রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কীর্তিমান দশ

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ॥ ৬৭ তে তারুণ্যের স্বাদ

৩১ অক্টোবর বিকেল ৪টা-১ মিনিট, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের একলা থাকার দিন শেষ হলো। কুমিল্লার চান্দিনার মীরখলা গ্রামের মরহুম হাবিব উল্লাহ মুন্সির ছোট মেয়ে রিক্তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। বয়সের দিক থেকে আলোচনায় আসেন মুজিবুল হক। নিজে ৬৭ বছর বয়সে বিয়ে করেন ২৮ বছরের রিক্তাকে। দেশের পত্র-পত্রিকাগুলো ছাড়াও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বেশ মেতেই ছিল এই বিয়ে নিয়ে। বিয়ের জন্য অন্তত ছয়মাস পার করেছেন তিনি। খুব একটা কাজে মনযোগও দিতে পারেননি। বিয়েই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। প্রৌঢ় বয়সের (সরকারীভাবে সিনিয়র সিটিজেন) এ বিয়ে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদেও হয়েছে মুখরোচক আলোচনা। রেলমন্ত্রীকে রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও ইঞ্জিনে বগি লাগছে’। বিয়ের সংবাদ প্রচার হওয়ার পর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় কনে সম্পর্কে আগাম কিছু বলতে নারাজ ছিলেন মন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান হলো। তবে অনুষ্ঠানে পকেটমারের উপদ্রবও বেশ আনন্দ যুগিয়েছে। ঢাকা ও কুমিল্লা দু’দফা বৌ-ভাতের মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ছোট্ট পরিসরে হানিমুন করেছেন।

তারেক রহমান ॥ প্রলাপের বাদশা

সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ! কোন কোন ক্ষেত্রে হয়ত তাই। পড়াশোনা না করা ও বখে যাওয়ায় স্কুল থেকে বার বার বহিষ্কার। শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা তেমন একটা হয়নি। তাতে কি। তিনিই এখন স্ব ঘোষিত ইতিহাসবিদ! অনিয়ম, দুর্নীতি আর নানা অপরাধের কারণে অসংখ্য মামলার বোঝা, গ্রেফতারি পরোয়ানা আর সাজা মাথায় নিয়ে তারেক রহমান নাকি নির্বাসিত নেতা। অথচ দেশ ছাড়ার সময় আর রাজনীতি করবেন না এমন মুচলেকা দিয়েছিলেন। সেদিনের কথা হয়ত বেমালুম ভুলে গেছেন তিনি। তাই বিএনপির এই নেতা ক্ষণে ক্ষণে ইতিহাসের নতুন নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারেক রহমানের এসব বক্তব্যই প্রমাণ করছে বিএনপি এদেশের ইতিহাসকে কিভাবে কাটাছেঁড়া করেছে। কিভাবে বদলে দিতে চায় গোটা বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই বলছেন তিনি নাকি রাজাকার ছিলেন।

বছরব্যাপী ইতিহাস বিকৃতি আর মান্যব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থেকেছেন তিনি। নিজ দলের ভেতরেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। ইতিহাস বিকৃতিকারী এই নেতাকে ধিক্কার জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। সম্প্রতি বিএনপির এক আলোচনা সভায় তারেক দাবি করেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসার ঠিক আগে ইয়াহিয়া খানকে প্রেসিডেন্ট মেনে তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যদিও আজগুবি এই তথ্যের জনক তারেক রহমান।

তারেক রহমানের পচা মাথা থেকে আরও বের হয়, বঙ্গবন্ধু নাকি পাকবন্ধু ছিলেন। পাকবন্ধু থাকলে তিনি কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেন দেশ স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই বিশ্লেষণে অবশ্য যাননি এই আলালের ঘরের দুলাল। কয়েক মাস আগে আরেক সভায় নিজের বাবা জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলে দাবি করেন তারেক। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলেন তিনি। লন্ডনে তারেক রহমান বিএনপির এক আলোচনা সভায় আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারপর অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। এজন্য শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত।

একে খন্দকার-বার্ধক্যে ভীমরতি

‘ভেতরে বাইরে’ বই লিখে বছরজুড়ে আলোচিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক একে খন্দকার। তাঁর লেখা ইতিহাসবিষয়ক এই বই নিয়ে সংসদে তোলপাড় চলে। দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাংসদদের মতে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। জাতীয় সংসদে একে খন্দকারের বইটি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাংসদরা বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের টাকায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তিনি এই বই লিখেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রীর লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইটি প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, সব সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তিনি। এই সরকারের থেকেও সুবিধা নিয়ে তারপর এই বইটি লিখেছেন। অথচ বইটি লেখা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমি দুই-তিন শ’ বার বসেছি। তখন তাঁর মুখ থেকে এমন কথা শুনিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ ধরনের বই লিখে অন্যদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা বলেছিলেন। আমিসহ অনেকে সেদিন ছিলাম। আমার মঞ্চে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমরা তো শুনলাম না বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছিলেন। বই বিতর্ক নিয়ে একে খন্দকারকে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম থেকে বাদ দেয়া হয়। চাপের মুখে প্রকাশিত গ্রন্থটি বাজার থেকে উঠিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে কেন তিনি ইতিহাস বিকৃতি করে বই লিখেছেন? এর ব্যাখ্যা দেননি। বই নিয়ে সমালোচনা তৈরির পর সাবেক এই মন্ত্রী মিডিয়ার মুখোমুখিও হননি।

অসংযত বক্তব্য দিয়ে সমালোচনায় লতিফ সিদ্দিকী

বছরের শেষ দিকে প্রবাসে এক অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করে দেয়া বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা হয় মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে। তাঁর এই বক্তব্যের পর পরই উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদীগোষ্ঠী আন্দোলনের ডাক দেয়। হরতাল আহ্বান করে। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। হেফাজতে ইসলাম তাঁর ফাঁসির দাবি তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দল থেকে বাদ পড়তে হয় তাঁকে। দেশে ফেরার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা। আদালতের নির্দেশে শেষমেশ তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এই আলোচনার সূত্রপাত নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বক্তব্য থেকে।

এরশাদ ও রওশন-ঘরে বাইরে চেয়ারম্যান ও বিরোধী নেত্রী

হয়ত সব সময়েই আলোচনায় থাকতে ভালবাসেন সাবেক সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ। বিদায়ী বছরজুড়েই নানা ইস্যুতে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে তিনি বার বার আলোচনায় সামনের সারিতে আসতে চেষ্টা করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদও ছিলেন আলোচনায়। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে মত পাল্টান এরশাদ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে রাখে। সেখান থেকে চিঠি, ভিডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠাতেন। শেষ পর্যন্ত রওশনের নেতৃত্বে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনের পর হাসাপতাল থেকে বেরিয়ে শপথ গ্রহণ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এই সুযোগে বিরোধী দলের নেতা হন রওশন। পরবর্তীতে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ থেকে জাপা নেতাদের পদত্যাগ করার কথা বলে নিজ দলে অনেকটা তোপের মুখে পড়েন একাধিকবার। নির্দেশ অমান্য করায় দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করতে হয়। এরশাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করা, দলের শীর্ষ নেতাদের হাত করা, বার বার আহ্বানের পরেও এরশাদের কাছে মাথা নত না করাসহ দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্যকারী নেতাদের আগলে রাখাসহ নানা কারণে বছরজুড়েই এরশাদের পাশাপাশি রওশনও আলোচনায় ছিলেন।

মুসা বিন শমসের- ধনকুবের

রহস্যময় মানুষ তিনি। কত টাকা আছে তাঁর? এ নিয়ে আছে বিস্তর আলোচনা। ক্ষমতার দিক থেকে হাতও অনেক লম্বা। বিশাল ব্যবসায়ী। রাজসিক জীবনযাপন। নিজে সরাসরি রাজনীতি না করলেও বাংলাদেশের শীর্ষ অনেক নেতাই তাঁর নিকটাত্মীয়। বিশ্বের খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বহুবার আলোচিত হয়েছেন তিনি। নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী, বিশাল গাড়িবহর নিয়ে চলেন দেশের রহস্যময় পুরুষ মুসা বিন শমসের। বছরের শেষ দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে এসে আবারও আলোচনায় তিনি। তাঁর রাজকীয় জীবনচিত্রই সবার নজর কেড়েছে।

মজেনা অভিযানের সমাপ্তি

মজেনা অভিযানের সমাপ্তি

বিদায়ী বছরেও ব্যাপক আলোচিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দেশের ৬৪ জেলা চষে বেরিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক সঙ্কটে সরাসরি সব বিষয়েই ছড়ি ঘুরানোর চেষ্টা করেছেন এই কূটনীতিক। যখন ইচ্ছে যার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন। বৈঠক করেছেন। তাঁর কর্মকা-ে বিএনপিসহ ২০ দলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশের জিএসপি বাতিল হয়। এর পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল বলেও অনেকে মনে করেন। তবে তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতায় অনেকটাই বিরক্ত ছিল সরকার। আলোচনা আছে বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মার্কিন সরকার তাঁকে ডাকিয়ে নিয়েছিল। তখন রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, মজেনার কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করার।

ধর্মপুত্র ও পোষ্যপুত্র সমাচার

বছরের শুরু থেকেই আলোচনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অবৈধভাবে আসা কারি কারি স্বর্ণ ধরা পরায় এ আলোচনা। কিন্তু কারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত? এর হদিস মিলছিল না। অনুষন্ধানে গোয়েন্দা বিভাগকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্বর্ণ চোরচালানির সঙ্গে দেশী-বিদেশী আন্তর্জাতিক চোরচালানি চক্র জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

এরই ধারাবাহিকতায় স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ (ডিজিএম) ৫ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন বাংলাদেশ বিমানের (ডিজিএম) এমদাদ হোসেন, ক্যাপ্টেন আবু মোহাম্মদ আসলাম শহীদ, শিডিউল ইনচার্জ তোজাম্মেল হোসেন, উত্তরার ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হারুন অর রশিদ এবং বিমানের ঠিকাদার মাহমুদুল হক পলাশ। এদিকে একই অভিযোগে বিমান চেয়ারম্যানের ধর্মপুত্র পলাশ গ্রেফতার হওয়ার পর পালিয়েছে পোষ্যপুত্র ক্যাপ্টেন নজরুল শামীম। ডিবির তদন্ত দল পলাশ ছাড়া আরও দুই পোষ্যপুত্রের সন্ধান পেয়েছে। পুলিশ তাদের বাসায় হানা দিয়ে জানতে পারে- এদের একজন নজরুল শামীম আগেই চলে গেছেন কানাডা। মূলত পোষ্যপুত্র ও ধর্মপুত্র নিয়ে আলোচনা ছিল গোটা এয়ারপোর্টজুড়ে।

নূর হোসেন ও ফেরত হেফাজত কর্মী

নারায়নগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার প্রধান হোতা হিসেবে দেশজুড়ে আলোচিত ছিল নূর হোসেনের নাম। ব্যাপক নিরাপত্তা ও তল্লাশির মুখে দ্রুত ভারতে পাড়ি দেন নূর। এ নিয়ে সব মহলে বিতর্কের শেষ নেই। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুলসহ অপহরণের পর সাতজনকে হত্যাকরে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে র‌্যাবকে দিয়ে নূর এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রমাণ মেলে। অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আইনশঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন নূর। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতের ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নিখোঁজ এক মাদ্রাসা ছাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই ছাত্র মারা গেছে ভেবে তার পরিবার গায়েবি জানাজা, কুলখানিসহ সব ধরনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিল। ১৯ ডিসেম্বর বুধবার রাতে আল ফারুক (১৬) নামের ওই ছাত্রকে চট্টগ্রাম নগরীর চকাবাজার মিছকিন শাহ মাজার থেকে উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফারুককে তার মামার হেফাজতে দেয়া হয়। নিখোঁজের ১৯ মাস পর আল ফারুককে উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবারেও স্বস্তি ফিরে আসে। তাঁর এই গুম হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: