কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভাইরাস কি মানুষকে স্মার্ট করে

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে বা বংশানুক্রমেপ্রাপ্ত অনেক ভাইরাস। এ ভাইরাসগুলো আবার লাখ লাখ বছরের পুরনো। এই পুরনো ভাইরাসগুলোই আবার মানুষের মস্তিষ্কের জটিল নেটওয়ার্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, রেট্রোভাইরাসগুলো মস্তিষ্কের মৌলিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে কোন কোন জিনের অভিপ্রকাশ ঘটাতে হবে এবং কখন ঘটাতে হবে তা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে।

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় এই তথ্যটি উন্মোচিত হয়েছে। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে অবগত যে, অন্তর্জাত রেট্রোভাইরাসগুলো হচ্ছে আমদের ডিএনএর শতকরা প্রায় ৫ ভাগ বহুকাল ধরেই এগুলোকে আবর্জনাতুল্য ডিএনএ হিসেবে গণ্য করা হয়ে আসছিল। সেগুলোর সত্যিকারের কোন ব্যবহার নেই। বরং এগুলো হলো আমাদের বিবর্তনের যাত্রাপথে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান গবেষণায় জোহান জ্যাকবসন ও তাঁর সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে রেট্রোভাইরাস আবর্জনাতুল্য তো নয়ই, বরং মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে দেখা যায় যে, বিবর্তনের যাত্রাপথে এই ভাইরাসগুলো উত্তরোত্তর আমাদের কোষযন্ত্রের চালকের আসনে দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসেছে। ভাইরাসগুলোর সুনির্দিষ্টভাবে মস্তিষ্কে সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণ সম্ভবত এই যে, অন্যান্য টিস্যুতে গড়ে উঠতে পারলেও টিউমার আমাদের স্নায়ুকোষে তৈরি হতে পারে না। গবেষকদের প্রধান জ্যাকবসন বলেন, আমরা লক্ষ্য করতে সক্ষম হয়েছি যে, এই ভাইরাসগুলো সুনির্দিষ্টভাবে মস্তিষ্কের কোষগুলোতে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এদের একটা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা আছে। আমরা মনে করি বিশেষভাবে মস্তিষ্কের কোষগুলো কেন এত গতিশীল এবং তাদের ক্রিয়াকলাপ কেন এত বহুমুখী তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে রেট্রোভাইরাসের ভূমিকার অবদান থাকতে পারে। বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের কম-বেশি জটিল কার্যকলাপ থেকে আমাদের পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব হতে পারে, কেন আমরা মানুষেরা অন্যান্য প্রজাতি থেকে এত আলাদা।

নিউরাল স্টেম সেল সংক্রান্ত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে রচিত এই নিবন্ধে দেখানো হয়েছে যে, এই কোষগুলো রেট্রোভাইরাসের সক্রিয়তার প্রক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নির্দিষ্ট মলিকুলার ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে থাকে। গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে স্নায়ুকোষগুলোর অতি মৌলিক কার্যকলাপের একদম ভেতরের জটিল চিত্রটি লাভ করা যেমন সম্ভব হয়ে উঠেছে, তেমনি একই সময় জিনঘটিত মস্তিষ্কের রোগব্যাধির গবেষণার নতুন পথ উদ্ভাবনের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জ্যাকবসন বলেন, আমি বিশ্বাস করি এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের রোগব্যাধি সংক্রান্ত গবেষণার নতুন চাঞ্চল্যকর পথ উন্মোচিত হবে। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন রোগব্যাধির সঙ্গে যুক্ত জেনেটিক বিষয়গুলোর সন্ধান করতে গেলে সাধারণত সেইসব জিনের সন্ধান করে থাকি, যেগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত। অথচ এই জিনগুলো গোটা জেনমের শতকরা মাত্র ২ ভাগ। এখন জিনঘটিত উপাদানের অনেক বড় অংশ সন্ধানের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, যে অংশটিকে আগে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করা হতো।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: