন এই ঋতুর অনন্য রূপ। হেমন্ত কিংবা শীতকালীন সময়টা ছাড়া অন্য সময় এত গাড় রং ভাল লাগবে না। যে কারণে শীত আসার আগেই লাল কালো অথবা গাড় রঙের পোশাক বানানোর প্রস্তুতি নিতে থাকে ফ্যাশন হাউসগুলো। আবহাওয়া এবং ক্রেতাদের পছন্দের উপরেই পরিবর্তিত হয় ফ্যাশন ট্রেন্ড। আর ট্রেন্ড অনুযায়ী পথ চলতে থাকে ফ্যাশন হাউসগুলো।

শেখ মিলন

মডেল : রুমা, নায়লা, ইফতি ও রাব্বি

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: