কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এটম একইসঙ্গে দুই জায়গায় থাকতে পারে

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

পেনাল্টি কিক থেকে কি একইসঙ্গে গোল হতে এবং গোল না হতে পারে? এমন বিদঘুটে প্রশ্নের জবাবে সবাই বলবে, তা কি করে সম্ভব? কেবল একটাই হতে পারে- হয় গোল হবে, নয়ত গোল হবে না। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ব্যাখ্য অনুযায়ী এটা সম্ভবÑ অন্ততপক্ষে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুর ক্ষেত্রে সম্ভব। এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তু একই সময় ভিন্ন ভিন্ন পথ পরিগ্রহ করতে পারে।

তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই যে, ফুটবল সর্বদা এক নির্দিষ্ট পথে চলে, আর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুগুলো ভিন্ন পথ অনুসরণ করে। কিন্তু এ কথাটা কি সর্বদা সঠিক? সেটা যে সঠিক নয় তা প্রমাণ করার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা একটা পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাদের প্রথম পরীক্ষায় দেখানো হয়েছে যে, সিজিয়াম এটম একই সময় দুটো ভিন্ন পথ গ্রহণ করতে পারে। সিজিয়াম হলো একটি রাসায়নিক মৌল। এটা রোপালি-সোনালি রঙ্গের ক্ষারীয় পদার্থ। যে পাঁচটি মৌলিক ধাতব পদার্থ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে, সিজিয়াম তার অন্যতম।

প্রায় একশ’ বছর আগে অবির্ভাব ঘটে পদার্থ বিজ্ঞানের এক নতুন ক্ষেত্র, যার নাম কোয়ান্টাম মেকানিক্স। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুয়ায়ী, কোয়ান্টাম জগতের বস্তুগুলো কোন একক সুনির্দিষ্ট পথ ধরে চলে না। বরং একই সময় এরা বিভিন্ন পথ অবলম্বন করতে এবং বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শেষ হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পথের সুপার পজিশন বা উপরিপাতের কথা বলে থাকেন। কালক্রমে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ব্যাখ্যার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বৃহদাকার অভিজ্ঞতায় আমরা একটা ফুটবলকে ঠিক একটা পথ ধরেই যেতে দেখি। ওটা একই সময় গোলপোস্টের জালে প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করে না, এমনটা কখনোই হয় না। ব্যাপরটা কেন এমন?

এর দু’রকম ব্যাখ্যা আছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ড. আন্দ্রিয়া আলবার্তি। তিনি বলেন, যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বড় বা বৃহদাকার বস্তুর উপরিপাত অবস্থার সুযোগ আছে। তবে এই অবস্থাগুলো অতিমাত্রায় নাজুক বা ভঙ্গুর। এমনকি নিজেদের চোখে ফুটবলকে অনুসরণ করে চললেই সেই উপরিপাত নষ্ট হয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট।

তবে ব্যাপারটা কি এমন হতে পারে যে, একক এটমের ক্ষেত্রে যে সূত্র প্রযোজ্য, ফুটবলগুলো তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে চলে? এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আলবার্তি বলেন, বিশ্বজগত সম্পর্কিত যে ম্যাক্রো রিয়েলিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, তা নিয়ে কথা বলা যাক। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বল সর্বদা সুনির্দিষ্ট পথ ধরে অগ্রসর হয়। যার সঙ্গে এটমের যাত্রাপথের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। আমরা কি দেখছি না দেখছি, তার ওপর ফুটবলের এই পথ যাত্রা নির্ভর করে না।

তাহলে এই দুই ব্যাখ্যার মধ্যে কোনটি সঠিক? বৃহৎ বস্তুর পথচলা কি ক্ষুদ্র বস্তুর পথচলা থেকে আলাদা? ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী ড. ক্লাইভ এমারির সহযোগিতায় আলবার্তি একটা পরীক্ষামূলক স্কিম হাজির করেছেন, যা থেকে এই প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে। আলবার্তি বলেন, এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা ছিল এটমের অবস্থান পরিমাপের এমন এক স্কিম উদ্ভাবন করা, যাতে করে ম্যাক্রো রিয়েলিস্টিক সূত্রকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যায়।

পদার্থবিজ্ঞানীরা ফিজিক্যাল রিভিউ এক্স সাময়িকীতে এক নিবন্ধে তাদের গবেষণার বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে বলা আছে যে, দুটি অপটিক্যাল টুইজার দিয়ে তারা সিজিয়ামের একটি এটম আঁকড়ে ধরে দুই বিপরীত দিকে টান দিয়েছিলেন। ম্যাক্রো-রিয়েলিস্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটমটির তখন দুই চূড়ান্ত অবস্থানের একটিতেই কেবল থাকার কথা। আর কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ব্যাখ্যায়, এটমটির দুটি জায়গার একটি উপরিপাত বা সুপারপজিশন দখল করে থাকার কথা।

এ্যাপলগেটের গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য কার্স্টেন রোবেনস বলেন, ‘এরপর আমরা সম্ভাব্য সবচেয়ে পরিশীলিত উপায়ে এটমের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পরোক্ষ পরিমাপগুলোকে কাজে লাগাই।’ এই পরোক্ষ পরিমাপেও পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখযোগ্যরূপে পরিবর্তিত হয়। দেখা যায়, সিজিয়াম এটমের ম্যাক্রো রিয়েলিস্টিক সূত্র অনুসরণের সম্ভাবনাই নেই। এই পরীক্ষা থেকে শুধু একটা জিনিসই মেপে নেয়া যেতে পারে এবং তা হলো, এটম বস্তুতপক্ষে একই সময় ভিন্ন ভিন্ন পথে চলেছে।

আলবার্তি অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে, এটা এখনও পর্যন্ত প্রমাণ নয় যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্স বহৎ বস্তুর ক্ষেত্রেও একই ফল বহন করে। তিনি বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপটা হলো সিজিয়াম এটমের দুই অবস্থানকে বেশ কয়েক মিলিমিটার পৃথক করা। তারপরও যদি পরীক্ষার উপরিপাত দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে ম্যাক্রো রিয়েলিস্টিক সূত্র আরেক দফা পিছু হটবে।

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী ২০১৫

৩০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: