কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫
  • নিখিল মানখিন

স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য বিষয়ক সহস্রাব্দ অর্জনেও দেশের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। এমন মজবুত অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাত্রার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ ভাগ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। দেশে অনুর্ধ ১২ মাস বয়সের শিশুদের সকল টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ ভাগ। বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান সারাবিশ্বের অনুকরণীয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি (এইচপিএন) খাতের বিদ্যমান বাধাসমূহ দূর করে এই কর্মসূচীকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর উন্নয়ন কর্মসূচী (এইচপিএনএসডিপি) বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে বাস্তায়িত এইচপিএসপি (১৯৯৮-২০০৩) এবং এইচপিএনএসডিপি (২০০৩-২০১১) এর লব্ধ অভিজ্ঞতা, সরকারের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, রূপকল্প-২০২১ এবং স্বাস্থ্যনীতির আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তৃতীয় সেক্টর কর্মসূচী এইচপিএনএসডিপি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উপ-খাতসমূহের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হল জনগণের বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবা প্রাপ্তির চাহিদা বৃদ্ধি, কার্যকর সেবা প্রাপ্তি সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার হ্রাস এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জনকণ্ঠকে জানান, দেশব্যাপী একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে দেয়া হয়েছে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ। রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। আর চালু করা হয়েছে ই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম। স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের স্তরগুলো উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, টারসিয়ারি ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং উভয়মুখী রেফারেন্স পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি। যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোকে কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মজবুত অবকাঠামো। স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করছে বর্তমান সরকার। আর সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সরকার সব সময় আন্তরিক। তিনি আরও জানান, দেশের সাধারণ মানুষ আজ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলদেশ এখন আর শুধু সেøাগান নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর সুবিধা পৌঁছে গেছে। দেশের সকল পর্যায়ের হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন নতুন জেনারেল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। সরকার নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ এবং নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে। আর ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি বিভাগেই বাড়ানো হয়েছে জনবল। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিকল্পিত পরিবার নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জীবনমান সহায়ক নানামুখী সেবা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতিসংঘের মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্ব কৌশলপত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী মা ও শিশুর নিবিড় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের ‘কমিশন অন ইনফরমেশন এ্যান্ড এ্যাকাউন্টেবিলিটি অন উইমেন’স এ্যান্ড চিল্ড্রেন’স হেলথ’-এর ১১টি সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই ইলেক্ট্রনিক নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের নিম্ন হার বজায় রয়েছে। শতকরা ৪৫ ভাগ এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ এআরভি পাচ্ছে। ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পাচ্ছে এবং ৮০ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত চালু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৫৬টি। রোগী শয্যা সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৮০টি। উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে ৪৩৬টি হাসপাতাল। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩১টি হাসপাতাল ও ১ হাজার ৩৬২টি আউটডোর ক্লিনিক রয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে ১২ হাজার ৫২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১৪ হাজার ৪৮২টি। দেশের ৯৯ ভাগ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে শিশু ও মহিলাই বেশি।

মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস

স্বাস্থ্যবিষয়ক সহস্রাব্দ অর্জনে বাংলাদেশের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অনুর্ধ ৫ শিশুর কম ওজন হার ১৯৯০ সালের ৬৬ ভাগের তুলনায় হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ৩৬.৪ ভাগে নেমে এসেছে। অনুর্ধ ৫ শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৭১ ভাগ কমে এমডিজি ৪ অর্জিত হয়েছে। আইএমসিআই কর্মসূচীর আওতায় ৫৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ১৯ লাখ ৬৫ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা দিয়েছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণকারীদের সংখ্যাই বেশি। এক্ষেত্রে সরকারী প্রতিষ্ঠানে ৬৭ ভাগ এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৩৭ ভাগ।

পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ

অবশেষে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ । ভারতের মুম্বাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা নাজ গত মে মাসে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের গবর্নর কে. শংকরনারায়ণন-এর কাছ থেকে এ সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক

পুরোদমে এগিয়ে চলছে স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম। মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। গ্রাম এলাকার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সব পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪১৮টি উপজেলা হাসপাতালে ইতোমধ্যে একটি করে মোবাইল ফোন দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৮শ’টি স্বাস্থ্য প্রতিস্থান কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা সিভিল সার্জনের অফিসে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন সুবিধা। স্বাস্থ্যসেবায় থাকছে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম এবং কম্পিউটারাইজড অটোমেশন ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ নিতে পারছে সাধারণ মানুষ। মোবাইল ফোনের নম্বর স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েব সাইটেও নম্বরগুলো দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কোন না কোন চিকিৎসক এই মোবাইল ফোনের কল রিসিভ করবেন। একটি মাত্র কল করেই ব্যস্ত মানুষেরাও রোগের শুরুতেই পরামর্শ নিতে পারেন চিকিৎসকের। এতে রোগ জটিল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। এভাবে ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৮শ’টি স্বাস্থ্য প্রতিস্থান কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে এমন কোন সরকারী হাসপাতাল নেই, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এতে তথ্য আদান-প্রদান ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় স্বাস্থ্যসেবার মানের গুণগত উন্নতি ঘটছে। অনলাইন ডাটাবেজসহ ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তথ্য পাওয়ায় দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণভাবে প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দৈনিক কমপক্ষে চারবার ইমেইল চেক করে থাকে।

প্রতিটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা সিভিল সার্জনের অফিসে ওয়েব ক্যামেরা প্রদান করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠান বা মতবিনিময় করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এখন একটি বিশেষ সফটওয়ার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দিয়ে একই সঙ্গে ২৫ জন ভিডিও কনফারেন্সিং করা যাবে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে দেশে থ্রি জি টেলিফোন সেবা চালু হবে। ইতোমধ্যে ভিডিও ফোন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: