কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নজর দেয়া উচিত ‘এ’ দলের দিকে!

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫
  • ইমতিয়াজ আহমাদ

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের দশম সভা। এই সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি, বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার মনোনয়ন। বিসিবি তার কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তাদের দাপ্তরিক কর্মকা-ের সুবিধার্থে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছে। যেমন, ক্রিকেট অপারেসান্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, ফিনান্স, গ্রাউন্ডস, মিডিয়া ইত্যাদি। বোর্ডের দশম সভায় কয়েকটি কমিটির প্রধান পদে রদ বদল আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ক্রিকেট পরিচালনা বা ক্রিকেট অপারেসন্সের প্রধানের পদটি মুখ্য। এই পদে আগে ছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। গত বোর্ড সভায় ক্রিকেট অপারেসন্সের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরেক সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে। এছাড়াও ওয়ার্কিং কমিটি নামে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সবাই জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। এছাড়াও একই সভায় হাই পারফর্মেন্স নামে আরেকটি নতুন কমিটিও গঠিত হয়েছে। এই কমিটির মূল কাজটা কি হবে তা এখনও জানা যায়নি। তবে বুঝা যাচ্ছে অনুর্ধ ১৯ এর পরবর্তী দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা। এমনটা হলে উদ্যোগটা বেশ ভাল। তবে আগেই বলে রাখি আমাদের দেশে অনেক কিছুই পরিকল্পনা পর্যায়ে খুব ভাল থাকে। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় যথেষ্ট অমনোযোগী ও উদাসীন মনে হয়।

আমরা টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছি ২০০০ সালে। আমাদের ক্রিকেট দলটা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পর যে মান অর্জন করার কথা সেটা পেরেছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর তাই বিসিবির উচিত হবে নিজেদের কর্মকা-গুলো আবার খতিয়ে দেখা। হয়ত এমন কোন জায়গা আছে যেটা নিয়ে অনেক বেশি কাজ করা প্রয়োজন। যদিও অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় বিসিবি দীর্ঘমেয়াদি, সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে কী?

একটা দলের মান কেমন তা বুঝার সহজ উপায় ওই দলের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ কেমন? বেঞ্চ স্ট্রেন্থ কথাটার অর্থ মূল একাদশের বাইরে অতিরিক্ত খেলোয়াড় যারা রয়েছেন তাদের মান কেমন। যে দলের অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মান যত ভাল, যত শক্তিশালী সেই দলটি ততো সমৃদ্ধ। উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। পাকিস্তান দলের পেস বোলার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদ। শুরুতে ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদের মতো বোলাররা দলে নিয়মিতভাবে খেলতে পারেননি। মূল কারণ এটাই, দলে এমন খেলোয়াড় ছিল যারা ওই সময়ে তাদের পরিবর্তে দলের দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম ছিলেন। ফলে তারা দলের বাইরে থেকেছেন একাধিকবার। যে দলের বেঞ্চে ওয়াকার ইউনুস, আকিব জাভেদের মতো ক্রিকেটার বসে থাকে সেই দলটি কত শক্তিশালী হতে পারে তা কী ভাবা যায়? এমন বহু উদাহরণের আরেকটি হলো অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল। ম্যাকগিলের মতো বোলার অস্ট্রেলিয়া দলে খুব কমই খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কারণ আমাদের সবারই জানা, তখন দলে খেলতেন শেন ওর্য়ান। তাহলে বেঞ্চ স্ট্রেন্থ বা অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের মানের ব্যাপারটা বুঝা গেল।

এবার বাংলাদেশ দলের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গ। আমাদের দলের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ বা অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মান কেমন? ভাল না খারাপ? মূল একাদশের মূল খেলোয়াড় সাকিব, তামিম, মুশফিক এদের বিকল্প কারা? এই বিকল্পদের মান কেমন? এবার একটু নজরে আনা যাক ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাপারটা। বীরেন্দর শেবাগ, ভিভিএস লক্ষণ, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকর, কেউই আর দলে নেই। সবাই প্রায় কাছাকাছি সময়ে অবসর নিয়েছেন। এ ছাড়া ভারতীয় দল কিন্তু অকল্পনীয়। কিন্তু এটাই সত্য তারা কেউই এখন দলে নেই। এখন তাদের ছাড়াই এক ঝাঁক নতুন খেলোয়াড়রা দলে জায়গা নিয়েছে। ওরা ভালই সামলে নিচ্ছে দলটাকে। কিন্তু একবার চিন্তা করুন আমাদের দল থেকে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি, রিয়াদরা যে কোন কারণে খেলতে না পারলে যারা বিকল্প রয়েছেন ওদের পক্ষে দায়িত্ব সামলানো কতটা সম্ভব? যারা বিকল্প ওদের খুব একটা বেশি দায়ী করা যায় না। মূল দায়িত্বটা বিসিবির। দুঃখের ব্যাপার টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৪ বছর পরও বিসিবি ‘এ’ দলের তেমন কোন অস্তিত্ব নেই। ব্যাপারটা কী ভাবা যায়? আমরা বিশ্বকাপ খেলছি, টেস্ট খেলছি। কিন্তু মাঝে আমাদের দলের পারফর্মেন্স এমন গেছে যে টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে একাধিকবার। এবছরটাত জিম্বাবুইয়ে সিরিজ না থাকলে আফগানিস্তান আর হংকংয়ের সঙ্গে হারের স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হতো। অথচ এত কিছুর পরেও আমাদের ‘এ’ দল গঠন নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কার্যক্রম নেই। তবে একথা বলা পুরোপুরি ঠিক না যে ‘এ’ দল নিয়ে এক্কেবারে কোন কাজই হয়নি। মাঝে মধ্যে বছরে দু’বছরে সফর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের জন্য যেটা খুবই জরুরী সেটা হলো ‘এ’ দলের জন্য পরিকল্পিত কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের অংশ হলো প্রশিক্ষণ ও সফর। রাজনীতিতে একটা কথা আছে ছায়া মন্ত্রিসভা। আর ‘এ’ দল হলো ছায়া জাতীয় দল। এই ‘এ’ দলে ২০/২২ জনের একটি স্কোয়াড থাকবে। জাতীয় দলের কোন বিকল্প প্রয়োজন হলেই এই ‘এ’ দল থেকে সরবরাহ পাওয়া যাবে। আর তাই সুপরিকল্পিত কার্যক্রম না থাকলে জাতীয় দলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না মোটেও। আর তাই ছায়া জাতীয় দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই একজন হেড কোচকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই হেড কোচের নেতৃত্বে একদল কোচ কাজ করবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোচ, ফিটনেস ট্রেইনার, ফিজিও, ভিডিও এনালিস্ট। এই কোচিং স্টাফরা জাতীয় ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের সারাবছর কার্যক্রম চালাবেন। নিয়মিতভাবেই অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশের ‘এ’ দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ থাকবে এবং বিদেশ সফর থাকবে। আর এর মাধ্যমেই আমাদের জাতীয় দলের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ বৃদ্ধি করা সম্ভব। আর তা করতে পারলে আমাদের জাতীয় দলটা আরও শক্তিশালী হবে। আশা করব বিসিবি সময় ক্ষেপণ না করে এই বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু করবে।

লেখক : সাবেক ক্রিকেট, কোচ

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০১৫

২৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: