হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সুপার মডেল কেট মস্

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

প্রতিবন্ধকতা কোন মানুষের জীবনকে থামিয়ে দিয়েছে আবার কারও জীবনে গতি সঞ্চার করেছে। কেউ বাধা পেয়ে থেমে গেছে, কেউ কেউ নতুনভাবে জীবনকে গড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তেমনি একজন বিজয়ীর নাম হচ্ছে কেট মস্। মাত্র তেরো বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। ষোলো বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন। তিনি তার এলাকায় রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। ছোটবেলা থেকেই নানা রকম চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে বড় হয়েছেন।

১৯৭৪ সালের ১৬ জানুয়ারি লন্ডনের এডিসকম্ব প্রদেশের ক্রোয়ডন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। রিডলস ডাউন হাই স্কুল থেকে পাস করে রিডলস ডাউন কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। পড়ালেখায় তেমন কোন উজ্জ্বল স্বাক্ষর তিনি রাখতে পারেননি। কোন সার্টিফিকেট কোর্সেই তিনি ভাল রেজাল্ট করতে পারেননি। কিন্তু সে সব তাকে মোটেই বিচলিত করতে পারেনি। তিনি তার লক্ষ্যে অটুট ছিলেন। বিভিন্ন ফ্যাশন শো দেখে তিনি মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। চাল-চলন বাচন ভঙ্গি মডেলদের মতো করার চেষ্টা করতেন। ১৯৯০ সালে যখন তার বয়স ষোলো তখন তিন কোরিনি দে এর কাছ থেকে কিছু ফটোসেশন করান। সাদা কালো আবেদনময়ী সে ছবিগুলো বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দি ফেস’ তাদের একটি সংখ্যায় কেট মসকে প্রচ্ছদ কন্যা হিসেবে ব্যবহার করে। সংখ্যাটি ছিল ‘দি থার্ড সামার অব লাভ’। সেদিন থেকেই জানান দেন তিনি আসছেন ফ্যাশন রাজ্যে শক্ত আসনে অধিষ্ঠিত হতে। শুরু হয় হাটি হাটি পা পা করে পথ চলা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে এফএম এইচ এর জরিপে ১০০ জন আবেদনময়ী নারী মডেলদের মধ্যে তিনি ২২তম স্থানটি দখল করে নেয়। বছর যেতে না যেতেই ১৯৯৯ সালে ম্যাগাজিন ম্যাক্সিম পাঠক জরিপে ৫০জন আবেদনময়ী মডেলদের মধ্যে তার অবস্থান নিয়ে আসে ৯ নম্বরে। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ১৯৯৯ সালে তিনি আমেরিকান ভোগ এর কভার পেজ মডেল হন। ৫ফিট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই মডেল একের পর এক এ্যাওয়ার্ড পেয়ে জিতে নিজেকে নিয়ে যান সুপার মডেলদের তালিকায়। ২০০৭ সালে সবচেয়ে বেশি আবেদনময়ী মডেলদের শীর্ষ স্থান দখল করে ‘এন এম ই’ এ্যাওয়ার্ড জিতে নেন। একই বছরে ‘সানডি টাইমস্ রিচ লিস্ট’ এ ব্রিটিশ মডেল হিসেবে নিজের নাম লিখান তিনি। ব্রিটেনের ৯৯ জন ধনী মহিলাদের একজন বনে যান। তার নিট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০০৭ সালটি তার জন্য আশীর্বাদ রূপে ধরা দেয়। তার আয়ের ধারাবাহিকতায় ‘ফরবস্’ ম্যাগাজিনের জরিপে সবচেয়ে বেশি উপার্জনক্ষম ১৫ জন নারী মডেলদের তালিকায় নিজের নাম লেখান।

তিনি যতটুকু আলোচিত হয়েছেন তার মডেলিং ক্যারিয়ার নিয়ে তার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন পারসোনাল লাইফের আচরণ নিয়ে। ব্যক্তিগত উল্টাপাল্টা আচরণ ছাড়াও সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন ড্রাগ নিয়ে। কোকেন নিয়ে ধরা খেয়ে জেলের ঘানিও টানতে হয়েছে তাকে। শতকিছুর পরেও ক্যারিয়ারের ব্যাপারে বেশ সচেতন তিনি। যে কারণে অটুট আছে তার মডেলিং ক্যারিয়ার। ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হয়েছেন বহু নামী দামী ফ্যাশন হাউজের। তার মধ্যে গুচি, ডলসি এ্যান্ড গাব্বানা, কেলভিন ক্লেইন, চ্যানেল, রিমেল অন্যতম। কাজ করেছেন ওয়ার্ল্ড ফেমাস ফটোগ্রাফারদের সঙ্গে যেমন মারিও টেস্টিনো, স্টিভেন ক্লেইন, মারিও সোরেনটি, জুয়েরগেন টেলরসহ আরও অনেকে। ত্রিশবারেরও বেশি প্রচ্ছদ কন্যা হয়েছেন ব্রিটিশ ভোগ এর। নিন্দুকের সব কথায় ছাই দিয়ে এখনও তিনি শীর্ষস্থানে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। এখনও ফ্যাশন রাজ্যে এক আলোচিত মডেল কেট মস্।

ফ্যাশন ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

১৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: