কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অষ্টমে বেড়েছে পাসের হার

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • জেএসসি-জেডিসিতে সাফল্য ৯.৪১%
  • জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৫৬,২৩৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জেএসসি ও সমমানের জেডিসি পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯০ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। যদিও পরীক্ষায় ফলে অন্য সকল সূচকেই ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেএসসিতে ৮৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন জেডিসিতে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫ জন। গত বছর পেয়েছিল এক লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন। এবারের জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে জেএসসিতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ এবং জেডিসিতে পেয়েছে ১৯ হাজার ২৯০ জন। রেওয়াজ অনুযায়ী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মঙ্গলবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ পাবলিক পরীক্ষার ফলের অনুলিপি তুলে দেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এ সময় শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এ বছরের ফলের মান বৃদ্ধির সূচকে বেশকিছু ইতিবাচক লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। এর পেছনে মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে সঠিক সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেয়া, টেলিভিশনে দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান প্রচার, নকলবিরোধী ব্যাপক প্রচারসহ নকল প্রতিরোধে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাবহার অন্যতম। আটটি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৭১ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। যা গত বছর ছিল ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০ জন। এবার এই দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩২ জন। গত বছর জেএসসিতে ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জেডিসিতে ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। ২০১২ সালে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১১ সালে ছিল ৮৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০১০ সালে পাসের ছিল ৭৩ দশমিক চার শতাংশ। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৯৩১ জন। উর্ত্তীণ হয়েছে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৭ জন। আট বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে যা ছিল ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। আট বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ জন এবং গত বছর ছিল এক লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ জন।

ফল জানা যাচ্ছে যেভাবে ॥ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট (িি.িবফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ) ছাড়াও নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে জেএসসি- জেডিসির ফল জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইলফোনেও ফল জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল ঠিকানায়ও ফল পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

যে কোন মোবাইল থেকে ঔঝঈ/ঔউঈ লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৪ লিখে এসএমএস করলে ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বোর্ডভিত্তিক ফল ॥ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার ৫৩৯ ছাত্রছাত্রী। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে চার লাখ ৮২ হাজার ৭৬৮ পরীক্ষার্থী। পাসের ৮৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ হাজার ১৮৮ জন পরীক্ষার্থী।

রাজশাহী বোর্ড ॥ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ৫১৩ ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ১৩০ পরীক্ষার্থী। পাসের ৯৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জন।

কুমিল্লা বোর্ড ॥ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল দুই লাখ ২৩ হাজার ৩৯৮ ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার ৪৪৬ পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কুমিল্লা বোর্ড থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ২৬৪ ছাত্রছাত্রী।

যশোর বোর্ড ॥ এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৪ ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৯ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। যশোর বোর্ড থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৬৮৫ ছাত্রছাত্রী।

চট্রগ্রাম বোর্ড ॥ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৫০ হাজার ৬১৭ ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ২৬ হাজার ৯৫৩ পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৪৮৭ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বোর্ড ॥ এ বোর্ড থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৬ হাজার ৪৬৮ ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৪ হাজার ৪৬৬ জন। বরিশাল বোর্ডের গড় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৮৫ ছাত্রছাত্রী।

সিলেট বোর্ড ॥ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৯ হাজার ৪৮৫ ছাত্রছাত্রী। উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ২৫৫ ছাত্রছাত্রী। গড় পাসের হার ৯১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সিলেট বোর্ড থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ১০ ছাত্রছাত্রী।

দিনাজপুর বোর্ড ॥ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৯৫ হাজার ১২৭ ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮১০ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ১০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৪২০ শিক্ষার্থী।

মাদ্রাসা বোর্ড ॥ জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তিন লাখ ১১ হাজার ৫৪০ ছাত্রছাত্রী। উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ পরীক্ষার্থী। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ড থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ২৯০ পরীক্ষার্থী।

বিদেশী কেন্দ্র ॥ বিদেশের সাতটি কেন্দ্র থেকে এবার মোট ৫০১ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে হয়েছে ৪৯৭ পরীক্ষার্থী। পাসের হার ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৮ জন।

শূন্য পাস ও শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ॥ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এবার আট হাজার ৮৮৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, গত বছর এ সংখ্যা ছিল চার হাজার ৯৯৭টি। শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কমেছে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার ৪৯টি স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে কোন পরীক্ষার্থী পাস করেনি। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭টি।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: