কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শ্রেষ্ঠ গবর্নর ড. আতিউর রহমান

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫
  • ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করার জন্য ১৯২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ব্যাংকিং এবং আর্থিক সম্পদ নিয়ে কাজ করা ‘দি ব্যাংকার’ পত্রিকার বিবেচনায় ২০১৫ সালে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের মাঝে শ্রেষ্ঠ গবর্নর হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। গত ছয় বছরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংককে মুদ্রা পরিচালনা কর্মকা-ের পাশাপাশি নানামুখী উদ্ভাবনী কর্মকা-ে উজ্জীবিত করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি ভারতের ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, ফিলিপাইনের শান্তি পুরস্কার প্রভৃতি পেয়েছেন। পুরস্কার প্রাপ্তির পর তিনি তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করে বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর দুই মেয়াদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর হিসেবে আস্থা রেখেছেন বলেই তিনি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ১৯তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে সাহিত্যের ছাত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, তিনি অর্থনীতির জটিল তত্ত্ব বোঝেন না; বোঝেন একটি সাদামাটা সত্য কথা, আর তা হচ্ছে দেশের সকলের পেটে যেন ভাত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যেই অন্তর্নিহিত রয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তির উদ্দেশ্য। এ জন্যই ড. আতিউর রহমান পুরস্কৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অধিককাল ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতি ও ভাবনা নিয়ে তাত্ত্বিক এবং হাতেকলমে কাজ করে চলেছেন ড.আতিউর রহমান। দেশ আজ সামনের দিকে যাত্রা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়ই অগ্রগতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে কা-ারির দায়িত্ব পালনে সব সময় ড. আতিউর রহমান সচেষ্ট ছিলেন। একজন স্ট্র্যাটেজিক লিডার হিসেবে ড. রহমান অনস্বীকার্য অবদান রেখে চলেছেন, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশল বিনির্মাণ এবং বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা তাঁকে দেদীপ্যমান করে চলছে।

মুক্তিযোদ্ধা ড. রহমান সব সময়ই মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ অর্থনৈতিক মুক্তির তত্ত্বে বিশ্বাসী। রবীন্দ্র অনুরাগী আতিউর রবীন্দ্রনাথের মূল ভাবনা ‘মানুষের তরে আমরা সবাই’Ñ এ বিশ্বাস মনের গভীর থেকে প্রোথিত করেছেন। এ জন্যই তিনি গবর্নর হিসেবে মুদ্রানীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহের সঠিকভাবে পরিচালনার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বিকাশকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর হয়েই ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং চালু করে ব্যাংকিং কার্যক্রম ডিজিটাল করার ব্যবস্থা নেন। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেন। আবার কৃষি খাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ও সংযোজন করেন। পাশাপাশি দশ টাকায় ব্যাংকহিসাব খোলার ব্যবস্থা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশানের ব্যবস্থা করে ড. রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকা-ে যাঁরা পূর্বে আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না তাঁদের আওতায় আনার চেষ্টা করেন। তাঁর এ কার্যক্রমের ফলে ফিন্যান্সিয়াল ডিপেনিংয়ের ক্ষেত্রে দেশের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে। আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচী দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতিধারাকে সম্প্রসারিত করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পাদিত হচ্ছে বলেই বৈদেশিক বিনিময় নীতি সাফল্যের মুখ দেখছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্যমান বেশ কয়েক বছর স্থিতিশীল থাকার পর গত বছর সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক মাইলফলক অর্জন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুষ্ঠু কর্মকা-ের জন্যই আজ পদ্মা সেতুতে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন কর্মসূচী পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এসএমই কর্মকা-ে ড. রহমান উদ্ভাবনী কর্মকা- গ্রহণ করেছেন এবং নারীর ক্ষমতায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করে ড. আতিউর রহমান পরিবেশবাদী অর্থনীতিবিদের প্রশংসা কুঁিড়য়েছেন। ইতোমধ্যে পরিবেশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অর্থায়নে বিভিন্ন নির্দেশনাবলী গ্রহণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যত বেশি প্রসারিত হচ্ছে, তত বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। ২০০৯ সালে সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন যে পরিমাণ বিদ্যুত উৎপাদিত হতো, এখন তার তিনগুণ বিদ্যুত উৎপাদিত হচ্ছে। তারপরও বিদ্যুতের উৎপাদন জ্যামিতিক হারে বাড়ানো উচিত। সৌরবিদ্যুত উৎপাদনে ব্যাংকিং ক্ষেত্রের অর্থায়ন করা একটি ভাল পদক্ষেপ।

কর্পোরেট স্যোশাল রেসপনসিবিলিটিকে সত্যিকার অর্থেÑ ব্যাংকিং সেক্টর যেন দেশের উন্নয়নে কাজে লাগায়, সে জন্য গবর্নর হিসেবে ড. আতিউর রহমান সব সময় সচেষ্ট রয়েছেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ যে সমস্ত ব্যাংকে সিএসআরের অর্থ নয়-ছয় হয়েছে,সেগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যাংকিং মুনাফা থেকে যাতে সিএসআরের অর্থ অর্থায়ন করা হয় সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা ঘোষণা করেছে। মার্কেটাইল ব্যাংকসহ যে সমস্ত ব্যাংকে সিএসআরের অর্থ নষ্ট হয়েছে, তা যেন দূরীভূত করা যায়। ছিন্নমূল শিশুদের উন্নয়ন, স্কুল বাংকিংসহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। উদ্যোক্তা শ্রেণী গঠনে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।

ড. আতিউর রহমানের সাফল্য বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করছে। প্রথাগত অর্থনীতিকে ভেঙ্গে তিনি মানবকল্যাণমুখী অর্থনীতির সূচনা করেছেন। তাঁর এই অর্থনৈতিক কর্মকা- ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিদ্যমান সমস্যা ও সঙ্কট উত্তরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করছে।

ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট

pipulbd@gmail.com

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

১৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: