কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রিয়ার প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

বিটিভির জন্য নির্মাণ হচ্ছিল নাটক চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা। সেখানে সুযোগ পেয়ে যান রিয়া। এরপর বিটিভির জন্যই নির্মিত আরেকটি নাটকে কাজ করেন সেটির নাম ছিল ‘চিড়িয়াবাস’। এরপর প্রচুর নাটকে কাজ করেছেন তিনি। ২০০১ সালে বেশ কয়েকটি মানসম্মত পণ্যের মডেল হন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে মনচেরি মিল্ক ক্যান্ডি, স্টারশিপ জুস, ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী, তাসমেরি মজার চানাচুরসহ অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্র। ‘সুইট ড্রিম’র বিলবোর্ডের মডেল হয়ে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে হয়েছিলেন সেরা র‌্যাম্প মডেল। ২০০৮ এ আরটিভি তে প্রচারিত হয়েছিল তাঁর দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘নাইওরী’। ২০১৩-তে মুক্তি পেয়েছে ধীমন বড়ুয়ার ‘এই মন জুড়ে’। ২০১৪-তে মুক্তি পেয়েছিল রিয়া অভিনীত সিনেমা ‘খেলা’। কয়েক বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল রিয়ার ‘মিডনাইট ইন গুলশান’ সিনেমাটি। ধীমন বড়ুয়ার পরিচানায় এতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন নায়ক বিজন শেখ। শেখ দিদার খানের পরিচালনায় এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে ছিলেন নায়ক রুবেল এবং কলকাতার হিরো নিলয়। বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে পাঁচটি চলচ্চিত্রের কাজ। এর মধ্যে রয়েছে ‘আমি যে শুধুই তোমার’ এবং ‘জানে মন জানে’সহ আরও তিনটি সিনেমা। তবে আমাদের সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি রিয়া খুব একটা সন্তুষ্ট নন। পাশের ইন্ডাস্ট্রি কলকাতায় এত ভাল ভাল সিনেমা হচ্ছে অথচ আমরা পারছি না। কাছাকাছি বাজেটে আমাদেরও কিছু সিনেমা হচ্ছে কিন্তু মান ঠিকঠাক হচ্ছে না। বিশেষ করে ডিজাইন এবং পোশাক পরিকল্পনায় ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে আমাদের।’

সালমান খানের অভিনয়ের ভক্ত এই নায়িকা। আমাদের দেশের প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের অভিনয় ভাল লাগত তাঁর। বর্তমানে মোশাররফ করিমের অভিনয় দুর্দান্ত বলে মনে করেন তিনি। অভিনেত্রী ববিতার অভিনয়ের ভীষণ ভক্ত তিনি। বলিউডের পরিচালক মধুর ভা-ারেকারের সব সিনেমাই তাঁর প্রিয়। ভান্ডারেকারের ‘ফ্যাশন’ ‘ট্রাফিক সিগন্যাল’ ‘হিরোইন’ সবই তাঁর ভীষণ প্রিয়। সানামপুরীর গান শুনতে তাঁর খুবই ভাল লাগে।

বড় হয়েছেন পুরোন ঢাকায়। ছোটবেলায় স্কুলে যখন সবাই তাঁকে চিনত সেটা বেশ এনজয় করতেন তিনি। স্কুলের শিক্ষকরা অনেক সাপোর্ট করতেন তাঁকে। পরিবারের মধ্যে বাবা-মা দু’জনেই সাপোর্ট দিয়েছেন। মা রিনা চৌধুরী নিজেও একজন চিত্রনাট্যকার। এনআইএফটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একটু চুজি টাইপের। খুবই বেছে বেছে চিত্রনাট্য পড়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে অনেকেই তাঁকে অহংকারী মনে করেন। তবে কেন রিয়া মিডিয়া ছেড়ে চলে গেলেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তীব্র হতাশাই ব্যক্ত করলেন। কিছু মানুষ হঠাৎ করেই কোন কারণ ছাড়াই তাঁর পেছনে লেগেছিল। কিছু বিনোদন সাংবাদিক উঠে পড়ে লেগেছিল তাঁকে নিয়ে বাজে এবং মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনে। হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন তবে হাল ছাড়েননি রিয়া। আবার ফিরে এসেছেন ২০০৮-এ। সেটা শুধু মায়ের জন্য। মায়ের খুব ইচ্ছে মেয়ে কিছু ভাল ভাল সিনেমায় অভিনয় করবে। কিছু ভাল আর্ট ফিল্মে অভিনয় করার ইচ্ছে আছে রিয়ার। চার ভাইবোনের পরিবারে রিয়া মেজ। বাবা প্রয়াত হয়েছে ২০১৩-তে। ফ্যামিলির সাপোর্ট না পেলে এই পর্যন্ত আসাই হতো না রিয়ার। অবসরে প্রচুর টিভি দেখেন তিনি। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রকৃতি দেখতে ও তাঁর ভাল লাগে। বেড়াতে ভালবাসেন। সময় পেলেই বেড়াতে এশিয়ার নানান দেশে চলে যান। পছন্দের জায়গা মালয়েশিয়া। সেটা অবশ্য রিয়ার সেকেন্ড হোম।

কোন দিন চলচ্চিত্র পরিচালনা করবেন কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ দৃঢ় প্রত্যয়ী উত্তর রিয়ার। ‘আমি পরিচালনা করতে চাই তবে একটু সময় নিয়ে। প্রথমে যে সিনেমা বানাবো সেটা অবশ্যই হবে ‘আশিকী টু’র মতো। ক্যারিয়ার নিয়ে কি ভাবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘বেশি না, হয়ত দশটা ভাল সিনেমায় অভিনয় করব এরপর আর হয়ত অভিনয়ই করব না। দর্শকই আসলে ঠিক করবে। তাঁরা পছন্দ করলে কাজ করব, নইলে আর অভিনয় নয়।’ সব কিছু মিলিয়ে ভাল কিছু করার প্রত্যয়ই ঝরে পড়ল রিয়ার কণ্ঠে। এখন শুধুই অভিনয় নিয়ে ভাবতে চান। তবে, হ্যাঁ সেটা অবশ্যই হতে হবে চলচ্চিত্রে। নাটকে আপাতত অভিনয়ের কথা ভাবছেন না তিনি। দর্শক তাঁকে মনে রাখলেই সেটাকেই একজন অভিনেত্রীর সার্থকতা বলে মানেন তিনি।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: