কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আশায় বেঁধেছি জীবন

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • ক্যাম্পাস সংবাদ

‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই’...। মুখের গানটা যেন আজও প্রাণে বাজছে, কতদিন পর যে দেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই জীবন, সেই ক্যাম্পাস-ক্লাস-ব্যস্ততা-বন্ধুত্ব সব যেন ধরা দিয়েছে আবার নতুন করে। তবে টাইম মেশিনে চড়ে নয়, বাস্তবেই পুরনো দিনকে ফিরে পেয়েছিলেন আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চলতি শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের দিনটি ছিল অনেকটাই আগেবতাড়িত। এদিন স্মৃতিকাতর ছিল পুরো শ্যামলী খেলার মাঠ। এখানে-সেখানে সবাই স্মৃতিকে রোমন্থন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহিত পুরনো দিনের কথা মনে করতে করতে কেমন যেন হয়ে যান। বলেন, এখন ব্যাংকে চাকরি করি। পড়াশোনা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এক সময় ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধব, বড়-ছোট সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল, আড্ডা ছোট ছোট দুষ্টমি আর হৈ-হুল্লোড়ে পুরো ক্যাম্পাস মাতিয়ে রেখেছিলাম। সেই দিনগুলোকে মনে হয় আজ আবার ফেরত পেয়েছি। এমন কথাগুলো শুধু রাহিতের নয়। শ্যামলী মাঠে আসা প্রায় ২০০০ শিক্ষার্থীর মনের কথাগুলো ছিল প্রায় এমনই। কথাগুলো যেন ক্যাম্পাসের শত শত রাহিতের। এই যে ধরুন তানজিরা হিমির কথা। কতদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা। দুপুরে যে খাওয়া হয়নি সেদিকে খেয়ালই নেই তার। মাঠের মাঝখানে গোল আড্ডায় মশগুল বন্ধুদের সঙ্গে। বহুদিন পর দেখা হওয়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাটাই যেন মুখ্য হয়ে উঠেছে। রূপস, আকরাম সবারই একই অবস্থা। পুরনো বন্ধুত্ব আবার ঝালাই করে নেবার পর্ব চলছে যেন। গত শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আশা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ‘প্রাণ ফ্রুটো’র সৌজন্যে একটি পুনর্মিলন এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু“করে পরের ২৩ ব্যাচের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ডালিম চন্দ্র বর্মণ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শিক্ষার্থীরা যেন এদিন এক বয়সে মিলে গিয়েছিলেন। উপাচার্য ড. ডালিম চন্দ্র বর্মণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চলার পথে আমাদের নানা জায়গায় কাজ করতে হবে। তবে সবার শক্তি যেন সব অশুভকে ছাড়িয়ে যেতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত দশটা পর্যন্ত চলে টানা অনুষ্ঠান। রাফেল ড্র, আকস্মিক পুরস্কার, টকশো আর কনসার্টের মতো মন মাতানো আয়োজনও ছিল এখানে। তবে সবশেষে আগুন নিয়ে মজার ফায়ার কোর্সের কাজ সবার মনে ভয় ধরিয়ে দিলেও রোমাঞ্চটা ঠিকই সবাই উপভোগ করেছেন। রাতের আয়োজন শেষে আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে যার টানে হয়ত ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু মনে একটু আক্ষেপ ঠিকই ছিল, ইস! যদি আরেকটু ক্ষণ থাকা যেত, সখা। তবে মনে সান্ত¡না এটুকুই, আবার দেখা হবে। ‘এদেখাই শেষ দেখা নয়...’

জিয়াউর রহমান

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫

০৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: