মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কবিতা

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

এইখানে নয়

কাজী জহিরুল ইসলাম

এইখানে নয় প্রিয়তমা

তুমি ভুল জায়গায় রেখেছো তোমার হাত

পড়েছো দ্বিধায় বুঝি, ভাবছো কি ওটা?

এ-তো ক্ষতচিহ্ন, যৌবনের প্রথম আঘাত

তোমার স্পর্শের ভাষা আমি বুঝি

যেতে চাও সুনীল সাগরে, সুগভীর জলে

গাংচিল-ডানার নিচে, শুভ্র ঢেউয়ে, ডুব-সাঁতারে

নীল জল সমুদ্রের নিবিড় অতলে

যেখানে রেখেছো হাত

সে-তো কেবল কষ্টের প্রিয় এক ক্ষত

নিয়ত চলেছি তাকে বয়ে আমি

আবিরাম অবিরত...

ওখানে পাবে না, যা খোঁজ গোপনে, প্রতি রাতে

মাতাল বসন্তে, গ্রীষ্মে, কনকনে শীতে

তোমাকে নামতে হবে আরো নিচে

সময়ের যুগল দেয়াল, পাহাড়ের সবুজ ভেলিতে

না, না, ওটাও নয় প্রিয়তমা

তুমি আবারো রেখেছো হাত ভুল জায়গায়

এ আমার মসৃণ কণ্ঠার সুপ্রাচীন হাড়

জানি তুমি খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হায়

তোমাকে এগোতে হবে আরো কিছুটা বাঁ-দিকে

তারপর নিচে, খুব কাছাকাছি পবিত্র ক্বাবার

এখানে রয়েছে প্রদক্ষিণরত তাবৎ সময়

পেয়ে যাবে অলৌকিক ঘূর্ণি পথ চেনাবার

এবার পেরিয়ে গেছো সময়ের চক্র, আরে

এটাতো জলের ঘূর্ণি, যেখানে রয়েছো তুমি স্থির।

ক্রমাগত ভুল ঘাটে করে যাও দ্বিধার নোঙর

মাঝরাতে তুমি খুঁজে ফেরো ভোরের আবীর

না, না, একদম যাওয়া যাবে না নিচে

ওখানে লোভের ট্রপিকল পাতা

তোমাকে ওপরে যেতে হবে, সুমেরুর পথ ধরে

তার দিকে, যে তোমার পথের উদ্গাতা।

নিউইয়র্ক, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

ঈশ্বরের বাহন সময়

কুহক মাহমুদ

কোথাও আলগোছে রাখিনি গোপন সমুদ্র

পরম্পরাতেও ছিলো না লবণের কারবার

তবু পাখির উড়াল দেখে

বন্দর ছেড়ে যায় জাহাজ

জল ফিরিয়ে নেয় প্রত্যাখ্যান!

তার সাথে থেকে যায় ঈশ্বরের বাহনÑ

স্বচ্ছ ও স্বর্গ

আমি তার মাটির দিকে যেতে যেতে দেখি

পৌষী এসে ফিরে যাচ্ছেÑ

গতবছরও শীতে কেঁপেছি ঠক্ঠক্

ভুলেছি এবছর, আমারও উষ্ণ রক্ত ছিলো

এখন, ঘাট ঘুরে ঘুরে

হিমাঙ্কের নিচে জমে ওঠে শুধু অভিজ্ঞতা

জলরোল বরাবরের মতোই ঘোলাটে সাদা

তাইতো অপেক্ষা পোড়াই, উনুনে অঙ্গার

অযথা চিন্তা করি, আমারও কেউ ছিলোÑ

ঠোঁটে খড়ের ব্যঞ্জন নিয়ে উড়ে আসা পাখি!

্রপ্রকৃত সেনা

ফারুক আহাম্মদ

কে হে প্রকৃত সেনা?

যাদের ত্যাগে দেশটি হল কেনা।

কে হে অপ্রকৃত সেনা,

যাদের অপকর্মে দেশটি হল দেনা।

ভুয়া সেনা সেজে আছ বসে মেঝে,

ছেড়ে দাও তাদের জায়গা।

যে মুুক্তি সেনা আছে ফকির বেশে,

দেশটি তাদের শ্রমে কেনা;

হারাতে হয়েছে অনেক মুক্তি সেনা।

তাঁদের পরিবার ফিরে পাবে না,

স্বাধীনতা যুদ্ধে হারানো বাবার।

যুদ্ধ না করে, ভুয়া সেনা সেজে;

বেতন ভাতা নেও কেমন করে?

লজ্জা করে না! বুকটা কাঁপে না!!

কঙ্কালসার মুক্তি সেনার;

অর্থ আত্মসাত করার-

ফেধেছ নির্লজ্জ ফাঁস।

চাকরি-বাকরি করো না বিক্রি,

ভুয়া মুক্তি সনদ বলে;

ধরা খাবে একদিন সত্যের যাঁতাকলে।

ঠকাবেনা দেশ, হয়ে যাবি শেষ,

সত্য যখন মারিবে উঁকি;

বেড়ে যাবে তোর জীবনের ঝুঁকি।

দেশের অর্থ, ধন করিবে যতন,

জ্ঞানী গুণী হল দেশের রতন।

প্রকৃত সেনাকে পরাবো মালা,

আদরের ছলে ধরিবে গলা,

গোঁছাবে তাদের মনের জ্বালা।

প্রিয় রোকোনালী

মাকিদ হায়দার

মধ্যবয়সে একটি কর্তিত মাথা জিজ্ঞাসিল মোরে,

তোমার প্রিয় মাতুল রোকোনালী কেমন আছেন?

বলিলাম, আছে ভালো তবে হুইল চেয়ারে।

তোমার পিতা কি ৭১ এর সেই ৭ মার্চের ভাষণে

কখনো কি বলেছিলেন

জয় পাকিস্তান?

বলিলাম পিতার সামনেই ছিলাম আমরা কয় ভাই

কর্তিত মাথা কিছুটা সময় নিলেন সেই মধ্যবয়সে

তিনি কিছুটা সময় নিয়ে জানিতে চাইলেনÑ তোমার

অন্যসব মাতুলেরা কে কেমন আছে?

বলিলাম, খোন্দকার মামা বয়সের ভারে ন্যুব্জ, তিনি

মাঝে মাঝে ভুল বকিতেছেন সময়, অসময়ে।

আরও বলিলাম, সুবিধা ভোগের যাবতীয় কাহন,

একই সঙ্গে প্রিয় মাতুল রোকোনালীর ভেজা

দুটি আঁখির কথা। একই সাথে বলিলাম

আমার অন্য সকল মাতুলের নাম,

এবং ঠিকানা।

ভাবিয়া ছিলাম আরও বলিব, তাহার আগেই হঠাৎ শুনিলাম

রোকোনালীর আর্তনাদ। এমনকি,

খোন্দকার মামা, মোটা অংকের আভাষ ইঙ্গিত পাইয়া

আমার পিতার নামে বলিয়াছেন মিথ্যা কথা।

কর্তিত মাথা জানাইলো আমাকে, ডিসেম্বরে দেখা হবে,

তার আগে যেন শুনিÑ তোর মামাদের

কেউ কেউ ঝুলেছেন

পাটের রশিতে।

কুয়াশায়

হামীম ফারুক

কালচে নীল শাড়ির আঁচলে বাঁধা পুঁটুলি-

দুটি শুকনো রুটি, গুড়ের টুকরো

সারাদিন কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়া।

নাকের নথে ক্লান্তি, সন্ধেয় তাড়া

পথ চেয়ে বসে থাকা দুটো শিশু

মাইকে আবদুল আলীম,

আজ বাজবে সারা রাত

মোহনগঞ্জে হাটুরেরা জেনে যায়

শিমুল তলায় ছায়া নামে,

আংগুলবিহীন হাতে ঢেকে নিয়ে খাবার

কুয়াশায় ত্রস্তে মিলিয়ে যায়-রাশিদা

ন্যাপথলিনের গন্ধ নাকে এসে লাগে।

বাজ পাখির চোখ

সৈয়দ রফিকুল আলম

সময় বহিয়া ষড়ঋতু স্বরূপ রীতিতে বদলায়

জাগতিক স্ততে পাল্টা পাল্টি চলে সুর ও অসুরে ছলাকলা

মানব বোধনে ছায়া-প্রতিকৃত, অবিমৃশ্যে আফলা

লোভের জিহ্বায় চাটে খাই খাই শুধু মনোপুঞ্জে উৎরায়।

চলমান গতিচলে বিভ্রমে-উত্থাল, চাই আরো আরো বেশি

বিউগলে বাজে ঢঙ্কা নিনাদ-পরিপূরক ভা-ের তোষণে

বাজ পাখি কান্নালয়ে উড়ে বেড়ায় ভুবন ভুবন চবর্ণে

নিশিরাত ক্ষয়ে যাবে ফুটুক আলোক বিভার সন্তরে উর্বর্শী।

অহেতুক কেন তবে চলমান পথ ধোঁয়াসা গ-িতে ঠাসা

প্রাণে হাত রেখে চলা অশুভ ক্রিয়ায় থমকে যায় পা পা চলা

মাটির জমিনে শুয়ে আছে বীরদর্পী অমৃত সন্তানে-সলা

কেন ভুলে যায় ত্যাগ তিতিক্ষা-কল্যাণে পেয়েছি অনন্ত আশা।

চাই দর্শন আদর্শে ভরা হোক এই ভূমি বেহস্তী নিগার

ক্ষুধাতুর অবসান হোক ধনী গরিবের ফারাকে ওঙ্কার।

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

১৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: